১ হাজার টাকা রিচার্জে প্রিপেইড মিটারে থাকে কত, কাটা হয় কী কী
মাস শেষে বিলের অঙ্ক জানার জন্য আর অপেক্ষা নয়। আগে রিচার্জ, তারপর বিদ্যুৎ ব্যবহার। এই প্রিপেইড ব্যবস্থায় সারা দেশের গ্রাহকদের আনতে চায় সরকার। পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহককে এর আওতায় আনা হবে। উৎসাহ দিতে রিচার্জের অর্থের ওপর দেওয়া হচ্ছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট।
পোস্টপেইডে অনিশ্চয়তা, প্রিপেইডে হিসাব হাতে
বিদ্যুৎ বিভাগের ভাষ্য, পোস্টপেইড মিটারে সাধারণত মাস শেষেই বিলের অঙ্ক জানা যায়। তাই আগাম খরচের হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রিপেইডে ছবিটা আলাদা। রিচার্জের পর মিটারে কত টাকা বাকি আছে এবং কত বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে, তা সহজেই দেখা যায়। ফলে প্রয়োজন মতো রিচার্জ করা এবং মাসের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সচেতনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে এই ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো যায়।
১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে মিটারে কত থাকে
প্রথমে জানা দরকার, প্রিপেইড সংযোগ নিতে কোনো নিরাপত্তা জামানত দিতে হয় না। আবাসিক গ্রাহকের রিচার্জ থেকে যা যা কাটা হয়:
অনুমোদিত লোডের প্রতি কিলোওয়াটের জন্য মাসে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ, সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাটমিটার ভাড়া: বিতরণ সংস্থার সরবরাহ করা সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা, থ্রি ফেজের জন্য ২৫০ টাকা
প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জেই ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সমন্বয় হয়। এরপর যে অর্থ থাকে, তার ওপর যোগ হয় ০.৫ শতাংশ রিবেট।
একটি উদাহরণ: ২ কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের একজন আবাসিক গ্রাহক জানুয়ারিতে প্রথমবার ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলেন। ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাবদ কাটা যাবে ১৭১ টাকা ৬২ পয়সা। রিবেট যোগ হওয়ার পর বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মিটারে থাকবে ৮৩২ টাকা ৫২ পয়সা।
দুটি নিয়ম মনে রাখা ভালো:
আগের মাসের টাকা মিটারে থেকে গেলে পরের মাসে নতুন রিচার্জ ছাড়াই তা দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়।কোনো মাসে রিচার্জ না করলে সেই মাস ও আগের মাসগুলোর ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া পরের রিচার্জের সময় সমন্বয় করা হয়।
রিচার্জ করবেন কীভাবে, টাকা ফুরোলে কী হবে
মোবাইল ব্যাংকিং এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে যেকোনো সময় রিচার্জ করা যায়। বিতরণ সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশন, পিওএস এজেন্ট ও ব্যাংকের বুথও আছে।
ব্যালেন্স কমে এলে মিটার সতর্কসংকেত দেয়। নির্ধারিত 'ফ্রেন্ডলি আওয়ারে' টাকা ফুরিয়ে গেলেও জরুরি ক্রেডিট সুবিধায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়।
গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সালেহ হাসান বাসসকে জানান, মাসের শুরুতে কত টাকা রিচার্জ করলেন, তা ধরেই পুরো মাসের ব্যবহার সাজান। ঘরে বসেই রিচার্জ হয়, মিটারে টাকা কত আছে তা-ও দেখা যায়। তাই অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ খরচের ব্যাপারে এখন তিনি বেশি সচেতন।
বগুড়া শহরের নেসকো গ্রাহক মুজাহিদ শেখের বাসায় প্রিপেইড মিটার বসেছে কিছুদিন আগে। তিনি বলেন, আগে মাস শেষে কত বিল আসবে, বোঝার উপায় ছিল না। এখন পরিকল্পনা করে রিচার্জ করেন। তাঁর মতে, দুই ব্যবস্থায় বিদ্যুতের মূল খরচ একই। তবে সচেতন থাকলে প্রিপেইডে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা যা বলছেন
আইইইএফএর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, গ্রাহকের উদ্বেগ কমিয়ে ব্যবস্থাটিকে জনপ্রিয় করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তাঁর তথ্যমতে, ডেসকোর অ্যাপে মিটারের ব্যালেন্স ও ব্যবহারের পরিমাণসহ নানা তথ্য মেলে, যা বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা কমাতে পারে। জরুরি ব্যালেন্সের সুবিধায় টাকা ফুরোলেও সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয় না। সুবিধা ও ব্যবহারবিধি জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও গণমাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নিতে পারে বিতরণ সংস্থাগুলো।
বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) নূর আহমদ মনে করেন, রিবেটসহ নানা সুবিধা গ্রাহকের বাড়তি খরচ কমাতে পারে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতি অপরিহার্য, যা কাজের ধাপ কমিয়ে আনে।
নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, সরকারের সিদ্ধান্তে পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহককে প্রিপেইডে আনা হবে। নেসকোর ৬০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের মিটার ইতোমধ্যে প্রিপেইড। শুরুতে কিছু এলাকায় নেতিবাচক মনোভাব ছিল, তবে এখন তেমন সমস্যা নেই।
বিতরণ সংস্থার লাভ কোথায়
বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকায় আছে অগ্রিম রাজস্ব আদায়, সিস্টেম লস হ্রাস, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, লোড ব্যবস্থাপনা ও নির্ভুল বিলিং। এ ছাড়া বিল তৈরি ও বিতরণে জনবল ব্যয় কমে, গ্রাহকসেবার মান বাড়ে। ভাড়াটিয়া ও সরকারি আবাসনে বিলিং-জটিলতা কমাতেও ভূমিকা রাখছে ব্যবস্থাটি। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাধা নেই।
কর্মকর্তারা বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিডিং নেওয়ার প্রয়োজন না থাকায় জনবল ও যাতায়াত খরচ বাঁচে। অগ্রিম পরিশোধে রাজস্ব আদায় সহজ হয়, বকেয়া আদায়ের ঝামেলাও কমে।
কোন সংস্থায় কতজন প্রিপেইডে
অভিযোগ বা তথ্যের জন্য
বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় হটলাইন ১৬৯৯৯। বিতরণ কোম্পানিগুলোরও নিজস্ব হটলাইন আছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করলে কত রিবেট পাওয়া যায়?
প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হয়।
২. রিচার্জের টাকা থেকে কী কী কাটা হয়?
আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের জন্য মাসে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ, ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং মিটার ভাড়া। সিঙ্গেল ফেজ মিটারের ভাড়া ৪০ টাকা, থ্রি ফেজের ২৫০ টাকা।
৩. প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে কী হবে?
নির্ধারিত 'ফ্রেন্ডলি আওয়ারে' ব্যালেন্স শেষ হলেও জরুরি ক্রেডিট সুবিধায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। ব্যালেন্স কমলে মিটারে সতর্কসংকেতও আসে।
৪. প্রিপেইড মিটারে কীভাবে রিচার্জ করা যায়?
মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো সময়। এ ছাড়া বিতরণ সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশন, পিওএস এজেন্ট ও ব্যাংকের বুথ থেকেও।
৫. প্রিপেইড মিটারের অভিযোগ কোথায় জানাতে হবে?
বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় হটলাইন ১৬৯৯৯ নম্বরে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর নিজস্ব হটলাইনও আছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- Redmi Note 17 Pro 5G: বড় ব্যাটারি ও আকর্ষণীয় ফিচার
- আজকেরস্বর্ণের দাম: প্রতি ভরি ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- আপনার নামে কত জমি আছে? মোবাইলেই জানুন অনলাইনে
- আজকের আবহাওয়ার খবর: কোথায় গরম, কোথায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৮টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- জমির খতিয়ান অনলাইনে বের করার নিয়ম, ঘরে বসেই দেখুন
- OPPO Find X10 Pro Max: স্পেসিফিকেশন, দাম ও লঞ্চের তারিখ