ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসা ছাড়াই যাওয়া যাবে ৩৫ দেশে, দেখুন তালিকা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:৫৪:৪৯
বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসা ছাড়াই যাওয়া যাবে ৩৫ দেশে, দেখুন তালিকা

বিদেশে যেতে আগাম ভিসার প্রক্রিয়া এড়াতে চান? বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ৩৫টি গন্তব্যের এমন একটি তালিকা রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা সম্ভব। তবে এই সুবিধা সব জায়গায় একই রকম নয়—কোথাও সরাসরি প্রবেশ করা যায়, কোথাও পৌঁছে ভিসা নিতে হয়, আবার কিছু গন্তব্যের জন্য আগে থেকে ইলেকট্রনিক অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির এই সূচকে উত্তর কোরিয়াও একই অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে আগাম ভিসা ছাড়া কতটি গন্তব্যে যাওয়া যায়, সেটিই মূলত সূচকটির ভিত্তি। এবারের হিসাবের জন্য ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য বিবেচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে যেসব ৩৫ গন্তব্যে

প্রকাশিত তালিকায় থাকা গন্তব্যগুলো হলো ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিউয়ে, বারবাডোস, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিন্স, বাহামাস, গাম্বিয়া, পূর্ব তিমুর বা তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু এবং ভানুয়াতু।

এই ৩৫টি গন্তব্যে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ভিসামুক্ত প্রবেশ, পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদনের সুবিধা পেতে পারেন। তাই তালিকায় কোনো দেশের নাম থাকলেই সেখানে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই প্রবেশ করা যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। ভ্রমণকারীর জন্য কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা গন্তব্য অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

বছরভেদে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অবস্থান ওঠানামা করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী সূচকে দেশটির অবস্থান ৯৭তম। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ছিল ১০০তম স্থানে।

বছর অনুযায়ী অবস্থান ছিল ২০২৪ সালে ৯৭তম, ২০২৩ সালে ১০১তম, ২০২২ সালে ১০৩তম, ২০২১ সালে ১০৮তম এবং ২০২০ সালে ৯৮তম।

এবারের সূচকে সবচেয়ে ওপরে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই সর্বাধিক সংখ্যক গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ পান।

যাত্রার আগে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশের প্রবেশের শর্ত পূরণ করতে হয়। কোনো গন্তব্যে আগাম ভিসার প্রয়োজন না থাকলেও সেখানে পৌঁছে ভিসা নেওয়া বা যাত্রার আগে অনলাইনে অনুমোদন সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক হতে পারে।

এ কারণে ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নিয়ম দেখে নেওয়া প্রয়োজন। পাসপোর্টের মেয়াদ, ফিরতি টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ৩৫টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন লাগবে, তা আগে নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম যাচাই না করে যাত্রা করলে গন্তব্যে প্রবেশের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা কতটি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান?

প্রদত্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী পাসপোর্ট সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ৩৫টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশ, অন-অ্যারাইভাল ভিসা অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদনের সুবিধা রয়েছে।

২. ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কত?

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। উত্তর কোরিয়াও একই অবস্থানে রয়েছে।

৩. তালিকায় থাকা কয়েকটি গন্তব্যের নাম কী?

তালিকায় ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ফিজি, জামাইকা, রুয়ান্ডা, বাহামাস ও ভানুয়াতুসহ মোট ৩৫টি গন্তব্য রয়েছে।

৪. ভিসামুক্ত প্রবেশ ও অন-অ্যারাইভাল ভিসার মধ্যে পার্থক্য কী?

ভিসামুক্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে আগাম ভিসা নিতে হয় না। অন-অ্যারাইভাল ভিসার ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ভিসা নিতে হয়। কিছু গন্তব্যে যাত্রার আগে ইলেকট্রনিক অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

৫. ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের আগে কী কী যাচাই করা জরুরি?

সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ প্রবেশবিধি, পাসপোর্টের মেয়াদ, ফিরতি টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা উচিত।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: