মুনাফা বেড়েছে ১৩২%, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ডিভিডেন্ডে চমক?
শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১৩২ শতাংশের বেশি, আর ব্যবসার কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছাড়িয়েছে ২৩১ শতাংশ। সঙ্গে বেড়েছে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও। এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক হিসাবে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ফলে আগের অর্থবছরে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করা কোম্পানিটি এবার শেয়ারহোল্ডারদের কতটা লভ্যাংশ দেবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কোম্পানিটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ২৬ পয়সা বা প্রায় ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
এ সময় শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ১ টাকা ৭৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৭৩ পয়সা। অন্যদিকে, পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ এবং তা বাদ দিয়ে—দুই হিসাবেই শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে। তবে এসব ইতিবাচক সূচক থেকে এবার কত শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পূর্ণ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব ও পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ।
আয় ও নগদ প্রবাহ—দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের দেওয়া ব্যাখ্যায় আয় বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। বিক্রয় আয় ও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বাড়ার পাশাপাশি স্থগিত কর আয় বৃদ্ধি এবং নতুন এলাকায় বিপণন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিক্রির পরিধি বাড়ানোকে প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি।
নয় মাসের হিসাবে শেয়ারপ্রতি আয় যেখানে বেড়েছে প্রায় ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ, সেখানে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৩১ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাবভিত্তিক মুনাফার পাশাপাশি ব্যবসার কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ আসার সূচকেও উন্নতি হয়েছে।
তবে আয়, নগদ প্রবাহ ও নিট সম্পদমূল্য একই বিষয় নয়। শেয়ারপ্রতি আয় কোম্পানির হিসাবভিত্তিক মুনাফার চিত্র তুলে ধরে। পরিচালন নগদ প্রবাহ দেখায় ব্যবসার কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ কেমন। আর নিট সম্পদমূল্য হলো সম্পদ থেকে দায় বাদ দেওয়ার পর শেয়ারপ্রতি অবশিষ্ট হিসাবভিত্তিক মূল্য। তাই ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনা বুঝতে এই সূচকগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিন প্রান্তিকেই বেড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়
চলতি অর্থবছরের প্রতিটি প্রান্তিকেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় বেশি ছিল। তবে প্রবৃদ্ধির হার একেক প্রান্তিকে একেক রকম হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ২৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ২৪ পয়সা। ফলে আয় বেড়েছে ১ টাকা বা প্রায় ৪১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা, স্থগিত কর আয় ও বিক্রয় আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বিপণন এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ আয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। নতুন এলাকায় বিপণন চালুর মাধ্যমে বিক্রির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগও কোম্পানির ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন নগদ প্রবাহও বেড়েছে। শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ২ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে ১ টাকা ৪২ পয়সা বা প্রায় ২৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় বাড়ায় এই উন্নতি হয়েছে।
একই সময়ে ২০২৫ সালের ৩০ জুনের ৫৪ টাকা ৮ পয়সা থেকে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ৫৫ টাকা ৩৩ পয়সা হয়। পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে সম্পদমূল্য ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ দুই হিসাবেই প্রথম তিন মাসে সম্পদমূল্য বেড়েছে ১ টাকা ২৫ পয়সা।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় বাড়লেও প্রবৃদ্ধির হার কমেছে
২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে তা ছিল ৭২ পয়সা। ফলে আয় বেড়েছে ৬২ পয়সা বা প্রায় ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ।
প্রথম প্রান্তিকের ১ টাকা ২৪ পয়সার তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় আরও বেড়ে ১ টাকা ৩৪ পয়সায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকেই কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি এক টাকার বেশি আয় করেছে। তবে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কম ছিল।
কোম্পানির ব্যাখ্যায়, বিক্রয় আয়, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ও স্থগিত কর আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বিপণন এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
প্রথম ছয় মাসের সম্মিলিত হিসাবেও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৫৮ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৬ পয়সা। ফলে ছয় মাসে আয় বেড়েছে ১ টাকা ৬২ পয়সা বা প্রায় ১৬৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ৮৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ১ পয়সা হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ টাকা ১৪ পয়সা বা প্রায় ৩৬০ দশমিক ৯২ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫৬ টাকা ৭ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে ছিল ৪২ টাকা ৮৫ পয়সা। ৩০ জুনের তুলনায় এই দুই সূচক বেড়েছে যথাক্রমে ১ টাকা ৯৯ পয়সা ও ২ টাকা।
তৃতীয় প্রান্তিকের আয় নয় মাসের ফলকে শক্তিশালী করেছে
২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৬৪ পয়সা বা প্রায় ৮৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ২৪ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ টাকা ৩৪ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রতিটি প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায়ও আয় বেড়েছে।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকের আয় বৃদ্ধিতেও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা, স্থগিত কর আয় ও বিক্রয় আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বিপণন এলাকায় বিক্রির পরিধি সম্প্রসারণ ভূমিকা রেখেছে। তবে প্রকাশিত তথ্যে কোনো নির্দিষ্ট নতুন প্রকল্প, ব্যবসায়িক চুক্তি বা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিকে এই প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
তৃতীয় প্রান্তিকের ফল যুক্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা। ফলে নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ২৬ পয়সা বা প্রায় ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
সম্পদমূল্যও বেড়েছে, দুই হিসাবেই ইতিবাচক পরিবর্তন
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বেড়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫৪ টাকা ৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে ৫৫ টাকা ৩৩ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ৫৬ টাকা ৭ পয়সা হয়। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ এই মূল্য আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ টাকা ৪৬ পয়সা।
ফলে নয় মাসে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা বা প্রায় ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ২০২৫ সালের ৩০ জুন ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ৪২ টাকা ১০ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ৪২ টাকা ৮৫ পয়সায় উন্নীত হয়। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তা দাঁড়ায় ৪৪ টাকা ২৫ পয়সা। এই হিসাবে নয় মাসে বৃদ্ধি হয়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা প্রায় ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় দুই ধরনের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যই বেড়েছে। তবে সম্পদমূল্য বাড়া মানেই একই পরিমাণ নগদ অর্থ হাতে থাকা নয়। ডিভিডেন্ড দেওয়ার সামর্থ্য যাচাইয়ে নগদ অর্থের অবস্থা ও অন্যান্য আর্থিক দায়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
ঋণমান ‘বিবিবি’, পূর্বাভাস স্থিতিশীল
ওয়াসো ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজকে দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবিবি’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’ ঋণমান দিয়েছে। ঋণমানের পূর্বাভাস রাখা হয়েছে স্থিতিশীল।
২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হালনাগাদ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে স্থিতিশীল ঋণমান থাকলেই কোম্পানি বেশি ডিভিডেন্ড দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। লভ্যাংশের সিদ্ধান্তে পূর্ণ বছরের আয়, নগদ অর্থের প্রাপ্যতা, আর্থিক দায় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজনও বিবেচনায় আসবে।
গত অর্থবছরে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড, এবার কী সিদ্ধান্ত?
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদ পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে অন্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। এবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লভ্যাংশের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট হার ঘোষণা করা হয়নি।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে। পূর্ণ বছরের হিসাব পর্যালোচনার পর ডিভিডেন্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এবার লভ্যাংশ বাড়ার সম্ভাবনার পক্ষে রয়েছে নয় মাসের আয় ও পরিচালন নগদ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা হয়েছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ১ টাকা ৭৩ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৭৩ পয়সায় পৌঁছেছে। পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
তবে এসব সূচকের উন্নতি থেকে সরাসরি বলা যায় না যে এবার ১০ শতাংশের বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে। শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির হার ও ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির হার এক নয়। কোম্পানি অর্জিত মুনাফার কতটা শেয়ারহোল্ডারদের দেবে এবং কতটা ব্যবসার প্রয়োজনে রেখে দেবে, তা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের বিষয়।
কোন বিষয়গুলো ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে?
প্রথম নয় মাসের আয় ও নগদ প্রবাহের উন্নতি লভ্যাংশ বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তৈরি করতে পারে। অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকেও মুনাফা বাড়লে এবং পরিচালন নগদ প্রবাহের ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। নতুন বিপণন এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে বিক্রি বাড়ানোর কৌশল সফল হলে ভবিষ্যৎ আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির পেছনে স্থগিত কর আয় বৃদ্ধির ভূমিকা রয়েছে বলে কোম্পানি জানিয়েছে। তাই পুরো প্রবৃদ্ধিকেই মূল ব্যবসার বিক্রয় ও পরিচালন কার্যক্রমের স্থায়ী উন্নতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। আয় বৃদ্ধির কতটা মূল ব্যবসা থেকে এসেছে, তা বুঝতে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নতুন এলাকায় বিপণন কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ও হতে পারে। বিক্রয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিপণন, পণ্য সরবরাহ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়লে মুনাফার একটি অংশ ব্যবসাতেই পুনর্বিনিয়োগ করতে হতে পারে। এ ছাড়া নগদ অর্থের স্থিতি, ঋণ ও অন্যান্য দায়, মূলধনী ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও ডিভিডেন্ডের পরিমাণ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
১০ শতাংশের বেশি ডিভিডেন্ড কি সম্ভব?
প্রথম নয় মাসের ফলাফল অনুযায়ী, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ১০ শতাংশের বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যায় না। শেয়ারপ্রতি আয় ও পরিচালন নগদ প্রবাহের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং নিট সম্পদমূল্যের উন্নতি কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
তবে ১৫ শতাংশ, ২০ শতাংশ কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট হারে ডিভিডেন্ড ঘোষণার পূর্বাভাস দেওয়ার মতো তথ্য এখনো নেই। এ জন্য পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা, নগদ অর্থের প্রকৃত স্থিতি, বিতরণযোগ্য মুনাফা, আর্থিক দায় এবং পরিচালনা পর্ষদের আনুষ্ঠানিক সুপারিশের অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফল এবার ডিভিডেন্ড নিয়ে প্রত্যাশা তৈরির মতো। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অর্থবছর শেষে কোম্পানির আয় ও নগদ অর্থের অবস্থার ওপর। ৩১ অক্টোবরের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নিরীক্ষিত হিসাব বিবেচনার পর লভ্যাংশের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় কত?
প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা।
২. নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় কত শতাংশ বেড়েছে?
আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ২৬ পয়সা বা প্রায় ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
৩. এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের পরিচালন নগদ প্রবাহ কত হয়েছে?
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ৫ টাকা ৭৩ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা।
৪. গত অর্থবছরে কোম্পানিটি কত শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল?
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে অন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল কোম্পানিটি।
৫. ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্ত কবে আসতে পারে?
পরিচালনা পর্ষদের সভা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে। তবে ডিভিডেন্ডের নির্দিষ্ট হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৪টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৮টি দেশের টাকার মান