ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

ম্যাক অ্যালিস্টার-গাকপো-সোবোস্লাইয়ের গোলে টটেনহ্যামকে হারাল লিভারপুল

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১০:৫৬:১৬
ম্যাক অ্যালিস্টার-গাকপো-সোবোস্লাইয়ের গোলে টটেনহ্যামকে হারাল লিভারপুল

অ্যানফিল্ডে বৃষ্টিভেজা রাতে টটেনহ্যাম হটস্পারের প্রতিরোধ ভেঙে লিগ কাপের চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেছে লিভারপুল। ম্যাচে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। লিভারপুলের হয়ে গোল করেছেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, কোডি গাকপো ও ডমিনিক সোবোস্লাই। টটেনহ্যামের একমাত্র গোলটি করেন কনর গ্যালাঘার।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য টটেনহ্যামই বেশি সক্রিয় ছিল। মাঝমাঠের লড়াইয়ে তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং লিভারপুলকে নিজেদের অর্ধে ব্যস্ত রাখে। ১১ মিনিটে লুকাস বের্গভালকে গোল থেকে বঞ্চিত করেন গোলরক্ষক জিওর্গি মামারদাশভিলি। কাছ থেকে বের্গভালের শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি।

ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে লিভারপুল

২১ মিনিটে ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। গাকপোর পাস থেকে রিও এনগুমোহা বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে নিচু ক্রস দেন। সেটি ডিফ্লেক্ট হয়ে পৌঁছে যায় ম্যাক অ্যালিস্টারের কাছে। বক্সের প্রান্ত থেকে দারুণ এক শটে টটেনহ্যামের গোলরক্ষক মার্টিন দুব্রাভকাকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল।

গোল খাওয়ার পর টটেনহ্যামের আক্রমণের ধার কিছুটা কমে যায়। তবে প্রথমার্ধে তাদের সুযোগ ছিল। ৩২ মিনিটে উদোগির নিচু ক্রস থেকে ছয় গজ দূরত্বে সুযোগ পেয়েও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি মোহাম্মদ কুদুস। তাঁর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানেই। বিরতির আগে দুই দলের গোলরক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন।

বিরতির পর গাকপোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই লিভারপুল চাপ ধরে রাখে। ৫৪ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন কোডি গাকপো। ডান দিক থেকে এনগুমোহা ভেতরে ঢুকে কেরকেজকে বল দেন। কেরকেজের কাছ থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের মাধ্যমে বল পৌঁছায় গাকপোর কাছে। বক্সের বাঁ দিক থেকে ভেতরে এসে জোরালো শটে গোল করেন তিনি।

এরপর টটেনহ্যাম ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে। ৬১ মিনিটে ওমর মারমুশ কয়েকজন লিভারপুল খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বল দেন কুদুসকে। নিচু শট নিলেও মামারদাশভিলি সেটি ঠেকিয়ে দেন।

গ্যালাঘারের গোলে টটেনহ্যামের আশা

৬৯ মিনিটে টটেনহ্যাম একটি গোল শোধ করে। বাম দিক থেকে মারমুশের নেওয়া কর্নারে মামারদাশভিলি বল ধরতে গিয়ে ব্যর্থ হন। সেই সুযোগে মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে হেড করে গোল করেন কনর গ্যালাঘার। স্কোরলাইন তখন ২-১।

গোলের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। টটেনহ্যাম আক্রমণে চাপ তৈরি করতে থাকে এবং শেষ ১৫ মিনিটে বলের দখলেও তারা এগিয়ে ছিল। ৭৭ মিনিটের সময়ে ওই সময়পর্বে স্পার্সের পজেশন ছিল ৬১ শতাংশ।

৮৫ মিনিটে টটেনহ্যামের একটি আক্রমণ থেকে আবার বিপদ তৈরি হয়। বাম দিক থেকে আসা বল ডিফ্লেক্ট হয়ে গোলের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু মামারদাশভিলি দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় সেটি কর্নারের জন্য সরিয়ে দেন।

সোবোস্লাইয়ের দুর্দান্ত গোলে নিশ্চিত হয় জয়

ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে লিভারপুলের জয় নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। ৯০ মিনিটে আরও চার মিনিট যোগ করা হয়।

৯০+১ মিনিটে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটান ডমিনিক সোবোস্লাই। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁকানো এক দুর্দান্ত শটে টটেনহ্যামের গোলরক্ষক দুব্রাভকার নাগালের বাইরে বল পাঠিয়ে দেন তিনি। বল গিয়ে জালে জড়ালে লিভারপুলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে।

শেষ বাঁশি বাজার পর লিভারপুল উঠে যায় লিগ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে। অন্যদিকে টটেনহ্যামের লিগ কাপে প্রথম শিরোপার অপেক্ষা ২০০৮ সালের পরও অব্যাহত থাকল।

ম্যাচের পর দুই কোচের বক্তব্য

টটেনহ্যামের কোচ রবার্তো দে জেরবি পরাজয়ের পর বলেন, তাঁর দল যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করেছিল এবং ম্যাচটি হারার মতো ছিল না। তিনি স্বীকার করেন, দ্বিতীয় গোলের সময় আর্চি গ্রেকে গাকপোর কাছাকাছি থাকা উচিত ছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, দলটি নতুন একটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে এবং তিনি খেলোয়াড় ও ক্লাবের ওপর বিশ্বাস রাখছেন।

লিভারপুলের কোচ আন্দোনি ইরাওলা দলের পারফরম্যান্সে খেলোয়াড়দের শক্তি ও তীব্রতার প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, একাধিক প্রতিযোগিতায় খেলতে হলে দলের কাছে যত বেশি বিকল্প থাকবে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও তত বাড়বে।

গাকপোও দলের তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণরা প্রয়োজনীয় শক্তি দিয়েছে, উচ্চ মাঠে বল পুনরুদ্ধার করেছে এবং নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত হতে পারে। ম্যাচসেরা নির্বাচিত লুইস কোমাসও জানান, অনুশীলনে শেখা বিষয়গুলো মাঠে প্রয়োগ করার চেষ্টা তারা করেছে।

ম্যাচের পরিসংখ্যান

ম্যাচে বলের দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল টটেনহ্যাম—৫৬ শতাংশ। লিভারপুলের পজেশন ছিল ৪৪ শতাংশ। গোলের জন্য লিভারপুল ১২টি এবং টটেনহ্যাম ১৭টি শট নেয়।

শেষ পর্যন্ত সুযোগ ও চাপের লড়াই পেরিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতে লিগ কাপের পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় লিভারপুল। অন্যদিকে টটেনহ্যামকে বিদায় নিতে হয় চতুর্থ রাউন্ডের আগেই।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ