ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা নিয়ে তানজিম সাইয়ারা তটিনীর স্পষ্ট বক্তব্য

বিনোদন ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২১:৫১:২৬
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা নিয়ে তানজিম সাইয়ারা তটিনীর স্পষ্ট বক্তব্য

একজনের সাফল্যকে আরেকজনের গন্তব্য হিসেবে দেখতে চান না ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। অভিনয়জগতে পথচলার সময় প্রায়ই তাকে শুনতে হয়, তিনি নাকি মেহজাবীন চৌধুরীর মতো কিংবা ধীরে ধীরে মেহজাবীনের জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছেন। এমন মন্তব্যে বিরক্তি না থাকলেও তটিনীর কাছে বিষয়টি অন্যভাবে দেখার। তার মতে, মেহজাবীনের মতো গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনা হওয়া আনন্দের, কিন্তু প্রত্যেক শিল্পীর পরিচয় ও অবস্থান আলাদা।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তটিনী। মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে তিনি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখেন না। বরং অভিজ্ঞ এই অভিনেত্রীর কাজের ধরন, ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এবং পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষা নেওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।

তুলনা নয়, নিজের পরিচয়েই এগিয়ে যেতে চান তটিনী

অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে তুলনা নিয়ে তটিনীর অবস্থান পরিষ্কার। কারও সঙ্গে নিজের অবস্থান মেলানো কিংবা অন্য একজনের জায়গায় পৌঁছানোকে লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া তার পছন্দ নয়। মেহজাবীনের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর সঙ্গে নাম জড়ানোকে ইতিবাচকভাবে নিলেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেন তিনি।

তটিনী বলেন, “অনেকেই বলেন- তুমি মেহজাবীনের মতো, মেহজাবীনের জায়গায় যাচ্ছ। আসলে কেউ কারো জায়গায় যেতে পারে না।

“আমি কারো সঙ্গে নিজেকে তুলনা করব না, কারো জায়গায় ভাবাটাও ঠিক না। শিল্প অঙ্গনে এই তুলনা হয় না। মেহজাবীন আপু অনেক বড়, গুণী একজন শিল্পী। তবে, তুলনা করলে ভালো লাগে। তার মতো গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনাও তো বড় পাওয়া।”

তার বক্তব্যে একই সঙ্গে উঠে এসেছে দুটি বিষয়—মেহজাবীনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ভাবনা। তটিনীর কাছে এই তুলনা অন্যের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার বিষয় নয়; বরং একজন গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনা হওয়াকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার বিষয়।

মেহজাবীনের ক্যারিয়ার থেকে শেখার কথা বললেন তটিনী

তটিনীর দৃষ্টিতে, মেহজাবীনের অভিজ্ঞতা শুধু তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিনয়ে যারা এখন কাজ করছেন কিংবা ভবিষ্যতে এই অঙ্গনে আসবেন, তাদের জন্যও তার পথচলায় শেখার অনেক কিছু রয়েছে।

মেহজাবীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, কাজের প্রতি সততা এবং নিরলস পরিশ্রমের বিষয়গুলো উল্লেখ করে তটিনী বলেন, “আমাদের জেনারেশন বা পরের জেনারেশনের জন্য মেহজাবীন আপু একটা উদাহরণ। তার ক্যারিয়ারে এগিয়ে চলা, কাজের প্রতি সততা, তার পরিশ্রম, তার অনেক অভিজ্ঞতা, তার কাছ থেকে আমাদের সবার শেখা উচিত।”

তটিনীর এই বক্তব্যে বোঝা যায়, একজন শিল্পীকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিনি শুধু অভিনয়ের দক্ষতা বা জনপ্রিয়তাকে সামনে রাখেন না। দীর্ঘ পথচলায় কাজের প্রতি নিষ্ঠা বজায় রাখা এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয়টিও তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু অভিনয় নয়, ব্যক্তিত্ব থেকেও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন

তটিনীর অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই মেহজাবীনকে অনুসরণ করার পরামর্শ পেয়েছেন তিনি। তবে সেই পরামর্শের পরিধি ছিল অভিনয় ও ক্যারিয়ার গঠনের বাইরেও। মেহজাবীন ব্যক্তি হিসেবে কেমন, তার আচরণ কেমন—এসব দিকও অনুসরণ করার কথা তাকে বলা হয়েছিল।

নিজের শুরুর সময়ের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তটিনী বলেন, “আমি যখন অভিনয়ে আসি, তখনই অনেকে আমাকে একটা কথাই বলেছিলেন, যদি কারও মতো হতে চাও, তাহলে মেহজাবীনকে ফলো করো। আর শুধু ক্যারিয়ার নয়, সে মানুষ হিসেবে কেমন, তার আচার-আচরণ সবই ফলো করার কথা বলতেন। কারণ, সিনিয়রদের কাছ থেকেই আমাদের অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত।”

আরও পড়ুন:‘তোমার ঠিকানায়’র পর আজ নতুন নাটক নিয়ে খায়রুল বাসার–সাদনিমা

তটিনীর কথায়, জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্ব নতুনদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা নিয়ে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে তাই তিনি প্রতিযোগিতার চেয়ে শেখার বিষয়টিকেই সামনে এনেছেন। অন্যের জায়গায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাছ থেকে ভালো দিকগুলো গ্রহণ করে নিজের পথে এগিয়ে চলাই তার বক্তব্যের মূল সুর।

FAQ,

১. মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা নিয়ে তটিনী কী বলেছেন?

তটিনী জানিয়েছেন, মেহজাবীনের মতো গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনা হওয়া তার কাছে ভালো লাগার বিষয়। তবে তিনি কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে চান না।

২. তটিনী কি মেহজাবীনের জায়গায় যেতে চান?

না। তটিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন শিল্পী অন্য শিল্পীর জায়গায় যেতে পারেন না। প্রত্যেকের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে।

৩. মেহজাবীনের কোন বিষয়গুলো থেকে শেখার কথা বলেছেন তটিনী?

তার ক্যারিয়ারে এগিয়ে চলা, কাজের প্রতি সততা, পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতা থেকে শেখার কথা বলেছেন তটিনী।

৪. অভিনয়ে আসার পর তটিনীকে কী পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল?

তাকে মেহজাবীনকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব ও আচার-আচরণ অনুসরণের বিষয়টিও ছিল।

৫. তটিনী কেন মেহজাবীনকে নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ মনে করেন?

তটিনীর মতে, মেহজাবীনের ক্যারিয়ার, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতা বর্তমান এবং পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য শেখার বিষয়।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: