ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

জমির খাজনা বকেয়া আছে কি না, মোবাইলেই জানুন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১২:৫৮:৪৬
জমির খাজনা বকেয়া আছে কি না, মোবাইলেই জানুন

জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর কত টাকা বাকি আছে, তা জানতে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে তথ্য যাচাই করা যায়। বাংলাদেশ সরকারের ই-নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার মাধ্যমে জমির নিবন্ধিত হোল্ডিংয়ের তথ্য দেখে বকেয়া কর, পরিশোধের অবস্থা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা পাওয়া যায়। এ জন্য সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে প্রবেশ করে নিবন্ধন বা লগইন করতে হবে এবং জমির হোল্ডিংয়ের তথ্য যাচাই করতে হবে।

তবে জমির খাজনা বকেয়া আছে কি না, তা সঠিকভাবে জানতে জমিটি সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের অধীনে নিবন্ধিত থাকা জরুরি। শুধু জমির দাগ নম্বর জানলেই সব ক্ষেত্রে বকেয়া করের পরিমাণ দেখা যায় না। জমির মালিকের পরিচয়, হোল্ডিংয়ের তথ্য এবং পোর্টালে সংরক্ষিত করের হিসাবের ওপর ফলাফল নির্ভর করে।

জমির খাজনা কত টাকা বাকি আছে, অনলাইনে দেখবেন যেভাবে

জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর কত বছরের বকেয়া রয়েছে, তা জানতে এখন সরকারি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। এ জন্য ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে। এরপর নিজের জমির হোল্ডিংয়ের তথ্য নির্বাচন করে করের দাবি, পরিশোধের হিসাব ও বকেয়া থাকলে তার পরিমাণ যাচাই করা যায়।

সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল: [https://portal.ldtax.gov.bd/](https://portal.ldtax.gov.bd/)

অনলাইনে জমির খাজনার হিসাব দেখতে সাধারণত সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ এবং জমির খতিয়ান বা হোল্ডিং-সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হয়। জমির হোল্ডিং আগে থেকে নিবন্ধিত না থাকলে প্রথমে সেটি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।

জমির খাজনা অনলাইনে বকেয়া দেখার নিয়ম

প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ

মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে [https://portal.ldtax.gov.bd/](https://portal.ldtax.gov.bd/) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার সরকারি পোর্টাল।

দ্বিতীয় ধাপ: নাগরিক অ্যাকাউন্টে নিবন্ধন বা লগইন

আগে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা থাকলে নিজের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে নাগরিক নিবন্ধনের অপশন নির্বাচন করে নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

তৃতীয় ধাপ: জমির হোল্ডিং যুক্ত করুন

নিবন্ধনের জন্য সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ, সচল মোবাইল নম্বর এবং খতিয়ান বা দাখিলাসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হয়। জমির তথ্য দিয়ে হোল্ডিং যুক্ত করার আবেদন করতে হতে পারে। কর্তৃপক্ষের যাচাই বা অনুমোদনের প্রয়োজন হলে সেটি সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের তথ্য পাওয়া যাবে।

চতুর্থ ধাপ: বকেয়া খাজনার হিসাব দেখুন

অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নিজের জমির হোল্ডিং তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং নির্বাচন করুন। সেখানে করের দাবি, আগের পরিশোধের তথ্য এবং বকেয়া থাকলে তার হিসাব দেখুন। পোর্টালে প্রদর্শিত হিসাব অনুযায়ী কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা যাচাই করুন।

পঞ্চম ধাপ: প্রয়োজন হলে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করুন

বকেয়া থাকলে পোর্টালে প্রদর্শিত পেমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে কর পরিশোধ করা যায়। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে লেনদেনের প্রমাণ ও দাখিলা সংরক্ষণ করুন।

অনলাইনে জমির খাজনা দেখা না গেলে কী করবেন?

অনেক সময় জমির তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায় না। এর কারণ হতে পারে হোল্ডিং নিবন্ধিত না থাকা, খতিয়ানের তথ্যের সঙ্গে পরিচয়পত্রের তথ্যের অমিল, অথবা আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা।

আরও পড়ুন:

দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়

জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি

জমি রেজিস্ট্রি করতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন হিসাব

এমন পরিস্থিতিতে জমির খতিয়ান ও দাখিলার তথ্য যাচাই করুন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন। অনলাইনে নিবন্ধন বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সহায়তার জন্য ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারেও যোগাযোগ করা যায়।

ভূমিসেবা বিষয়ে সরকারি সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

মনে রাখবেন, জমির খাজনার বকেয়া হিসাব দেখতে সব ক্ষেত্রে শুধু দাগ নম্বর যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের তথ্য সঠিকভাবে নিবন্ধিত থাকা জরুরি। জমির কর পরিশোধের পর অনলাইন দাখিলা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. জমির খাজনা বকেয়া আছে কি না অনলাইনে দেখা যায়?

হ্যাঁ। সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে নিবন্ধন বা লগইন করে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের করের দাবি ও পরিশোধের তথ্য যাচাই করা যায়।

২. জমির খাজনা দেখতে কী কী তথ্য প্রয়োজন?

সাধারণত সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ এবং খতিয়ান বা হোল্ডিং-সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হয়।

৩. খতিয়ান নম্বর দিয়ে কি সরাসরি বকেয়া খাজনা দেখা যায়?

শুধু খতিয়ান নম্বর দিয়ে সব ক্ষেত্রে সরাসরি বকেয়া দেখা যায় না। সংশ্লিষ্ট জমির হোল্ডিং নিবন্ধন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন থাকতে হতে পারে।

৪. অনলাইনে খাজনা পরিশোধের পর কী পাওয়া যায়?

পেমেন্ট সফল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থায় দাখিলা বা পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা উচিত।

৫. অনলাইনে জমির খাজনার তথ্য না পেলে কোথায় যাবেন?

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রয়োজনে সরকারি ভূমিসেবা হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে সহায়তা চাইতে পারেন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: