ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ড্রাইভিং পরীক্ষায় ফেল? আবার পরীক্ষা দেওয়ার নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ২১:৫৫:০১
ড্রাইভিং পরীক্ষায় ফেল? আবার পরীক্ষা দেওয়ার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় একবার অকৃতকার্য হলেই আবেদন বাতিল হয়ে যায় না। বাংলাদেশে শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীরা পরীক্ষায় ফেল করলে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে পুনঃপরীক্ষার তারিখ নেওয়ার সুযোগ পান। তবে এ জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। পাশাপাশি লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। কারণ মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে পুনঃপরীক্ষার পাশাপাশি লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

যাঁরা লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁদের প্রথম কাজ হলো বিআরটিএর অনলাইন পোর্টালে নিজের আবেদনের অবস্থা দেখা। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনঃপরীক্ষার আবেদন করে নতুন তারিখ অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় ফেল করলে প্রথমে যা করবেন

পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর হতাশ হয়ে নতুন করে আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের তথ্য যাচাই করুন। বিআরটিএর প্রকাশিত সেবা নির্দেশনা অনুযায়ী, পুনঃপরীক্ষার তারিখ নেওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়।

এ জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

১. বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করুন: https://bsp.brta.gov.bd

২. নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।

৩. শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য এবং পুনঃপরীক্ষার আবেদনসংক্রান্ত অপশন দেখুন।

৪. পুনঃপরীক্ষার জন্য আবেদন করে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

৫. নির্ধারিত পরীক্ষার ফি পরিশোধ করুন।

৬. পোর্টালে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পুনঃপরীক্ষার তারিখ ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করুন।

পরীক্ষার তারিখ, আবেদন এবং ফি-সংক্রান্ত তথ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে যাচাই করা উচিত। পোর্টালে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জেনে নেওয়া যেতে পারে।

পুনঃপরীক্ষার ফি কত টাকা?

বিআরটিএর প্রকাশিত সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে পুনঃপরীক্ষার তারিখ নেওয়ার জন্য পরীক্ষার ফি হিসেবে ২৩০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গেটওয়ে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

তবে টাকা জমা দেওয়ার আগে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত ফি ও নির্দেশনা যাচাই করুন। সরকারি ফি বা অনলাইন সেবার নিয়ম পরিবর্তিত হলে পোর্টালে হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে কী হবে?

পুনঃপরীক্ষার আবেদন করার আগে শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের মেয়াদ পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লার্নার লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ থেকে ছয় মাস মেয়াদি। এই মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শুধু পুনঃপরীক্ষার ফি দিলেই সব ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন হবে—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বিআরটিএর প্রকাশিত সেবা নির্দেশনায় মেয়াদ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নবায়নের জন্য মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার বা হালকা মোটরযানের একটি ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে ৫১৮ টাকা এবং দুটি ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে ৭৪৮ টাকার ফি উল্লেখ রয়েছে। তবে আবেদন করার সময় সার্ভিস পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি ও প্রযোজ্য শর্ত মিলিয়ে নিতে হবে।

অর্থাৎ, লাইসেন্সের মেয়াদ এখনো থাকলে পুনঃপরীক্ষার আবেদন করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। আর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পুনঃপরীক্ষার আগে নবায়ন বা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিআরটিএর নির্দেশনা নিশ্চিত করুন।

আবার পরীক্ষায় বসার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আগের ভুলগুলো চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। শুধু পরীক্ষার তারিখ নেওয়াই যথেষ্ট নয়; গাড়ি চালানোর নিয়ম ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

সড়কচিহ্ন, ট্রাফিক সংকেত, সড়কে চলাচলের নিয়ম, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চালকের করণীয় সম্পর্কে পড়াশোনা করুন। আগের পরীক্ষায় কোন বিষয়ে সমস্যা হয়েছিল, তা মনে করে সেই অংশে বাড়তি সময় দিন।

মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি

সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক আইন, গাড়ি চালানোর মৌলিক নিয়ম এবং যানবাহন ব্যবহারের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার চেয়ে বিষয়গুলো বুঝে শেখার চেষ্টা করুন।

ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতি

গাড়ি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, সঠিকভাবে স্টিয়ারিং ব্যবহার, আয়না দেখা, সংকেত দেওয়া, নিরাপদে থামা এবং নির্দেশনা মেনে চলার অনুশীলন করুন। মোটরসাইকেল ও গাড়ির ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতি এক রকম নয়; যে শ্রেণির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন, সেই অনুযায়ী অনুশীলন করুন।

পুনঃপরীক্ষার দিন সঙ্গে কী রাখবেন?

পরীক্ষার দিন যাওয়ার আগে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনায় উল্লেখিত কাগজপত্র যাচাই করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী সঙ্গে রাখুন:

শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি;

পুনঃপরীক্ষার তারিখ বা প্রবেশপত্রসংক্রান্ত তথ্য;

ফি পরিশোধের রসিদ বা অনলাইন পেমেন্টের প্রমাণ;

বিআরটিএর নির্দেশনায় চাওয়া অন্যান্য কাগজপত্র।

সব পরীক্ষাকেন্দ্রে বা সব ধরনের আবেদনে একই কাগজপত্র লাগবে—এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়। আপনার আবেদন ও পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

একবার ফেল করলে কি আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে?

পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেই যে সম্পূর্ণ নতুন করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করতে হবে, তা নয়। বিআরটিএর প্রকাশিত নিয়মে বিদ্যমান শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের আওতায় পুনঃপরীক্ষার তারিখ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা আবেদনে বিশেষ কোনো সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, পুনঃপরীক্ষায় ঠিক কোন অংশে বসতে হবে এবং কীভাবে তারিখ নির্ধারণ হবে, তা নিজের আবেদনের তথ্য ও বিআরটিএর নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত করতে হবে। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য—এমন অনুমান করা ঠিক নয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে পরবর্তী সুযোগ পাওয়ার জন্য বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে পুনঃপরীক্ষার আবেদন করাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ, প্রযোজ্য ফি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের নির্দেশনা যাচাই করতে হবে। আগের পরীক্ষার ভুলগুলো শুধরে যথাযথ প্রস্তুতি নিলে পরের পরীক্ষায় ভালো করার সম্ভাবনাও বাড়বে।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় ফেল করলে কি আবার পরীক্ষা দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে পুনঃপরীক্ষার তারিখের জন্য আবেদন করা যায়।

২. ড্রাইভিং লাইসেন্স পুনঃপরীক্ষার ফি কত?

বিআরটিএর প্রকাশিত সেবা নির্দেশনায় পুনঃপরীক্ষার জন্য ২৩০ টাকা ফি উল্লেখ রয়েছে। আবেদন করার সময় পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি যাচাই করুন।

৩. পুনঃপরীক্ষার তারিখ কীভাবে নেব?

বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে লগইন করে নিজের শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের তথ্য থেকে পুনঃপরীক্ষার আবেদন করতে হবে। এরপর পোর্টালের নির্দেশনা অনুসারে ফি দিয়ে তারিখ নিশ্চিত করতে হবে।

৪. লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে কী করতে হবে?

বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ থেকে ছয় মাস মেয়াদি। মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন বা পরবর্তী পরীক্ষার জন্য কী করতে হবে, তা সার্ভিস পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিস থেকে নিশ্চিত করুন।

৫. পুনঃপরীক্ষায় বসার আগে কি আবার প্রশিক্ষণ নিতে হবে?

প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অনুশীলন করা উচিত। তবে পুনঃপরীক্ষার আগে নতুন করে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে কি না, তা সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য—এমন নিশ্চিত তথ্য বিআরটিএর উল্লিখিত পুনঃপরীক্ষার নির্দেশনায় নেই।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: