হামজার লাল কার্ড নিয়ে ক্ষোভ, শেষ মুহূর্তে হার শেফিল্ডের
একটি লাল কার্ড, ম্যাচের শেষ দিকে গোল হজম এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে কোচের তীব্র অসন্তোষ—সব মিলিয়ে পোর্টসমাউথের মাঠে হতাশার রাত কাটাল শেফিল্ড ইউনাইটেড। ফ্র্যাটন পার্কে ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিল দলটি। কিন্তু ৮৯ মিনিটে গোল হজম করে ৩–২ ব্যবধানে হারতে হয় তাদের। এর আগে ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। তাঁর বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই ম্যাচের পর রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের সমালোচনায় সরব হয়েছেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।
প্রত্যাবর্তনের পরও জয় অধরা
ম্যাচের একপর্যায়ে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫৪ মিনিটে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে সমতা ফেরায় দলটি। ফলে ম্যাচের শেষ ভাগে জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ৮৯ মিনিটের গোল সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শেফিল্ডকে।
তবে এই ফলাফলের বাইরেও ম্যাচটির বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে হামজার লাল কার্ড। তাঁর বিদায়ের পর ম্যাচের বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয়েছে শেফিল্ডকে। কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারের মতে, হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
কী ঘটেছিল হামজার সঙ্গে?
পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনের সঙ্গে একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন হামজা। চেলসি থেকে ধারে পোর্টসমাউথে যোগ দেওয়া এই খেলোয়াড়কে নাটমেগ করার চেষ্টা করতে গিয়ে হামজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। এর আগে একই খেলোয়াড়কে ফাউল করার ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
প্রথমবার হলুদ কার্ড দেখার পর নয় মিনিটের মধ্যে আবারও ফাউলে জড়ান হামজা। ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।
কিন্তু দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখানোর আগে রেফারির অবস্থান কী ছিল, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শেফিল্ড কোচের দাবি, হামজাকে লাল কার্ড দেখানো হবে না বলে জানিয়েছিলেন ল্যাংফোর্ড। এরপর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা রেফারির কাছে এগিয়ে গেলে সিদ্ধান্ত বদলে যায় বলে অভিযোগ ওয়াইল্ডারের।
হামজাকে নিয়ে ওয়াইল্ডারের কটাক্ষ
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি শেফিল্ড কোচ। হামজার অবস্থান এবং মাঠে তাঁর কী করার সুযোগ ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি।
ওয়াইল্ডার বলেন, ‘হামজা (মাঠে) কোথায় যাবে? সে কি মিস্টার ক্লেপল (রেন্টাগোস্ট নাটকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া চরিত্রের মতো) যে হুট করে মিলিয়ে যাবে? মাঠজুড়েই এমন ঘটনা ঘটছে। স্যাম ম্যাককালামকে তিন-চারবার বাধা দেওয়া হয়েছে।’
শুধু হামজার ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। ম্যাচের অন্যান্য ঘটনাও তুলে ধরে নিজের দলের প্রতি রেফারির আচরণ নিয়ে অসন্তোষ জানান শেফিল্ডের কোচ।
বক্সে জার্সি ধরে টানার অভিযোগও তুললেন কোচ
ওয়াইল্ডারের অভিযোগ, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের বক্সে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়কে টেনে ধরা হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ওই খেলোয়াড়ের জার্সি প্রায় খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমন ঘটনার পরও প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করেন ওয়াইল্ডার। তিনি বলেন, ‘হামজা আসলে কোথায় যাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাকে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ হয়তো যা বলতে চাই, তা বলতে পারছি না। ম্যাচে শেষ মুহূর্তেও আমাদের দলের এক খেলোয়াড়কে বক্সে টেনে ধরা হয়, যেখানে পরিষ্কার দেখা গেছে, তার জার্সি প্রায় খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।’
রেফারির সিদ্ধান্তে অবিচারের অভিযোগ
হামজার বহিষ্কারের প্রসঙ্গে ওয়াইল্ডার আরও জানান, রেফারি প্রথমে তাঁকে লাল কার্ড দেখাবেন না বলে কথা বলেছিলেন। পরে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হওয়ার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
এ বিষয়ে শেফিল্ড কোচের বক্তব্য, ‘কথা হচ্ছিল যে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখাবেন না। দেখলাম প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা গিয়ে ভিড় করছে; সেটা গেমসম্যানশিপের অংশ হতেই পারে। তবে মনে হচ্ছে, আমাদের প্রতি কিছুটা অবিচার করা হয়েছে।’
ওয়াইল্ডারের বক্তব্যে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ স্পষ্ট। হামজার দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অন্য ঘটনাগুলোও তিনি সামনে এনেছেন। তবে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ম্যাচের পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পোর্টসমাউথ।
চ্যাম্পিয়নশিপে ১৫তম স্থানে শেফিল্ড
পোর্টসমাউথের কাছে হারের পর ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নশিপে শেফিল্ড ইউনাইটেডের অবস্থান ১৫তম। ১০ ম্যাচ শেষে দলটির পয়েন্ট ১২। একই সংখ্যক ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির সঙ্গে তাদের ব্যবধান ১১ পয়েন্ট।
চলতি মৌসুমে শেফিল্ডের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন হামজা চৌধুরী। এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি তিনি। পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর লাল কার্ড এবং দলের শেষ মুহূর্তের হার—দুটি ঘটনাই শেফিল্ডের জন্য রাতটিকে হতাশার করে তুলেছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. পোর্টসমাউথের বিপক্ষে শেফিল্ড ইউনাইটেডের ম্যাচের ফল কী ছিল?
শেফিল্ড ইউনাইটেড ৩–২ গোলে হেরেছে। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পোর্টসমাউথের গোলটি আসে।
২. হামজা চৌধুরী কখন লাল কার্ড দেখেন?
ম্যাচের ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার পর মাঠ ছাড়েন হামজা চৌধুরী।
৩. হামজার লাল কার্ড নিয়ে ক্রিস ওয়াইল্ডার কী অভিযোগ করেছেন?
ওয়াইল্ডারের দাবি, রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড প্রথমে হামজাকে লাল কার্ড দেখাবেন না বলেছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
৪. চ্যাম্পিয়নশিপে শেফিল্ড ইউনাইটেড কত পয়েন্ট পেয়েছে?
১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শেফিল্ড ইউনাইটেড ১৫তম স্থানে রয়েছে। শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির চেয়ে তারা ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।
৫. এ মৌসুমে শেফিল্ডের হয়ে হামজা কয়টি ম্যাচ খেলেছেন?
হামজা চৌধুরী এ মৌসুমে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি কোনো গোল করেননি।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- Redmi Note 17 Pro 5G: বড় ব্যাটারি ও আকর্ষণীয় ফিচার
- আপনার নামে কত জমি আছে? মোবাইলেই জানুন অনলাইনে
- আজকের আবহাওয়ার খবর: কোথায় গরম, কোথায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৮টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- জমির খতিয়ান অনলাইনে বের করার নিয়ম, ঘরে বসেই দেখুন
- OPPO Find X10 Pro Max: স্পেসিফিকেশন, দাম ও লঞ্চের তারিখ