ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

এনআইডি কার্ডের নাম ভুল? অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ২০:৪১:২০
এনআইডি কার্ডের নাম ভুল? অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নামের বানান ভুল, বাংলা ও ইংরেজি নামের অমিল কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্যের অসংগতি থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যায় অনলাইনে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে এবং ভুল সংশোধনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তবে শুধু নামের বানান সংশোধন আর সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের আবেদন এক নয়। ভুলের ধরন ও জমা দেওয়া প্রমাণপত্র যাচাই করেই সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অনেকের শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন কিংবা পাসপোর্টের সঙ্গে এনআইডিতে থাকা নামের মিল থাকে না। এতে ব্যাংকিং সেবা, পাসপোর্ট তৈরি, চাকরির আবেদনসহ বিভিন্ন কাজে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের ভুল চোখে পড়লে সঠিক তথ্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে সংশোধনের আবেদন করা জরুরি।

অনলাইনে এনআইডি কার্ডের নাম সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম সংশোধনের আবেদন করতে নির্বাচন কমিশনের সরকারি এনআইডি সেবা পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। আবেদন করার আগে সঠিক নামের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখুন।

ধাপ ১: প্রথমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটের ঠিকানা services.nidw.gov.bd।

ধাপ ২: আগে অ্যাকাউন্ট খোলা থাকলে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করুন। এ ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হতে পারে।

ধাপ ৩: অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার পর ব্যক্তিগত তথ্য দেখুন। নামের বাংলা বা ইংরেজি অংশে ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য প্রযোজ্য অপশন নির্বাচন করুন।

ধাপ ৪: যে নামটি সংশোধন করতে চান, তা গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন। বাংলা ও ইংরেজি বানান ভালোভাবে যাচাই করুন, যাতে নতুন করে ভুল না হয়।

ধাপ ৫: সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিষ্কার ও পাঠযোগ্য কপি আপলোড করুন। পোর্টালে অতিরিক্ত কোনো নথি চাওয়া হলে সেই নির্দেশনাও অনুসরণ করুন।

ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ও সংযুক্ত কাগজপত্র আবার যাচাই করুন। সংশোধনের জন্য সরকারি ফি প্রযোজ্য হলে পোর্টালে দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী ফি পরিশোধ করুন।

ধাপ ৭: সবশেষে আবেদন জমা দিয়ে রসিদ বা আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে পোর্টালে আবেদনের অবস্থা দেখার সুবিধা থাকলে সেখান থেকে অগ্রগতি যাচাই করুন।

মনে রাখতে হবে, অনলাইনে আবেদন করলেই নাম সংশোধন নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন ও প্রমাণপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া বা সরাসরি শুনানিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনাও আসতে পারে।

নামের ভুল সংশোধন করতে কোন কাগজপত্র লাগবে?

এনআইডি কার্ডে নাম সংশোধনের জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করে ভুলের ধরন ও সংশোধনের পরিধির ওপর। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর কাছে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ থাকলে নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে ওই সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

সাধারণত প্রয়োজন অনুযায়ী যেসব কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে, সেগুলো হলো—

1. এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ।

2. জন্মনিবন্ধন সনদ।

3. পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স।

4. চাকরির প্রমাণপত্র বা সার্ভিস বুক।

5. বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত দলিল।

6. নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য আইনগত প্রমাণপত্র।

সব আবেদনকারীর জন্য সব কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। আবেদন জমা দেওয়ার আগে নিজের সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে নেওয়া উচিত।

পুরো নাম পরিবর্তন করতে চাইলে কী করবেন?

এনআইডিতে শুধু এক বা দুটি অক্ষরের বানান ভুল থাকলে এবং সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন করতে চাইলে আবেদনের ধরন এক নয়। পুরো নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশোধনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিতে হয়। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী হলফনামা, জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি কিংবা ব্যক্তিগত শুনানির প্রয়োজন হতে পারে।

শুধু হলফনামা করলেই নাম পরিবর্তন অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়।

এনআইডি সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনে সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ফি সংশোধনের ধরন এবং প্রযোজ্য সরকারি বিধির ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার সময় এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রদর্শিত ফি যাচাই করে পরিশোধ করুন।

এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রে মুদ্রণজনিত ভুল এবং আবেদনকারীর নিজের দেওয়া তথ্য সংশোধনের বিষয়টি এক নয়। মুদ্রণজনিত ভুলের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এ কারণে নিজের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা সরকারি নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

আবেদন করার পর কীভাবে অগ্রগতি জানবেন?

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনসংক্রান্ত রসিদ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করুন। পোর্টালে লগইন করে আবেদনের অবস্থা দেখার সুবিধা থাকলে সেখান থেকে অগ্রগতি যাচাই করুন।

আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসংগতি থাকলে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। আবার কিছু আবেদনে সরাসরি যাচাই বা শুনানির প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘদিন আবেদন নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

এনআইডি সংশোধন করতে গিয়ে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

আবেদন করার আগে নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ছাড়া আবেদন করলে তা যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ নথি আপলোড করা থেকেও বিরত থাকুন।

এ ছাড়া অনলাইন আবেদনের সময় নিজের সঠিক তথ্য ব্যবহার করুন এবং আবেদনসংক্রান্ত রসিদ সংরক্ষণ করুন। অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনআইডির পাসওয়ার্ড ও ওটিপি শেয়ার করবেন না।

এনআইডি সংশোধনের সরকারি ওয়েবসাইট

জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম ও অন্যান্য তথ্য সংশোধনের নিয়ম জানতে নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট nidw.gov.bd ব্যবহার করুন। অনলাইনে আবেদন করতে প্রবেশ করুন services.nidw.gov.bd ঠিকানায়।

নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দেওয়া। আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে নিলে ভুল কমবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: এনআইডি কার্ডের নাম কি অনলাইনে সংশোধন করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে প্রযোজ্য নিয়মে সংশোধনের আবেদন করা যায়। প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

প্রশ্ন: এনআইডিতে নাম সংশোধনের জন্য কোন সনদ প্রয়োজন?

উত্তর: আবেদনকারীর এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী অন্যান্য নথিও প্রয়োজন হতে পারে।

প্রশ্ন: এনআইডির পুরো নাম পরিবর্তন করা যায় কি?

উত্তর: প্রযোজ্য নিয়ম ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে পুরো নাম পরিবর্তনের আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই বা শুনানির প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন: এনআইডি সংশোধনের আবেদন কোথায় আটকে গেলে কী করবেন?

উত্তর: প্রথমে অনলাইন পোর্টালে আবেদনের অবস্থা যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন: এনআইডি সংশোধনের সরকারি ওয়েবসাইট কোনটি?

উত্তর: অনলাইনে আবেদন করার সরকারি ঠিকানা services.nidw.gov.bd। জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পাওয়া যাবে nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: