ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফোন জব্দের পর আদালতে ধাক্কা, এবার আইসিসির দ্বারস্থ রিজওয়ান

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৭:৩১:৩২
ফোন জব্দের পর আদালতে ধাক্কা, এবার আইসিসির দ্বারস্থ রিজওয়ান

পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের মোবাইল ফোন জব্দ এবং সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (NCCIA) নোটিশ ও ফোন জব্দের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন রিজওয়ান। তবে বৃহস্পতিবার আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের (Anti-Corruption Unit) দ্বারস্থ হয়েছেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার।

ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরের সময়। টেস্ট সিরিজ চলাকালে দলের ড্রেসিংরুমের কিছু তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তে নামে NCCIA। তদন্তের অংশ হিসেবে রিজওয়ান ও পাকিস্তানের টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

চলতি মাসের শুরুতে দুজনকেই লাহোরের NCCIA কার্যালয়ে হাজির হতে হয়েছিল। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচ চলাকালে তারা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন—এসব বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

NCCIA অনলাইন বেটিং ও জুয়া সংক্রান্ত বিষয়ও তদন্ত করে থাকে। জিও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমামের জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে এই বিষয়টিও যুক্ত ছিল। ইংল্যান্ডে অবস্থানের সময় তাদের যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়।

তবে NCCIA-এর নোটিশ নিয়ে আপত্তি ছিল রিজওয়ানের। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে তদন্তের কথা উল্লেখ থাকলেও তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা বলা হয়নি। NCCIA কার্যালয়ে হাজির হওয়ার পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলেও তার দাবি, তাকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এই কারণেই লাহোর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রিজওয়ান। শুনানির সময় তার আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে শুনানির একপর্যায়ে আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি আলিয়া নিলম। শেষ পর্যন্ত রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেন লাহোর হাইকোর্ট।

আদালতে আইনি প্রক্রিয়া সফল না হওয়ায় এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্নীতিবিরোধী কাঠামোর মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাইছেন রিজওয়ান। তিনি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে জানতে চেয়েছেন, তার ফোন জব্দ করার বিষয়ে আইসিসি অথবা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) কিছু জানত কি না।

শুধু জব্দের বিষয় নয়, ফোনটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া এবং পরে সেটির ফরেনসিক পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও আইসিসির কাছে জানতে চেয়েছেন রিজওয়ান। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়। বরং পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, সেটিই জানতে চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এখন তার করণীয় কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আইসিসির দিকনির্দেশনাও চেয়েছেন।

ফোন জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) হেফাজতে ছিল। পরে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফোনটি হস্তান্তর করা হয়। চলমান তদন্তের কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি PCB।

এদিকে এই ঘটনার সময়ের কাছাকাছি পাকিস্তানের টেস্ট দলে বড় পরিবর্তনও আসে। লর্ডসে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ মোট সাতজনকে টেস্ট স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ফলে রিজওয়ানের ফোন জব্দ, NCCIA-এর তদন্ত, লাহোর হাইকোর্টে আইনি লড়াই এবং পরে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাগুলো এখন একই সূত্রে আলোচনায় এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের বিষয়ে নোটিশে উল্লেখ ছিল না—এমন দাবিই আদালতে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ