নতুন আইপিওর শেয়ার বিক্রিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব বিএসইসির
নতুন কোম্পানির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কত দ্রুত শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন, সেই নিয়ম শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আইপিওতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের অর্ধেক বিক্রির জন্য আর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হবে না তাঁদের। ফলে কোনো কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরুর প্রথম দিনেই বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে নতুন শেয়ারের দাম নিয়ে অস্থিরতা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও সামনে এসেছে।
বিএসইসির প্রকাশিত আইপিও বিধিমালার খসড়ায় শুধু শেয়ার বিক্রির সময়সীমা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের হারেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তাঁদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার কীভাবে কার্যকর হবে, সেই সিদ্ধান্ত স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শেয়ার বিক্রির অপেক্ষা কমবে, বদলাবে লক-ইনের কাঠামো
বর্তমান ব্যবস্থায় আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাওয়া সব শেয়ার একই মেয়াদে আটকে থাকে না। ২০২৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী, বরাদ্দের ৫০ শতাংশ ৯০ দিন, ২৫ শতাংশ ১২০ দিন এবং বাকি ২৫ শতাংশ ১৮০ দিনের লক-ইনের আওতায় থাকে।
বিএসইসির প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এই সময়সীমা নতুনভাবে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রথম ৫০ শতাংশ শেয়ারের ওপর থেকে লক-ইন পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পরের ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় ১২০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন এবং শেষ ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৯০ দিন করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দের অর্ধেক শেয়ার বিক্রির জন্য কোনো লক-ইন মেয়াদ থাকবে না। বাকি অর্ধেকের একাংশ বিক্রি করা যাবে ৬০ দিন পর এবং অন্য অংশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৯০ দিন।
প্রথম দিনের দাম বাড়লে লাভের সুযোগ কতটা
নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার প্রথম দিনেই দুই থেকে তিন গুণ দামে লেনদেন হওয়ার নজির রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের অর্ধেক বিক্রিতে বাধা না থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মুনাফা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
এই সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শেয়ারের প্রাথমিক দর নির্ধারণের বিষয়টিও। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইস্যুয়ার কোম্পানির মূল্যায়ন, রোড শো ও বিডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের দাম নির্ধারিত হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁদের নির্ধারিত দর ও পরবর্তী সময়ে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একাংশের উদ্বেগ, বেশি দরে বিড করার পরও যদি বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের অর্ধেক প্রথম দিনেই বিক্রি করা যায়, তাহলে শেয়ারের দর নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। প্রথম দিনের লেনদেনে মূল্যসীমা কার্যকর না থাকলে দাম ওঠানামার পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের ওপর লক-ইন থাকা দরকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের উন্নত শেয়ারবাজারেও বিভিন্ন মেয়াদে এ ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে।
দেশীয় বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা বিবেচনায় লক-ইনের মেয়াদ কমানোর সুযোগ থাকলেও বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ৫০ শতাংশ সম্পূর্ণভাবে এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা সমীচীন নয় বলে মনে করেন তিনি।
ড. মাহমুদ ওসমান ইমামের আশঙ্কা, লক-ইন না থাকলে শেয়ারের দাম নিয়ে কারসাজির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ক্ষতিকর প্রভাব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর পড়তে পারে। অতীতেও লক-ইনের অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লক-ইন শিথিল হলে তারল্য বাড়তে পারে: মনিরুজ্জামান
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পক্ষে ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। তাঁর মতে, বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের অর্ধেক দ্রুত বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়তে পারে এবং তারল্য প্রবাহ উন্নত হতে পারে।
দীর্ঘ সময় শেয়ার বিক্রি করতে না পারার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে থাকে বলে তিনি মনে করেন। এতে নতুন বিনিয়োগের জন্য অর্থ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়। বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে বিনিয়োগকারীরা সেই অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বাজারে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
শেয়ারের দর নির্ধারণে কারসাজির আশঙ্কা সম্পর্কে মনিরুজ্জামানের বক্তব্য হলো, ডাচ অকশন পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিজেদের বিড করা দরেই শেয়ার কিনতে হয়। এ কারণে তাঁর মতে, এই ব্যবস্থায় কারসাজির সুযোগ থাকার কথা নয়। তিনি আরও মনে করেন, ইস্যুয়ার কোম্পানির আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়।
সার্কিট ব্রেকার নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
লক-ইন বিধি শিথিল করার পাশাপাশি নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে মূল্যসীমা প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং বিধিমালায় তালিকাভুক্তির পর প্রথম দুই দিন শেয়ারের দামের ওপর কোনো মূল্যসীমা না থাকার বিধান ছিল।
পরে ২০২১ সালের ১৭ জুন বিএসইসি নির্দেশনা জারি করে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রেও সার্কিট ব্রেকার কার্যকর করে। এর আওতায় আগের দিনের দরের তুলনায় শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারে।
তবে নতুন খসড়া বিধিমালায় সার্কিট ব্রেকার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নতুন কোম্পানির শেয়ারে আগের মতো মূল্যসীমা কার্যকর থাকবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাদি হাসান জানিয়েছেন, বিএসইসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন নতুন কোনো কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নতুন আইপিও বিধিমালা প্রণয়নের পরিপ্রেক্ষিতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক কোটা কমানোর পরিকল্পনা
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার বরাদ্দের হারও সংশোধনের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তাঁদের বর্তমান ৪০ শতাংশ কোটা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
তবে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ বরাদ্দ আগের মতো বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে, দুই পদ্ধতিতেই মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ১০ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দের ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিড শেয়ারের প্রাথমিক দর নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে তাঁদের বরাদ্দ, শেয়ার বিক্রির সময়সীমা এবং নতুন তালিকাভুক্তির পর মূল্যসীমা—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে বাজারের লেনদেনের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেই পরিষ্কার হবে নতুন নিয়মের প্রভাব
বিএসইসির খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ৫০ শতাংশে লক-ইন তুলে দেওয়া, বাকি শেয়ারের লক-ইন কমানো এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তাঁদের বরাদ্দের হার হ্রাস করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রস্তাব কার্যকর হলে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি ও বরাদ্দের বিদ্যমান কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে।
একদিকে শেয়ার বিক্রির সুযোগ বাড়লে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অর্থ পুনর্বিনিয়োগ সহজ হতে পারে বলে মত দিয়েছেন মনিরুজ্জামান। অন্যদিকে, দ্রুত শেয়ার বিক্রির সুযোগ ও মূল্যসীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম।
তবে খসড়ার প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত বিধিমালা নয়। প্রস্তাবগুলোর চূড়ান্ত রূপ এবং নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার প্রয়োগ নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর সিদ্ধান্তের পরই পরিবর্তিত নিয়মের প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. আইপিওর শেয়ারে কী পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএসইসি?
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ৫০ শতাংশে লক-ইন তুলে দেওয়া এবং বাকি শেয়ারের লক-ইন মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
২. প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রথম দিনেই কত শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা যাবে?
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ৫০ শতাংশ বিক্রি করতে পারবেন। এই অংশের ক্ষেত্রে কোনো লক-ইন রাখার প্রস্তাব নেই।
৩. বাকি শেয়ারের লক-ইন কত দিন হবে?
প্রস্তাবিত নিয়মে পরবর্তী ২৫ শতাংশ শেয়ারের জন্য ৬০ দিন এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশের জন্য ৯০ দিনের লক-ইন রাখার কথা বলা হয়েছে।
৪. নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার থাকবে কি?
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খসড়ায় বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
৫. বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কোটা কত হতে পারে?
বর্তমান ৪০ শতাংশ কোটা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএসইসি। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে তাঁদের ১০ শতাংশ কোটা বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব
- একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজকের সোনার দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম
- OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৮টি দেশের টাকার মান
- আজকের স্বর্ণের দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- Pulsar F250-এ ২০ হাজার টাকা ছাড়, N160 ও 150-এ উপহার
- Royal Enfield Himalayan 750-এর দাম ও লঞ্চ নিয়ে যা জানা গেল
- Yamaha FZS V5 Hybrid-এর দাম কত? ফিচার ও মাইলেজ জানুন
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৯টি দেশের টাকার বিনিময় হার