ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

KOVE-এর কোন বাইক বাংলাদেশে আসতে পারে? ৬ মডেল এক নজরে

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১৫:০৭:২৪
KOVE-এর কোন বাইক বাংলাদেশে আসতে পারে? ৬ মডেল এক নজরে

বাংলাদেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের আগ্রহের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে KOVE Moto-এর ২৫০ ও ৩৫০ সিসির কয়েকটি স্পোর্টস বাইক। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে KOVE 250R, 250RR, 350R এবং 350RR মডেলগুলো তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে তালিকায় নাম থাকা মানেই সব বাইকের বিক্রি শুরু হয়েছে, এমন নয়। কয়েকটি মডেলের পেজে এখনো ‘Coming Soon’ দেখানো হচ্ছে।

চীনা ব্র্যান্ড KOVE আন্তর্জাতিক বাজারে স্পোর্টস, নেকেড, অ্যাডভেঞ্চার ও অফ-রোড মোটরসাইকেল তৈরি করে। বাংলাদেশে ব্র্যান্ডটির সম্ভাব্য মডেলগুলোর মধ্যে 250R ও 350R নেকেড বাইক এবং 250RR ও 350RR ফুল-ফেয়ার্ড স্পোর্টস বাইক হিসেবে আলাদা পরিচিতি পেতে পারে। কোন মডেল কবে বিক্রি শুরু হবে এবং দাম কত হবে, তা জানতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।

KOVE 250R: ২৫০ সিসির নেকেড স্পোর্টস বাইক

KOVE 250R-এ রয়েছে ২৪৯.৯৮ সিসির লিকুইড-কুলড, ইনলাইন দুই সিলিন্ডারের DOHC ইঞ্জিন। নির্মাতার প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৩২.১ BHP শক্তি ও ২২.৫ Nm টর্ক উৎপন্ন করে।

বাইকটিতে Sport ও Eco রাইডিং মোড, স্লিপার ক্লাচ, ক্লোজড-লুপ EFI, ডুয়াল-চ্যানেল ABS এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোল রয়েছে। এর জ্বালানি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ১৩ লিটার এবং কার্ব ওজন ১৫৩ কেজি।

নেকেড ডিজাইন ও দুই সিলিন্ডারের ইঞ্জিনের কারণে যারা স্পোর্টি চেহারার পাশাপাশি পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেন, তাঁদের কাছে মডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর বিক্রির তারিখ ও চূড়ান্ত দাম এখনো নিশ্চিত নয়।

KOVE 250RR: ফেয়ারিংযুক্ত স্পোর্টস বাইক

250R-এর মতো KOVE 250RR-এও ২৪৯.৯৮ সিসির লিকুইড-কুলড, ইনলাইন দুই সিলিন্ডারের ইঞ্জিন রয়েছে। এর সর্বোচ্চ শক্তি ৩২.১ BHP এবং সর্বোচ্চ টর্ক ২২.৫ Nm।

দুটি মডেলের মূল পার্থক্য নকশায়। 250RR-এ রয়েছে ফুল ফেয়ারিং, যা বাইকটিকে স্পোর্টস বাইকের পরিচিত রেসিং-অনুপ্রাণিত চেহারা দিয়েছে। এতে Sport ও Eco মোড, স্লিপার ক্লাচ, EFI, ডুয়াল-চ্যানেল ABS এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোল রয়েছে।

বাইকটির জ্বালানি ট্যাংক ১৩ লিটারের এবং কার্ব ওজন ১৫৩ কেজি। যারা নেকেড বাইকের বদলে ফেয়ারিংযুক্ত স্পোর্টস বাইক পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে। তবে স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

KOVE 350R: বেশি শক্তির নেকেড বাইক

KOVE 350R-এ রয়েছে ৩৪৪ সিসির লিকুইড-কুলড, ইনলাইন দুই সিলিন্ডারের DOHC ইঞ্জিন। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এটি সর্বোচ্চ ৪৬.৯ BHP শক্তি ও ৩২.২ Nm টর্ক উৎপন্ন করে।

ইঞ্জিনের ক্ষমতা ২৫০ সিসি মডেলগুলোর তুলনায় বেশি হওয়ায় পারফরম্যান্সকেন্দ্রিক নেকেড বাইক খোঁজা চালকদের কাছে এটি আগ্রহের কারণ হতে পারে। বাইকটিতে Sport ও Eco রাইডিং মোড, স্লিপার ক্লাচ, ক্লোজড-লুপ EFI, ডুয়াল-চ্যানেল ABS এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোল রয়েছে।

প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, এর জ্বালানি ট্যাংক ১৩ লিটারের, কার্ব ওজন ১৫৩ কেজি এবং সিটের উচ্চতা ৭৯০ মিলিমিটার। তবে বাইকটির প্রকৃত পারফরম্যান্স ও চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বাস্তব পরীক্ষা প্রয়োজন।

KOVE 350RR: ৩৪৪ সিসির ফুল-ফেয়ার্ড বাইক

KOVE 350RR-এও ৩৪৪ সিসির লিকুইড-কুলড, ইনলাইন দুই সিলিন্ডারের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর সর্বোচ্চ শক্তি ৪৬.৯ BHP এবং সর্বোচ্চ টর্ক ৩২.২ Nm।

বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে 350RR-এর DSA সংস্করণ তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, এই সংস্করণে ১৫ লিটারের জ্বালানি ট্যাংক, ১৫৭ কেজি কার্ব ওজন এবং ৭৯০ মিলিমিটার সিটের উচ্চতা রয়েছে। এতে Sport ও Eco মোড, স্লিপার ক্লাচ, EFI এবং ডুয়াল-চ্যানেল ABS-এর মতো ফিচারও রয়েছে।

আরও পড়ুন:

Royal Enfield Classic 350-এর দাম ও ফিচার জানুন

Hero Xpulse 200 4V নাকি Pro, কোন বাইকটি আপনার জন্য?

তবে 350RR-এর বিভিন্ন সংস্করণে যন্ত্রাংশ ও ফিচারের পার্থক্য থাকতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সংস্করণটি বাংলাদেশে বিক্রি শুরু হলে তার স্পেসিফিকেশন আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

১২৫ সিসি থেকে ৩৭৫ সিসি: আর কোন মডেল আলোচনায়?

KOVE-এর আন্তর্জাতিক মডেল তালিকায় 250R ও 250RR-এর পাশাপাশি 350R ও 350RR ছাড়াও আরও বিভিন্ন শ্রেণির মোটরসাইকেল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো মডেল পাওয়া গেলেই সেটি বাংলাদেশে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

তাই ১২৫ সিসি থেকে ৩৭৫ সিসির মধ্যে KOVE-এর সম্ভাব্য বাইক নিয়ে আলোচনা করতে হলে স্থানীয় ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মডেলগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তিযুক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে 250R, 250RR, 350R এবং 350RR-ই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

KOVE বাইকের দাম কত হতে পারে?

বাংলাদেশে আলোচিত মডেলগুলোর চূড়ান্ত দাম সম্পর্কে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে এখন নির্দিষ্ট মূল্য উল্লেখ করলে তা অনুমাননির্ভর হবে। আমদানি খরচ, কর, স্থানীয় বাজারনীতি, ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবার ওপরও দাম নির্ভর করতে পারে।

বাইক কেনার আগে অনুমোদিত পরিবেশকের কাছ থেকে দাম, ওয়ারেন্টি, সার্ভিস সেন্টার, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং নিবন্ধনযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে KOVE বাইক কবে পাওয়া যাবে?

KOVE-এর বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে মডেলগুলো তালিকাভুক্ত থাকলেও সবগুলোর বিক্রি শুরুর তারিখ নিশ্চিত নয়। কয়েকটি পণ্যের পেজে ‘Coming Soon’ লেখা থাকায় এগুলোকে ইতিমধ্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সব মিলিয়ে, KOVE 250R, 250RR, 350R ও 350RR বাংলাদেশের বাজারে সম্ভাব্য আগ্রহের চারটি মডেল। তবে কোন বাইক আগে বিক্রি শুরু হবে, দাম কত হবে এবং স্থানীয়ভাবে কী ধরনের ওয়ারেন্টি ও সেবা পাওয়া যাবে—এসব প্রশ্নের উত্তর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. KOVE-এর কোন বাইকগুলো বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত?

KOVE 250R, 250RR, 350R এবং 350RR মডেলগুলো বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

২. KOVE 250R ও 250RR-এর ইঞ্জিন কত সিসি?

দুটি মডেলেই ২৪৯.৯৮ সিসির লিকুইড-কুলড, দুই সিলিন্ডারের ইঞ্জিন রয়েছে।

৩. KOVE 350R ও 350RR-এর ইঞ্জিন কত সিসি?

দুটি মডেলেই ৩৪৪ সিসির ইঞ্জিন রয়েছে। 350R নেকেড ডিজাইনের, আর 350RR ফুল-ফেয়ার্ড স্পোর্টস বাইক।

৪. KOVE বাইকের বাংলাদেশি দাম কত?

আলোচিত মডেলগুলোর চূড়ান্ত বাংলাদেশি দাম নিশ্চিত নয়। স্থানীয় পরিবেশকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

৫. KOVE-এর বাইকগুলো কি বাংলাদেশে বিক্রি শুরু হয়েছে?

ওয়েবসাইটে মডেল তালিকাভুক্ত থাকলেও কয়েকটির পেজে ‘Coming Soon’ লেখা রয়েছে। তাই প্রতিটি মডেলের বিক্রির অবস্থা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: