ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পেলে প্রথমেই যে ৫টি কাজ করবেন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১২:০৩:০৮
উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পেলে প্রথমেই যে ৫টি কাজ করবেন

বাবা-মা বা পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পেলে শুধু ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। জমির মালিকানা ও নিজের প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, নামজারির আবেদন, ভূমি উন্নয়ন করের হিসাব পরীক্ষা এবং জমির বাস্তব দখল সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি। শুরুতেই এসব কাজ সঠিকভাবে করলে ভবিষ্যতে জমি নিয়ে বিরোধ, জাল দলিল বা মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশে উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়া ব্যক্তির প্রথম কাজ হওয়া উচিত মৃত ব্যক্তির জমির রেকর্ড ও মালিকানার কাগজপত্র যাচাই করে কে কতটুকু জমির আইনগত উত্তরাধিকারী, তা নির্ধারণ করা। এরপর উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী নামজারি ও প্রয়োজনীয় রেকর্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে উত্তরাধিকারীদের অংশ নির্ধারণের নিয়ম ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই সবার ক্ষেত্রে একই পরিমাণ জমি পাওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

১. প্রথমেই জমির মালিকানা ও কাগজপত্র যাচাই করুন

উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পর প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে, মৃত ব্যক্তির নামে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু জমি ছিল এবং সেই জমির মালিকানা কোন কোন নথির মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। শুধু পারিবারিকভাবে জমি নিজেদের বলে জানলেই যথেষ্ট নয়।

এ জন্য জমির মূল বা সার্টিফায়েড দলিল, সর্বশেষ খতিয়ান, আগের খতিয়ান, দাগ নম্বর, মৌজার নাম, জমির পরিমাণ এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা সংগ্রহ করে মিলিয়ে দেখা উচিত। জমিটি আগে কেনা হয়ে থাকলে ক্রয়দলিল এবং উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো সূত্রে পাওয়া হয়ে থাকলে সেই সূত্রের প্রাসঙ্গিক নথিও পরীক্ষা করতে হবে।

একই জমির দলিল, খতিয়ান ও বাস্তব দখলের তথ্যের মধ্যে কোনো অসংগতি থাকলে নামজারির আগে বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে রেকর্ড যাচাই করতে হবে। জমি নিয়ে মামলা, বন্ধক বা অন্য কোনো দাবি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা ভালো।

২. ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করে উত্তরাধিকারীদের অংশ নির্ধারণ করুন

মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও সম্পর্ক প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হয়। সাধারণত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষ থেকে এ সনদ নেওয়া হয়। কোন কর্তৃপক্ষ সনদ দেবে, তা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।

তবে মনে রাখতে হবে, ওয়ারিশ সনদ একাই জমির চূড়ান্ত মালিকানা বা প্রত্যেকের নির্দিষ্ট জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে না। কে কতটুকু পাবেন, তা নির্ভর করে প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইন, জীবিত উত্তরাধিকারীদের পরিচয় এবং সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থার ওপর।

উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কারও নাম বাদ পড়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। কোনো উত্তরাধিকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে বা পরিবারের মধ্যে অংশ নিয়ে মতবিরোধ থাকলে অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারি ভূমিসেবার [ই-নামজারি পোর্টাল](https://mutation.land.gov.bd/) থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারির নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়।

৩. উত্তরাধিকার অনুযায়ী নামজারির আবেদন করুন

জমির কাগজপত্র ও উত্তরাধিকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নামজারি বা মিউটেশন করা। এর মাধ্যমে জমির রাজস্ব রেকর্ডে আগের মালিকের পরিবর্তে নতুন মালিক বা উত্তরাধিকারীদের নাম ও প্রাপ্য অংশ হালনাগাদ করা হয়।

বাংলাদেশে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদন অনলাইনে করা যায়। এ জন্য [সরকারি ই-নামজারি ব্যবস্থা](https://mutation.land.gov.bd/) ব্যবহার করা যেতে পারে।

আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—

- উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ সনদ।

- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য পরিচয়পত্র।

- সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান ও মালিকানার প্রমাণপত্র।

- সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা।

- জমির দাগ, মৌজা ও পরিমাণের সঠিক বিবরণ।

- পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি।

কাগজপত্রের তালিকা জমির রেকর্ড ও আবেদনটির ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।

আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে শুনানি বা অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। সব তথ্য সঠিক বলে বিবেচিত হলে নামজারির আদেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:

জমির দলিল নেই? খতিয়ান দিয়ে মালিকানা যাচাই করবেন যেভাবে

ওয়ারিশি জমির নামজারি: নিয়ম, কাগজপত্র ও খরচ

খাজনা দিচ্ছেন, তবু জমি নিজের নামে নেই? যা করবেন

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—নামজারি মূলত রাজস্ব রেকর্ড হালনাগাদের প্রক্রিয়া। এটি নিজে থেকে ত্রুটিপূর্ণ দলিলকে বৈধ করে না কিংবা প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে না। তাই জমির স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে শুধু নামজারির ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. জমি ভাগ করতে চাইলে বণ্টনের ব্যবস্থা করুন

একাধিক উত্তরাধিকারী একই জমির মালিক হলে প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য অংশ নির্ধারিত হলেও জমির নির্দিষ্ট কোন অংশ কে ব্যবহার করবেন, তা সব সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থির হয়ে যায় না।

যদি সবাই সম্মত থাকেন, তাহলে প্রযোজ্য আইন মেনে নিবন্ধিত বণ্টননামার মাধ্যমে জমি ভাগ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক নামজারি ও রেকর্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

তবে বণ্টননামা ছাড়াই উত্তরাধিকারীদের অবিভক্ত অংশ অনুযায়ী যৌথ নামজারির সুযোগ থাকতে পারে। অন্যদিকে, প্রত্যেকের নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে রেকর্ড করতে চাইলে জমির ধরন, বিদ্যমান রেকর্ড এবং প্রযোজ্য আইনের শর্ত বিবেচনা করতে হবে।

ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর ৬ ধারায় একাধিক মালিকের জমি, অবিভক্ত দাগ এবং অংশ পৃথক করার বিষয়ে বিধান রয়েছে। তাই জমির অংশ আলাদা না করেই নিজের ইচ্ছামতো নির্দিষ্ট জায়গাকে একক মালিকানার জমি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৫. ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও জমির দখল নিশ্চিত করুন

উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পর জমির ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বকেয়া থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তা পরিশোধ করুন এবং দাখিলা সংরক্ষণ করুন।

ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য ও অনলাইন সেবা পাওয়া যায় [সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে](https://ldtax.gov.bd/)। জমির মালিকানা বা হোল্ডিংয়ের তথ্য হালনাগাদ না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

একই সঙ্গে জমির বাস্তব অবস্থাও যাচাই করুন। জমিটি কোথায়, সীমানা কী, কে চাষ করছেন, সেখানে অন্য কেউ বসবাস করছেন কি না কিংবা কোনো ব্যক্তি নিজের জমি বলে দাবি করছেন কি না—এসব তথ্য জানা জরুরি।

জমি অন্যের দখলে থাকলে নিজে জোর করে দখল নেওয়ার চেষ্টা না করে কাগজপত্র সংগ্রহ করুন এবং প্রয়োজন হলে আইনজীবীর পরামর্শ নিন। পরিস্থিতি অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের প্রতিকার বা অন্য আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।

মনে রাখতে হবে, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা জমির মালিকানা যাচাইয়ের একটি সহায়ক নথি হলেও এটি একাই মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে কী করবেন?

উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ নিজের প্রাপ্য অংশের চেয়ে বেশি দাবি করলে, ওয়ারিশ সনদে ভুল থাকলে কিংবা কোনো ব্যক্তি জমি দখল করে রাখলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিরোধের ধরন অনুযায়ী সংশোধিত সনদ, নামজারি-সংক্রান্ত আপত্তি, বণ্টন মামলা বা জমির দখল ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতের আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনো লেনদেনের আগে উত্তরাধিকারীদের প্রকৃত অংশ ও সংশ্লিষ্ট আইনগত শর্ত নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষ করে অন্য উত্তরাধিকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে পুরো জমি নিজের বলে দাবি করা বা হস্তান্তর করা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পর কোন ক্রমে কাজ করবেন?

প্রথম ধাপ: কাগজপত্র যাচাই

দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ মিলিয়ে নিন।

দ্বিতীয় ধাপ: ওয়ারিশ সনদ ও হিস্যা

সব বৈধ উত্তরাধিকারীর পরিচয় এবং প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করুন।

তৃতীয় ধাপ: নামজারি

প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে সরকারি ই-নামজারি পোর্টালে আবেদন করুন।

চতুর্থ ধাপ: বণ্টন ও রেকর্ড

প্রয়োজন হলে আইনসম্মত বণ্টননামা করে পৃথক রেকর্ডের ব্যবস্থা করুন।

পঞ্চম ধাপ: কর ও দখল

কর পরিশোধের অবস্থা এবং জমির বাস্তব দখল নিয়মিত যাচাই করুন।

উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে জমি বিক্রি বা ভাগ করার চেয়ে প্রথমে মালিকানার নথি যাচাই, সব উত্তরাধিকারীর হিস্যা নির্ধারণ এবং নামজারির কাজ সম্পন্ন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এরপর জমির প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও বাস্তব দখল নিশ্চিত করতে হবে।

জমি নিয়ে বিরোধ না থাকলেও নথিপত্রে ভুল বা অসংগতি থাকলে শুরুতেই তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া ভালো। আর মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও আইনজীবীর সহায়তা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করাই নিরাপদ।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পর প্রথমে কী করতে হবে?

প্রথমে মৃত ব্যক্তির জমির দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য মালিকানার নথি যাচাই করতে হবে। এরপর বৈধ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় নামজারির উদ্যোগ নিতে হবে।

২. ওয়ারিশ সনদ থাকলেই কি জমির মালিক হওয়া যায়?

ওয়ারিশ সনদ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এটি একাই জমির চূড়ান্ত মালিকানা বা প্রত্যেকের নির্দিষ্ট অংশ প্রমাণ করে না। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা ও প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইনও বিবেচনা করতে হয়।

৩. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি কি অনলাইনে করা যায়?

হ্যাঁ। সরকারি [ই-নামজারি পোর্টালে](https://mutation.land.gov.bd/) আবেদন করা যায়। আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি দিতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

৪. একাধিক ওয়ারিশ থাকলে কি সবাইকে একসঙ্গে নামজারি করতে হবে?

উত্তরাধিকারীদের যৌথ নামে নামজারি করা যেতে পারে। তবে পৃথক অংশ ও আলাদা রেকর্ড করতে চাইলে জমির অবস্থা, প্রযোজ্য আইন এবং বণ্টনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে। সবার জন্য একই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক নয়।

৫. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি অন্য কেউ দখল করে রাখলে কী করবেন?

প্রথমে জমির মালিকানার নথি ও দখলের পরিস্থিতি যাচাই করুন। এরপর বিরোধের ধরন অনুযায়ী আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে জমির দখল পুনরুদ্ধার বা উপযুক্ত আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন। জোর করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ