মাস্টার্স থাকলেই ইতালিতে পিএইচডির আবেদন, জানুন শর্ত
ইতালির ইউনিভার্সিটি অব কাগলিয়ারিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডি করার সুযোগ এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৪৯টি পিএইচডি আসনের মধ্যে ১২৮টিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে রয়েছে ১৯টি বৃত্তি। তবে বিদেশি প্রার্থীদের আবেদন কেবল এসব সংরক্ষিত আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁরা সাধারণ বৃত্তির আসনেও প্রতিযোগিতা করতে পারবেন।
এই পিএইচডি কার্যক্রমে গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্র রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ও গভীর প্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি এবং পরিচ্ছন্ন ও সম্পদ সাশ্রয়ী প্রযুক্তিকে ঘিরে গবেষণায় উৎসাহ দিতে বৃত্তির একটি বড় অংশ বরাদ্দ করা হচ্ছে।
আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
বৃত্তি পেলে কত অর্থ মিলবে
নির্বাচিত গবেষককে বছরে ১৬ হাজার ২৪৩ ইউরো দেওয়া হবে। অর্থ এককালীন নয়, মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। ভালো অগ্রগতির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই আর্থিক সহায়তা তিন বছর পর্যন্ত চালু থাকবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশে পড়াশোনা বা গবেষণার প্রয়োজন হলে বৃত্তির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
আরেকটি সুবিধা হলো, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ভর্তি ও শিক্ষা ফি দিতে হবে না। তবে বৃত্তিকে সম্পূর্ণ খরচমুক্ত সুবিধা হিসেবে ধরা যাবে না। ভর্তির সময় ১৬ ইউরো স্ট্যাম্প শুল্ক এবং প্রতি বছর ১৪০ ইউরো আঞ্চলিক শিক্ষা কর দিতে হতে পারে।
এর বাইরে জীবনযাপন, যাতায়াত, আবাসন এবং ভিসা সংক্রান্ত ব্যয় বৃত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
গবেষণার ক্ষেত্র বেশ বিস্তৃত
প্রযুক্তি ও প্রকৌশল থেকে শুরু করে চিকিৎসা, ব্যবসা, আইন, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পিএইচডির সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডেটা সায়েন্স, পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক ও কম্পিউটার প্রকৌশল, শিল্প প্রকৌশল, গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্থাপত্য।
চিকিৎসা ও জীবনবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রয়েছে মলিকিউলার ও ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন, নিউরোসায়েন্স, পার্সোনালাইজড মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য, জীবন, পরিবেশ ও ওষুধবিজ্ঞান এবং ভূ ও পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।
এ ছাড়া ইনোভেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, অর্থনীতি ও ব্যবসা এবং আইনবিজ্ঞানেও আবেদন করা যাবে। ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক অধ্যয়নও রয়েছে তালিকায়।
মানবিক ও ভাষাভিত্তিক গবেষণার মধ্যে দর্শন, জ্ঞানতত্ত্ব ও মানববিজ্ঞান এবং ভাষাতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি গবেষণা ও সামাজিক উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সক্ষমতা উন্নয়ন বিষয়েও পিএইচডির সুযোগ রয়েছে।
ডিগ্রি না পেলেও করা যাবে আবেদন
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স অথবা সমমানের দ্বিতীয় পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি থাকা প্রার্থীরা আবেদনের জন্য যোগ্য হতে পারেন। জাতীয়তার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
যাঁদের প্রয়োজনীয় ডিগ্রি এখনো সম্পন্ন হয়নি, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে ভর্তি নেওয়ার আগে এবং ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সেই ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
শুধু সাধারণ স্নাতক ডিগ্রি দিয়ে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একক ধারার এমন কোনো ডিগ্রি থাকলে, যা ইতালিতে প্রয়োজনীয় ডিগ্রির সমমান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, সেটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে আবেদন করার আগেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেওয়া সবসময় বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে। পিএইচডি ভর্তি প্রতিযোগিতার সময় সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি বিদেশি ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন করতে পারে।
বয়সের কোনো সীমা নেই
আবেদনকারীর বয়স নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়নি। প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার উপযোগিতা এবং নির্বাচনী পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।
যদি দুই প্রার্থী একই নম্বর পান, সেক্ষেত্রে বয়সে কম প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিদেশি প্রার্থীদের সুপারিশপত্রে বিশেষ নিয়ম
বিদেশি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে আবেদনকারীদের সুপারিশপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ছকে তৈরি করতে হবে।
এক্ষেত্রে আবেদনকারী নিজে সুপারিশপত্র আপলোড করতে পারবেন না। চিঠিটি সংশ্লিষ্ট সুপারিশকারীকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। আবেদনকারীর আপলোড করা সুপারিশপত্র গ্রহণ করা হবে না।
আবেদনে যেসব নথি প্রয়োজন
আবেদন সম্পন্ন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে পূরণ করা আবেদনপত্র, ডিগ্রি সনদ ও পূর্ণাঙ্গ নম্বরপত্র থাকতে হবে।
নম্বরপত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়, ফল, ক্রেডিট এবং গ্রেডিং পদ্ধতির তথ্য উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। বিদেশি শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে ইতালীয় অথবা ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ জমা দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে আরও দিতে হবে বৈধ পাসপোর্ট ও জীবনবৃত্তান্ত। গবেষণা প্রস্তাব, প্রাসঙ্গিক প্রকাশনা এবং সনদ বা গবেষণার অভিজ্ঞতার প্রমাণও প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিনটি একাডেমিক বা গবেষণা সুপারিশপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়ক কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
PICA পোর্টালেই আবেদন
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে ইউনিভার্সিটি অব কাগলিয়ারির পিএইচডি বিজ্ঞপ্তি এবং এর সঙ্গে থাকা সংযুক্তিগুলো পড়ে নিতে হবে। এরপর নির্বাচন পদ্ধতি, বৃত্তির আসন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং গবেষণার বিষয় যাচাই করে আবেদন করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে PICA আবেদন পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পিএইচডি প্রতিযোগিতা এবং আসনের ধরন বেছে নিয়ে অনলাইন ফরম পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিগুলো পিডিএফ আকারে সংযুক্ত করার পর আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদনের জন্য দিতে হবে ২৬.৮০ ইউরো ফি। এই অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। কেউ একাধিক পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে চাইলে প্রতিটির জন্য পৃথক আবেদন করতে হবে এবং প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে আলাদা ফি দিতে হবে।
অক্টোবরেই শুরু হবে মূল্যায়ন
১ থেকে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।
আন্তর্জাতিক প্রার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র এবং সাক্ষাৎকার বিবেচনা করা হবে।
সব মিলিয়ে আবেদনকারীদের জন্য প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হলো ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এর মধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদন করতে এখানেক্লিক করুন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- Redmi Note 17 Pro 5G: বড় ব্যাটারি ও আকর্ষণীয় ফিচার
- আপনার নামে কত জমি আছে? মোবাইলেই জানুন অনলাইনে
- আজকের আবহাওয়ার খবর: কোথায় গরম, কোথায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৮টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- জমির খতিয়ান অনলাইনে বের করার নিয়ম, ঘরে বসেই দেখুন
- OPPO Find X10 Pro Max: স্পেসিফিকেশন, দাম ও লঞ্চের তারিখ
- মোবাইলেই নিজের জমির দাগ নম্বর বের করার নিয়ম