ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশে আর ফেরা হবে কি না, জানালেন পিনাকী ভট্টাচার্য

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১৫:০৬:২৫
বাংলাদেশে আর ফেরা হবে কি না, জানালেন পিনাকী ভট্টাচার্য

একসময় বাংলাদেশে ফেরার জন্য প্রবল আগ্রহ থাকলেও এখন আর সেই আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন না অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক ও চিকিৎসক পিনাকী ভট্টাচার্য। এমনকি ভবিষ্যতে আর কখনো বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে দেশকে ঘিরে একটি প্রত্যাশা এখনো রয়ে গেছে তাঁর মনে। জীবনের শেষ দিনেও যদি মেধাবীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি জনগণের সরকার দেখে যেতে পারেন, সেটিকেই বড় প্রাপ্তি মনে করবেন পিনাকী।

নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান অবস্থান এবং জীবনের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই পোস্টে তুলে ধরেছেন এমন এক অভিজ্ঞতা, যখন দীর্ঘ সময়ের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠস্বর। প্রায় তিন মাসের চিকিৎসা ও স্পিচ থেরাপির পর ফিরে পেয়েছিলেন কথা বলার ক্ষমতা।

দেশে ফেরার ইচ্ছা বদলেছে, বাংলাদেশের জন্য প্রত্যাশা রয়ে গেছে

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে ফেরার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল পিনাকীর। কিন্তু নানা বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।

বর্তমানে দেশে ফেরার বিষয়ে আগের মতো আবেগ বা টান অনুভব করেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। অতীতে পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, হয়তো জীবনে আর কখনো বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা সম্ভব হবে না।

তবে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা জানাতে দ্বিধা করেননি পিনাকী। তাঁর চাওয়া, মেধাবীদের নেতৃত্বে দেশে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। জীবনের শেষ দিনেও এমন সরকার দেখে যেতে পারলে সেটিই হবে তাঁর বড় প্রাপ্তি। ফিরে পাওয়া কণ্ঠ দিয়ে এই আকাঙ্ক্ষার কথা বারবার বলে যেতে চান তিনি।

যে অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছে জীবন সম্পর্কে তাঁর ভাবনা

নিজের কণ্ঠস্বর হারানোর ঘটনাকে জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন পিনাকী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্ভবত ২০১৬ সালের। এক সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বুঝতে পারেন, গলা বসে গেছে। কথা বলার চেষ্টা করেও স্বাভাবিক আওয়াজ বের করতে পারছিলেন না।

শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ গলার সমস্যা মনে করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও গার্গল করেন। কিন্তু এক সপ্তাহেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। উল্টো কথা বলার সক্ষমতা ক্রমেই কমতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর মুখ দিয়ে শুধু অস্পষ্ট শব্দ বের হতো। অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কাগজে লিখে নিজের কথা বোঝাতে হতো।

কথা বলেই যাঁর কাজ ও দৈনন্দিন জীবন পরিচালিত হতো, তাঁর জন্য এই পরিবর্তন ছিল বড় ধাক্কা। প্রথমে অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। স্টেরয়েডসহ বিভিন্ন ওষুধ সেবনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পরে নিজের শিক্ষক ও ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহর পরামর্শ নেন।

পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তাঁর গলার একটি ভোকাল কর্ড সচল থাকলেও অন্য পাশেরটি সম্পূর্ণ নিশ্চল হয়ে গেছে। এ খবর শুনে পিনাকী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। চিকিৎসক আরও জানিয়েছিলেন, কিছুটা উন্নতি সম্ভব হলেও আগের মতো কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্রায় ৫০ বছর বয়সে নতুন করে শব্দ উচ্চারণ শিখতে হয়েছে

কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানানো হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে স্পিচ থেরাপি শুরু করেন পিনাকী। প্রায় তিন মাস ধরে তাঁকে নিয়মিত থেরাপি নিতে হয়। পাশাপাশি চলতে থাকে শব্দ ও উচ্চারণের অনুশীলন।

নিজের পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বছর বয়সে তাঁকে শিশুর মতো করে শব্দ উচ্চারণের চর্চা করতে হয়েছে। থেরাপির অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু ইংরেজি বাক্যও বারবার বলতে হতো।

এই প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি ঘটনা তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছিল। একদিন থেরাপিস্টের অনুরোধে সাউন্ডক্লাউডে নিজের পুরোনো কণ্ঠে আবৃত্তি শোনেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া নিজের কণ্ঠ শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, যেন অতীতের কোনো স্মৃতির সঙ্গে আবার দেখা হচ্ছে।

থেরাপির একটি বাক্য বলতে গিয়েই ফিরে আসে কণ্ঠ

দীর্ঘ অনুশীলনের প্রায় তিন মাসের কাছাকাছি সময়ে একটি বাক্য উচ্চারণ করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে কয়েক মুহূর্তের জন্য কণ্ঠস্বর ফিরে পান পিনাকী। এরপর কখনো কণ্ঠ ফিরে আসছিল, আবার কখনো হারিয়ে যাচ্ছিল। এভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সক্ষমতা ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই পরিবর্তনে আনন্দিত হয়ে নিজের শিক্ষকের কাছে যান পিনাকী। ভোকাল কর্ডের অবস্থা যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখার অনুরোধ জানান। কিন্তু চিকিৎসক তাতে সম্মতি দেননি।

চিকিৎসকের যুক্তি ছিল, পিনাকী যখন আবার কথা বলতে পারছেন, তখন সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরীক্ষার পর যদি দেখা যায় ভোকাল কর্ড আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি, তাহলে ফলাফল জেনে তাঁর মন খারাপ হতে পারে।

শিক্ষকের এই সিদ্ধান্তকে এখনো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখেন পিনাকী। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সেই সময়ের কথা।

হারানো কণ্ঠ ফিরে পাওয়াকে সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ মনে করেন

কণ্ঠস্বর হারানো এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর তা ফিরে পাওয়ার অভিজ্ঞতা পিনাকীর জীবন সম্পর্কে চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন এনেছে। নিজের কণ্ঠ ফিরে পাওয়াকে সৃষ্টিকর্তার বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে দেখেন তিনি।

এই অভিজ্ঞতার পর বস্তুগত সম্পদ কিংবা সঞ্চয় হারানোর ভয় তাঁর মধ্যে আর কাজ করে না বলে জানিয়েছেন। তাঁর কাছে ফিরে পাওয়া কণ্ঠস্বর কেবল কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পাওয়া নয়, বরং জীবনের একটি বিশেষ প্রাপ্তি।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেছেন পিনাকী। বাংলাদেশে মেধাবীদের নেতৃত্বে জনগণের সরকার দেখে যাওয়ার প্রত্যাশাই এখন তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছাগুলোর অন্যতম।

FAQ

১. পিনাকী ভট্টাচার্য কি বাংলাদেশে ফিরবেন?

এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাননি তিনি। বরং বর্তমানে দেশে ফেরার আগের মতো টান অনুভব করেন না এবং হয়তো আর কখনো বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

২. পিনাকী ভট্টাচার্যের জীবনের শেষ ইচ্ছা কী?

বাংলাদেশে মেধাবীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি জনগণের সরকার দেখে যেতে চান তিনি।

৩. পিনাকী ভট্টাচার্য কবে কণ্ঠস্বর হারিয়েছিলেন?

নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভবত ২০১৬ সালে হঠাৎ তাঁর কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়।

৪. কত দিনে আবার কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পান তিনি?

প্রায় তিন মাস স্পিচ থেরাপি ও উচ্চারণের অনুশীলনের পর কণ্ঠস্বর ফিরে আসতে শুরু করে। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন তিনি।

৫. পিনাকী ভট্টাচার্যের ভোকাল কর্ডের কী সমস্যা হয়েছিল?

তাঁর গলার এক পাশের ভোকাল কর্ড সচল থাকলেও অন্য পাশেরটি সম্পূর্ণ নিশ্চল হয়ে গিয়েছিল বলে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: