মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬: মেডিকেল ও যাওয়ার খরচ কত?
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হওয়ার পর এবার মেডিকেল পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে। তবে এর আগে কোনো প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল পরীক্ষা করালে তা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণ করা হবে না। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া যেতে মোট কত টাকা খরচ হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করেনি সরকার। ফলে মেডিকেল শুরুর খবরে আশার সঞ্চার হলেও অভিবাসন ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে মেডিকেল পরীক্ষার শুরুর তারিখ জানানো হয়। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন মেডিকেল সেন্টার ও দালালের মাধ্যমে টাকা লেনদেন না করার জন্য কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া কলিং ভিসার মেডিকেল কবে থেকে শুরু হবে?
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর, শনিবার থেকে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হবে। তবে পরীক্ষা করাতে হবে কেবল সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার বিষয় বিবেচনা করে তালিকায় নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান বাদ দেওয়া হতে পারে।
এ কারণে মেডিকেল করানোর আগে সর্বশেষ অনুমোদিত তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি। শুধু কোনো প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার মেডিকেল করানোর দাবি করলেই সেখানে পরীক্ষা করানো যাবে না।
৩১ অক্টোবরের আগে মেডিকেল করালে কী হবে?
এবারের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মেডিকেল পরীক্ষার তারিখ নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ৩১ অক্টোবরের আগে সম্পন্ন করা কোনো মেডিকেল পরীক্ষা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণ করা হবে না।
অর্থাৎ, আগে থেকে কোনো মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে থাকলেও সেটি নতুন প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ বলে বিবেচিত হবে না। তাই নতুন করে পরীক্ষা করানোর আগে অনুমোদিত কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেলের জন্য নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে Visa With Reference (VDR) সংক্রান্ত নথি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে জমা দিতে হবে।
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কি চালু হয়েছে?
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর ঘোষণা এসেছে ১৫ অক্টোবর ২০২৬। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশটিতে কর্মী পাঠানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণায় জানানো হয়, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে—
বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।
২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি।
৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।
অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন করতে পারবে। অন্যদিকে, নির্ধারিত প্রসেসিং এজেন্সিগুলো কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে।
কর্মী নির্বাচনের পর বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে হবে।
তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সব কর্মীর কলিং ভিসা একসঙ্গে ইস্যু হয়ে গেছে। চাকরির চাহিদাপত্র, কর্মী নির্বাচন, মেডিকেল, ভিসা এবং বিএমইটি ছাড়পত্রের ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার পরই বিদেশযাত্রার সুযোগ তৈরি হবে।
মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগবে ২০২৬ সালে?
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নতুন প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় কত হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ২০২৬ সালে মালয়েশিয়া যেতে সবার জন্য নির্দিষ্ট একটি খরচ নির্ধারিত হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়।
তবে এ বিষয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।
প্রথমত, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগ দিতে সম্মতি দিয়েছে। তবে কারা এই সুযোগ পাবেন, কীভাবে কর্মী নির্বাচন হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত শর্ত এখনো পরিষ্কার নয়।
দ্বিতীয়ত, ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বক্তব্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ব্যয়ের কিছু হিসাব উঠে এসেছে।
সেখানে বলা হয়েছে, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে প্রাথমিকভাবে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, বেসরকারি এজেন্সির ক্ষেত্রে এই অঙ্ক তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, সরকারের নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় নয়।
অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে যাওয়ার সম্ভাব্য খরচ ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিক আলোচনা থেকে ধারণা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বেসরকারি এজেন্সিগুলোর একটি অংশ প্রকৃত খরচ আরও বেড়ে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
অর্থাৎ, এসব অঙ্কের কোনোটিকেই এখনই চূড়ান্ত সরকারি খরচ হিসেবে ধরা যাবে না। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ ও প্রকাশ না করা পর্যন্ত কর্মীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
১০ হাজার কর্মী কি বিনা খরচে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন?
নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার প্রস্তাব।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অনুরোধে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এটি প্রবাসী কর্মীদের জন্য ইতিবাচক খবর।
তবে এই সুবিধা সব আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য হবে কি না, কোন পেশার কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন কিংবা কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বিনা খরচে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না।
তাই শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের সুযোগ পাওয়ার আশায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে আগাম টাকা দেওয়া উচিত নয়।
দালালের মাধ্যমে মেডিকেল ও ভিসার নামে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের কাছ থেকে মেডিকেল পরীক্ষা করানোর কথা বলে পাসপোর্ট ও টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে কিছু দালাল ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি—এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এ কারণে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা করাতে পারবে না।
কর্মীদের জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—
১. মেডিকেল করানোর আগে অনুমোদিত কেন্দ্রের তালিকা যাচাই করুন।
২. সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
৩. চাকরির চুক্তিপত্র, বেতন, কাজের ধরন এবং নিয়োগকর্তার পরিচয় যাচাই করুন।
৪. টাকা দিলে অবশ্যই লিখিত রসিদ ও লেনদেনের প্রমাণ রাখুন।
৫. কলিং ভিসা বা মেডিকেলের নিশ্চয়তা দিয়ে কেউ আগাম টাকা চাইলে যাচাই ছাড়া অর্থ দেবেন না।
অননুমোদিত মেডিকেল কার্যক্রমে জড়িত প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির বিরুদ্ধে মেডিকেল সেন্টার বন্ধ, নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত এবং সরকারি অনুমোদন বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীরা সর্বশেষ তথ্য কোথায় পাবেন?
মেডিকেল সেন্টারের অনুমোদিত তালিকা, কলিং ভিসা, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং অভিবাসন ব্যয়ের সর্বশেষ তথ্য জানতে সরকারি সূত্র অনুসরণ করা জরুরি।
এ জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বিএমইটি এবং বোয়েসেলের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।
সরকারি ওয়েবসাইটগুলো হলো—
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়: probashi.gov.bd
বিএমইটি: bmet.gov.bd
বোয়েসেল: boesl.gov.bd
কবে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন কর্মীরা?
মেডিকেল পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাত্রা শুরুর সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
তবে এটি সম্ভাব্য সময়সূচি, নিশ্চিত যাত্রার তারিখ নয়। মেডিকেল পরীক্ষা, ভিসা ইস্যু, চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং বিএমইটি ছাড়পত্র সম্পন্ন হওয়ার ওপর কর্মীদের যাত্রা নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা শুরু হওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি। তবে কত টাকা খরচ হবে এবং কারা শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। তাই নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহীদের সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করার পাশাপাশি দালাল ও অননুমোদিত এজেন্সির ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. মালয়েশিয়া কলিং ভিসার মেডিকেল কবে থেকে শুরু হবে?
২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
২. ৩১ অক্টোবরের আগে মেডিকেল করালে কি গ্রহণযোগ্য হবে?
না। ৩১ অক্টোবরের আগে করা মেডিকেল পরীক্ষা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণ করা হবে না।
৩. ২০২৬ সালে মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগবে?
এখনো চূড়ান্ত সরকারি অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়নি। বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য খরচ ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি এজেন্সির ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুমান ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বলা হয়েছে। এগুলো চূড়ান্ত সরকারি রেট নয়।
৪. ১০ হাজার কর্মী কি বিনা খরচে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন?
মালয়েশিয়া প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগ দিতে সম্মত হয়েছে। তবে এ সুযোগের যোগ্যতা ও কর্মী নির্বাচনের বিস্তারিত নিয়ম এখনো স্পষ্ট নয়।
৫. মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া কি চালু হয়েছে?
হ্যাঁ। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ সরকার নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ৩৩৮টি রিক্রুটিং ও প্রসেসিং এজেন্সিকে এ কার্যক্রমে যুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।
তানভির ইসলাম/