ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি কেন আটকে, সামনে তিন বাধা

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৭:৩৫:০৪
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি কেন আটকে, সামনে তিন বাধা

অপেক্ষার সময় প্রায় তিন বছর ছুঁলেও এখনো প্রকাশ হয়নি ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি। এনটিআরসিএর পক্ষ থেকে অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও এর আগে শেষ করতে হবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি, শিক্ষক নিবন্ধনের ভাইভায় নম্বর বাড়ানো এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই নতুন করে সময় পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি অবশ্য থেমে নেই। এনটিআরসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতে পারে। তবে ঠিক কোন সময়ে এটি প্রকাশ করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিজ্ঞপ্তির আগে যেসব কাজ বাকি

১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজনের কাঠামো এবার আগের নিয়মের তুলনায় ভিন্ন। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও এগোচ্ছে কয়েকটি ধাপে।

‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০২৫’-এর ভিত্তিতে পরীক্ষাটি নেওয়ার জন্য বিদ্যমান ১০৬টি পদের সিলেবাস হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ১৩টি পদের সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে একটি পরিপত্র তৈরির কাজ চলছে। সিলেবাস ও পরিপত্র অনুমোদনের পাশাপাশি অনলাইন আবেদন প্ল্যাটফর্ম হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনও সম্পন্ন করতে হবে।

এই প্রস্তুতিগুলো শেষ হওয়ার পরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়

গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা তথা ৯ম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে এনটিআরসিএ ইতোমধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশ পর্যায়ের শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, নতুন বিধিমালার আওতায় পরীক্ষা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। সিলেবাস, পরিপত্র, অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিকে এগোবে এনটিআরসিএ।

যে তিন বিষয় বিজ্ঞপ্তি পিছিয়ে দিতে পারে

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এনটিআরসিএর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় নির্ধারণে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রথমত, বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর বিষয়টি। তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা।

এই কাজগুলোর কোনটি আগে শেষ করা হবে, তা নিয়েও এনটিআরসিএর মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। সংস্থাটির একটি অংশ মনে করছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ করেই ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া উচিত।

আবার অন্য একটি অংশের মত, শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি সংক্রান্ত পরিপত্র জারি হওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হোক। ফলে সংশ্লিষ্ট কাজগুলোর অগ্রাধিকার ও সময়ের ওপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি নির্ভর করছে।

নির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারছে না এনটিআরসিএ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে বেশ কিছু সমস্যা সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে। সেগুলো নিয়ে কাজ চললেও ঠিক কখন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা সামনে রেখেই এনটিআরসিএ কাজ করছে। তবে অক্টোবরের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে এনটিআরসিএর পরিকল্পনায় অক্টোবরের শেষ সময় বা নভেম্বরের শুরুর সময়টিও সামনে রয়েছে।

১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন নাকি ৯ম এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা?

এবারের পরীক্ষাটিকে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এর আরেকটি পরিচয় রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি ৯ম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছে।

পরীক্ষার লক্ষ্য দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সিলেবাস ও নিয়োগ পরীক্ষাসংক্রান্ত পরিপত্র তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নতুন নিয়মে প্রতি বছর পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজনের সময়ের ক্ষেত্রেও ২০২৫ সালের বিধিমালায় পরিবর্তন এসেছে।

২০০৬ সালের ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা’-এর বিধি ৩-এর উপবিধি (১) অনুযায়ী, প্রতি পঞ্জিকা বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা আয়োজনের বিধান ছিল।

কিন্তু ২০২৫ সালের নতুন বিধিমালায় নির্দিষ্ট বিরতিতে পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক—এমন কোনো বিধান রাখা হয়নি। ফলে পরীক্ষার আয়োজনের ক্ষেত্রে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদ, শিক্ষক চাহিদা, নিয়োগ কার্যক্রমের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠু ও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র তৈরির কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

সামনে কী হতে পারে

বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য অক্টোবর ২০২৬-এর সময়সীমাই পরিকল্পনায় রয়েছে। তবে এর আগে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কাজ শেষ করার প্রয়োজন থাকায় সময় নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

এনটিআরসিএর ভেতরের একটি অংশ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শেষ করার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পক্ষে। আরেকটি অংশ শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির পরিপত্র জারির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। এসব কাজের পাশাপাশি বদলি কার্যক্রমও চলমান থাকায় বিজ্ঞপ্তির সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে এনটিআরসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: