Md Razib Ali
Senior Reporter
এইচএসসি ফল ২০২৬ কবে, জানা গেল প্রকাশের সম্ভাব্য সময়
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য এখন চলছে শেষ ধাপের প্রস্তুতি। ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে চলতি বছরের ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা অন্যদের তুলনায় পরে শেষ হলেও অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ করে ফল তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফল প্রকাশের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য সময়ের কথা জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তিনি বলেন, নভেম্বরের ৭ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে। এ জন্য ফল প্রস্তুতের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রাম বোর্ডে দেরি, বাড়ানো হয়েছে পরীক্ষকের সংখ্যা
এবার ফল তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ওই বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে আয়োজন করা যায়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হলে ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষ হতে দেরি হলেও ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময়সীমা ধরে রাখতে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দ্রুত ফল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং নির্ধারিত সম্ভাব্য সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২ জুলাই
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।
কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কিছু লিখিত পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় সার্বিক পরীক্ষার কার্যক্রমে ওই বোর্ডে কিছুটা সময় বেশি লাগে। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা শেষ করা হয়।
চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এখন দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
১১ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১২ লাখের বেশি
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়েছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তারা এসেছেন ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। পরীক্ষার্থীদের জন্য সারাদেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র নির্ধারিত ছিল।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে নয়টি বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। তাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯২ হাজার ৯০৫ জন। এই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন ৪৬১টি কেন্দ্রে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
ঢাকা বোর্ডে পরীক্ষার্থী সর্বাধিক
বোর্ডভিত্তিক হিসাবেও ঢাকার অবস্থান সবার ওপরে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ৩১০টি কেন্দ্রে।
পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় এরপর রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। সেখানে অংশ নেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন। যশোর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন এবং দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন।
অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা দেরিতে শেষ হলেও ফল প্রস্তুতের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বোর্ডগুলোর বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
FAQ
প্রশ্ন: ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের ফল কবে প্রকাশ হতে পারে?
উত্তর: ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন: এইচএসসি ফল প্রস্তুতের কাজ কি শুরু হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী ফল প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে চলমান।
প্রশ্ন: চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা দেরিতে কেন শেষ হয়েছে?
উত্তর: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থগিত পরীক্ষাগুলো পরে অনুষ্ঠিত হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।
প্রশ্ন: এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কতজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন?
উত্তর: ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
প্রশ্ন: কোন শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল?
উত্তর: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি, ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
আল-মামুন/