ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নামজারি করতে কী কী লাগে, জানুন আবেদন থেকে খতিয়ান পাওয়ার নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১২:৩৩:১৩
নামজারি করতে কী কী লাগে, জানুন আবেদন থেকে খতিয়ান পাওয়ার নিয়ম

জমি কেনা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন মালিকের নামে ভূমির রেকর্ড হালনাগাদ করতে হয়। এই প্রক্রিয়াই নামজারি বা মিউটেশন। বর্তমানে বেশিরভাগ নামজারি আবেদন অনলাইনে করা যায়। তবে আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র ঠিকভাবে প্রস্তুত না থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-মিউটেশন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নামজারির আবেদনে জমির খতিয়ান, মালিকানা পরিবর্তনের কারণ অনুযায়ী দলিল বা অন্যান্য প্রমাণপত্র, আবেদনকারীর পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কাগজের স্ক্যান কপি দিতে হয়। উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারি হলে উত্তরাধিকার সনদও প্রয়োজন হয়। আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদন ফি ও নোটিশ জারি ফি মিলিয়ে ৭০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়।

নামজারি আসলে কেন করতে হয়?

জরিপের মাধ্যমে তৈরি খতিয়ানে রেকর্ডীয় মালিকের নাম থাকার পর জমি বিক্রি, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো বৈধ হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তিত হলে ভূমির স্বত্বের রেকর্ড হালনাগাদ করার প্রয়োজন হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে মিউটেশনের আবেদন করা হয়।

অর্থাৎ শুধু জমি কেনার দলিল থাকলেই রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম উঠে যায় না। মালিকানা পরিবর্তনের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় নামজারি সম্পন্ন করে রেকর্ড হালনাগাদ করতে হয়।

নামজারি করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

নামজারির ক্ষেত্রে জমির মালিকানা কীভাবে অর্জিত হয়েছে, তার ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিছুটা নির্ভর করে। সরকারি ই-মিউটেশন নির্দেশিকায় সাধারণভাবে যেসব তথ্য ও নথি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

আবেদনকারী বা আবেদনকারীদের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা

সক্রিয় বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর

জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন নম্বর

আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি

আবেদনকারীর স্বাক্ষর

সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ানের কপি

ক্রয়সূত্রে মালিকানা হলে দলিলের কপি

দলিল নম্বর, দলিলের তারিখ ও সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য

রেকর্ডীয় মালিক বা মালিকদের নাম, পিতা/স্বামীর নাম ও পূর্ণ ঠিকানা

উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারি হলে উত্তরাধিকার সনদ

সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা

আদালতের রায় বা ডিক্রি সূত্রে মালিকানা হলে সংশ্লিষ্ট রায়-ডিক্রির কপি

অন্য কোনো বৈধ সূত্রে মালিকানা অর্জিত হলে সেই সূত্রের প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র।

কাগজপত্রের মূল কপি সাধারণত অনলাইনে আপলোড করা হয় না; প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপি সংযুক্ত করতে হয়। সরকারি নির্দেশিকায় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করে PDF ফরম্যাটে আপলোড করার কথা বলা হয়েছে। ছবি ও স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি JPG বা PNG ফরম্যাটে প্রস্তুত রাখা যায়।

জমি কেনার পর নামজারি করতে যা লাগবে

ক্রয় সূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি হলো জমি কেনার দলিল। অনলাইন আবেদনে দলিল নম্বর, দলিলের তারিখ এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।

আরও পড়ুন:

জমি কেনার আগে মালিকানা যাচাই করবেন যেভাবে

জমির দলিল আসল না নকল, বুঝবেন যেভাবে

খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না দেখবেন যেভাবে, জানুন সহজ পদ্ধতি

এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের কপি, আবেদনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে কী লাগবে?

কোনো রেকর্ডীয় মালিক মারা গেলে তাঁর উত্তরাধিকারীদের নামে জমির রেকর্ড হালনাগাদের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নামজারি আবেদনের সঙ্গে উত্তরাধিকার সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-মিউটেশন নির্দেশিকায় উত্তরাধিকার সূত্রে মিউটেশনের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সনদের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

অনলাইনে নামজারি আবেদন করার নিয়ম

বর্তমানে ই-মিউটেশন ব্যবস্থায় অনলাইনে আবেদন করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি মোটামুটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

১. প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত করুন

আবেদন শুরু করার আগে জমির খতিয়ান, দলিল বা মালিকানা পরিবর্তনের প্রমাণপত্র, পরিচয়পত্র, ছবি, স্বাক্ষর, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং প্রযোজ্য অন্যান্য নথি স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখা ভালো।

জমির মালিকানা কী সূত্রে অর্জিত হয়েছে, সেটিও পরিষ্কারভাবে জানা প্রয়োজন। কারণ ক্রয়, উত্তরাধিকার, আদালতের রায় বা অন্য সূত্র অনুযায়ী আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত নথি ভিন্ন হতে পারে।

২. ই-মিউটেশন পোর্টালে আবেদন করুন

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন সিস্টেমে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করার অপশন থেকে নামজারি আবেদন শুরু করতে হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়।

৩. আবেদন ফি ও নোটিশ জারি ফি দিন

বর্তমান সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী নামজারি আবেদনের কোর্ট ফি ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা। অর্থাৎ আবেদন দাখিলের সময় মোট ৭০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়।

সরকারি নির্দেশিকায় এই ৭০ টাকা অনলাইনে পরিশোধের জন্য নগদ, রকেট, বিকাশ, উপায়, ভিসা ও মাস্টারকার্ডসহ বিভিন্ন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

৪. আবেদন জমা ও রশিদ সংরক্ষণ করুন

৭০ টাকা পরিশোধসহ আবেদন সাবমিট করলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে চলে যায়। সরকারি ই-মিউটেশন সিস্টেম অনুযায়ী, সাধারণত ২ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা জমার রশিদ তৈরি হয়ে আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে রশিদ নম্বর পাঠানো হয়।

তাই আবেদন করার সময় নিজের সক্রিয় মোবাইল নম্বর দেওয়া এবং আবেদন নম্বর বা রশিদের তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর কী হয়? শুরু হয় ভূমি অফিসের যাচাই

অনলাইনে আবেদন জমা হওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবেদনে দেওয়া তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। এ পর্যায়ে জমির রেকর্ড ও আবেদনের সঙ্গে দেওয়া তথ্য-কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা হয়।

কোনো তথ্য বা কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে তা পূরণের সুযোগ দেওয়ার বিধানও রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু ডিজিটাল সিস্টেম বা ভূমি অফিসে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না—এমন কারণে সরাসরি নামজারি আবেদন বাতিল করা যাবে না। প্রথম আদেশে ঘাটতি থাকলে তা নির্দিষ্ট করে প্রয়োজনীয় তথ্য বা দলিল জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

শুনানির প্রয়োজন হলে কী হবে?

নামজারি আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী শুনানি হতে পারে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা মূল নথি দেখাতে হতে পারে।

এ কারণে অনলাইনে আপলোড করা কাগজপত্রের মূল কপি নিরাপদে সংরক্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে দলিল, খতিয়ান, উত্তরাধিকার সনদ কিংবা আদালতের রায়-ডিক্রি থাকলে সেগুলো হাতের কাছে রাখা ভালো।

নামজারি অনুমোদন হলে এরপর কী করতে হবে?

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবেদন মঞ্জুর করলে মিউটেশন খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। সরকারি ই-মিউটেশন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, খতিয়ান প্রস্তুত হলে আবেদনকারীকে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয় এবং এরপর DCR ফি ১১০০ টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়।

বর্তমান সরকারি ফি তালিকাতেও মিউটেশনের ক্ষেত্রে—

আবেদন কোর্ট ফি: ২০ টাকা

নোটিশ জারি ফি: ৫০ টাকা

DCR ফি: ১১০০ টাকা

নির্ধারিত রয়েছে। ফলে সাধারণভাবে আবেদনের শুরুতে ৭০ টাকা এবং অনুমোদনের পর DCR বাবদ ১১০০ টাকা দিতে হয়।

১১০০ টাকা দেওয়ার পর কীভাবে খতিয়ান পাবেন?

DCR-এর ১১০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধের পর চালান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মিউটেশন সিস্টেমে আবেদন ট্র্যাকিং করে QR কোডযুক্ত অনলাইন খতিয়ান এবং DCR-এর কপি প্রিন্ট করা যায়। সরকারি মিউটেশন সিস্টেমে খতিয়ান চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অনলাইনেই খতিয়ান ডাউনলোড করার ব্যবস্থা রয়েছে।

অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে শুধু আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কি না জানলেই হবে না; খতিয়ান চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করে খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করতে হবে।

নামজারি আবেদনে ভুল হলে কী হতে পারে?

নামজারি আবেদনে জমির তথ্য, মালিকের তথ্য বা সংযুক্ত কাগজপত্রে ভুল কিংবা গরমিল থাকলে প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকাতেও ভুল তথ্য বা গরমিলের কারণে মিউটেশন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে আবেদন বাতিল করতে হবে, এমন নয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম আদেশে ঘাটতি নির্দিষ্ট করে প্রয়োজনীয় তথ্য বা কাগজপত্র দাখিলের সুযোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দেওয়া না হলে পরবর্তী আদেশে আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে।

আবেদন নামঞ্জুর হলে কি আবার সুযোগ আছে?

নামজারি আবেদন নামঞ্জুর হলে কারণটি খেয়াল করা জরুরি। প্রয়োজনীয় তথ্য বা দলিল পরে পাওয়া গেলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রিভিউয়ের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ কারণে শুধু আবেদন বাতিল হয়েছে দেখে নতুন করে একই আবেদন করার পরিবর্তে কেন নামঞ্জুর হয়েছে, সেটি আগে বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নামজারির পুরো খরচ কত?

বর্তমান সরকারি ফি অনুযায়ী সাধারণ মিউটেশন আবেদনে প্রথম ধাপে ২০ টাকা কোর্ট ফি ও ৫০ টাকা নোটিশ জারি ফি—মোট ৭০ টাকা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর DCR বাবদ ১১০০ টাকা দিতে হয়।

অর্থাৎ এই নির্ধারিত ফিগুলো ধরলে সাধারণ মিউটেশন প্রক্রিয়ায় মোট ১১৭০ টাকা সরকারি ফি লাগে। তবে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি, অতিরিক্ত সেবা বা প্রযোজ্য অন্য ফি থাকলে মোট খরচ ভিন্ন হতে পারে।

নামজারি শেষ হতে কত সময় লাগে?

ই-মিউটেশন সিস্টেমে বিভিন্ন ধাপের জন্য গড় সময় আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। আবেদন জমা হওয়ার পর যাচাই ও ভূমি অফিসের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আবেদন এগোয়। অনুমোদনের পর মিউটেশন খতিয়ান প্রস্তুতের জন্য গড়ে ৩ কার্যদিবস দেখানো হয়েছে।

তবে বাস্তবে কোনো আবেদনের সময় নির্ভর করতে পারে তদন্ত, শুনানি, তথ্য বা কাগজপত্রের ঘাটতি, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর। তাই নির্দিষ্ট একটি সময়কে সব আবেদনের জন্য নিশ্চিত সময় হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

নামজারি দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত রাখতে আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

প্রথমত, দলিল ও খতিয়ানে জমির দাগ, মৌজা ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ঠিক আছে কি না দেখুন।

দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে দিন।

তৃতীয়ত, মালিকানা যে সূত্রে এসেছে সেই অনুযায়ী সঠিক নথি সংযুক্ত করুন।

চতুর্থত, স্ক্যান করা কাগজপত্র পরিষ্কার এবং নির্ধারিত ফরম্যাটে রাখুন।

পঞ্চমত, আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর, রশিদ ও এসএমএস সংরক্ষণ করুন।

ষষ্ঠত, আবেদন অনুমোদনের পর DCR ফি পরিশোধ করে চূড়ান্ত মিউটেশন খতিয়ান সংগ্রহ করুন।

এক নজরে নামজারির পুরো প্রক্রিয়া

কাগজপত্র প্রস্তুত → অনলাইনে আবেদন → ৭০ টাকা ফি পরিশোধ → ভূমি অফিসে আবেদন জমা → তথ্য যাচাই/তদন্ত → প্রয়োজন হলে ঘাটতি পূরণ বা শুনানি → সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশ → আবেদন মঞ্জুর → ১১০০ টাকা DCR ফি → খতিয়ান চূড়ান্ত → অনলাইন থেকে QR কোডযুক্ত মিউটেশন খতিয়ান ও DCR প্রিন্ট।

জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর রেকর্ড হালনাগাদ করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ায় নামজারির আবেদন করার সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তথ্যের নির্ভুলতা এবং প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে সংযুক্ত করার ওপর। সরকারি ভূমি সেবার নিয়ম ও ফি পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্ল্যাটফর্মে যাচাই করা নিরাপদ।

FAQ

১. নামজারি করতে প্রথমে কত টাকা লাগে?

অনলাইনে আবেদন করার সময় কোর্ট ফি ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, অর্থাৎ মোট ৭০ টাকা দিতে হয়।

২. নামজারি অনুমোদনের পর কত টাকা দিতে হয়?

বর্তমান সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী অনুমোদনের পর DCR বাবদ ১১০০ টাকা দিতে হয়।

৩. নামজারি হলে খতিয়ান কীভাবে পাওয়া যায়?

DCR ফি পরিশোধ ও চালান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে QR কোডযুক্ত অনলাইন মিউটেশন খতিয়ান ও DCR প্রিন্ট করা যায়।

৪. উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারি করতে কী অতিরিক্ত কাগজ লাগে?

উত্তরাধিকার সূত্রে মিউটেশন হলে উত্তরাধিকার সনদের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করতে হয়।

৫. নামজারি আবেদন নামঞ্জুর হলে কী করবেন?

প্রথমে নামঞ্জুরের কারণ দেখতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য বা দলিলের ঘাটতি থাকলে তা পূরণের সুযোগের বিধান রয়েছে; পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-দলিল পাওয়া গেলে রিভিউয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: