ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আবারও বাড়লো তেলের দাম, জানুন নতুন মুল্য তালিকা

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৭:২৭:৩৫
আবারও বাড়লো তেলের দাম, জানুন নতুন মুল্য তালিকা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলা এবং সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের দামে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। খবর ইউরোনিউজের।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দামও বেড়েছে। অক্টোবর সরবরাহের জন্য ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০২ ডলার ব্যারেলে পৌঁছায়। ব্রেন্টের অক্টোবর ও নভেম্বর সরবরাহের চুক্তির দামও ৩ শতাংশের বেশি বাড়ে। ফলে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া তেলের বাজারের ঊর্ধ্বগতি নতুন সপ্তাহেও অব্যাহত রয়েছে।

বিকল্প পথও বন্ধ সৌদিতে

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দেশটির অভ্যন্তর থেকে লোহিত সাগরের বন্দর পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেয়। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই তেল পরিবহনের সুযোগ থাকায় এই পাইপলাইনটি বিকল্প সরবরাহপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু ড্রোন হামলার পর সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে হরমুজ এড়িয়ে তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথটিও বর্তমানে কার্যত অচল।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।

অনুমতি ছাড়া হরমুজে চলাচলে হামলার ঝুঁকি

যুদ্ধ শুরুর পর প্রণালিটির পরিস্থিতিও আগের মতো নেই। বর্তমানে হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হচ্ছে। তেহরান আবার এই নৌপথ ব্যবহারের বিনিময়ে সেবা ফি নেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে।

ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচল করা জাহাজগুলো হামলার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও সময়ে সময়ে দেশটির উপকূলে হামলা চালাচ্ছে।

ফলে তেল পরিবহনের এই পথ ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি অনিশ্চয়তা, যার প্রভাব সরাসরি বিশ্ববাজারের সরবরাহ পরিস্থিতিতে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও চাপ

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়েছে। শুক্রবার দেশটিতে ডিজেলের জাতীয় গড় মূল্য প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের সীমা অতিক্রম করে।

এর এক সপ্তাহ আগে ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। এক বছর আগে একই জ্বালানির গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার।

পেট্রলের গড় মূল্যও বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছেছে।

ডিজেল সংকটের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন। রবিবার আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তাকে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে দিন, কিন্তু ডিজেল জ্বালানিতে নয়। কারণ এতে ডিজেলের সংকট তৈরি হচ্ছে।’

চলতি গ্রীষ্মে ইউক্রেন রাশিয়ার ২০টির বেশি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার পর মস্কো ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।

কোন সংকটে সরবরাহ বেশি ব্যাহত হচ্ছে

তবে জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশ্লেষকেরা হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থাকেই তুলনামূলক বড় কারণ হিসেবে দেখছেন।

লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ কমেছে। বিপরীতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকটের ফলে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

অর্থাৎ, দুটি সংকটের মধ্যে দৈনিক সরবরাহে হরমুজ-সংক্রান্ত ব্যাঘাতের পরিমাণ বেশি।

শোধনাগার বন্ধ হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে

সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরির আরেকটি কারণ হলো তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল দৈনিক সক্ষমতার তেল শোধনাগার বন্ধ রয়েছে।

একদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে সৌদি আরবের বিকল্প পাইপলাইন বন্ধ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে শোধনাগার বন্ধ থাকার ঘটনা—সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ