সামান্য ভুলেই আটকে যেতে পারে নতুন পে স্কেলের বেতন
নতুন পে স্কেলে বেতন নির্ধারণের আগে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হতে পারে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা। কারণ অনলাইন পে ফিক্সেশনের পুরো প্রক্রিয়ায় এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এসব জায়গায় অসামঞ্জস্য থাকলে যাচাইয়ের ধাপেই জটিলতা তৈরি হতে পারে।
নবম জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ এবার অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থায় সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে আইবাস++ সিস্টেমের মাধ্যমে। ফলে বেতন নির্ধারণের আগে ব্যক্তিগত তথ্য একাধিক নথিতে একই আছে কি না, সেটি মিলিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যের অমিল থাকলে আগে সেটি ঠিক করতে হবে
নতুন পে ফিক্সেশনের জন্য কোনো সরকারি কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে প্রথমে এনআইডির জন্য নিবন্ধন করতে হবে। আবার চাকরির রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখ এবং এনআইডিতে সংরক্ষিত জন্মতারিখ এক না হলে সরাসরি পে ফিক্সেশনে না গিয়ে আগে এনআইডির তথ্য সংশোধন করতে হবে।
একইভাবে আইবাস++-এ ব্যবহারের জন্য নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের তথ্যও সঠিক থাকা প্রয়োজন। কারণ অনলাইন ব্যবস্থায় পরিচয় যাচাইয়ের একটি ধাপ এই নম্বরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
অর্থাৎ পে ফিক্সেশন শুরু করার পর তথ্য সংশোধনের ঝামেলায় পড়ার বদলে সরকারি কর্মচারীদের আগে থেকেই এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ওটিপি হবে পরিচয় যাচাইয়ের অংশ
নন-গেজেটেড কর্মচারীদের আইবাস++ সিস্টেমে প্রবেশের জন্য এনআইডি নম্বর এবং জন্মতারিখ ব্যবহার করতে হবে। এরপর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি দিতে হবে।
এখানে কোনো তথ্য মিল না থাকলে অনলাইন যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পে ফিক্সেশনের আগেই সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো সঠিক আছে কি না নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিদেশে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। তাদের ক্ষেত্রে আইবাস++-এ নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায় ওটিপি পাঠানো হবে।
গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য প্রবেশ পদ্ধতি ভিন্ন
গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এনআইডি ও জন্মতারিখ দিয়ে প্রবেশের পরিবর্তে আইবাস++-এর নিজস্ব ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
সিস্টেমে ঢোকার পর নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে পে ফিক্সেশনের আবেদন করতে হবে। তবে আবেদনটি চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন সিস্টেমে দেখা যাবে।
তথ্য সাবমিশন সম্পন্ন হলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস পাঠানো হবে। এরপর আবেদনটি পরবর্তী যাচাইয়ের জন্য চলে যাবে ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার বা ডিডিওর কাছে।
যাচাই শেষে হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন
ডিডিওর দায়িত্ব থাকবে প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করে বেতন নির্ধারণী বিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো। এরপর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনলাইনে সেই তথ্য পরীক্ষা করবেন।
অনুমোদন পাওয়ার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে। সিস্টেম থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে একটি ভেরিফিকেশন নম্বর।
এই ব্যবস্থায় পে ফিক্সেশনের প্রতিটি পর্যায় অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে যাচাই ও অনুমোদন পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট ধারায় এগোবে।
ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের নিয়মেও পরিবর্তন
নতুন অনলাইন পদ্ধতিতে পে ফিক্সেশনের পুরো কার্যক্রমে আগের মতো ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। তবে কাজ শেষ হওয়ার পরও সার্ভিস বইয়ের বিষয়টি বাদ যাচ্ছে না।
সার্ভিস বইয়ে ভেরিফিকেশন নম্বর ও নির্ধারিত বেতন লিখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করতে হবে। গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অডিট রেজিস্টারের মানি কলামেও নির্ধারিত বেতন এবং ভেরিফিকেশন নম্বর লিপিবদ্ধ করার বিধান রয়েছে।
দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সবার জন্য অভিন্ন নিয়মে সম্পন্ন করতেই অনলাইন পে ফিক্সেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
এতে কাগজপত্রের ব্যবহার কমার পাশাপাশি তথ্য যাচাই এবং অনুমোদনের কাজও সহজ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থায় তথ্যের সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত তথ্য ভুল থাকলে বা বিভিন্ন নথিতে একই তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলে যাচাইয়ের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংশোধন করার পর পে ফিক্সেশন শেষ করতে হতে পারে। তাই নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সরকারি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে থাকছে।
নির্দেশিকা মিলবে যেসব জায়গায়
অনলাইন পে ফিক্সেশন সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা পাওয়া যাবে আইবাস++ লগইন পেজ, অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং নির্ধারিত পে ফিক্সেশন পোর্টালে।
সেখানে থাকা নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করে পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া যাবে।
তানভির ইসলাম/