সরকারি বেতন বাড়ানোর পর যে ফাঁদে পড়ল সরকার
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হতেই অর্থের সংস্থান নিয়ে চাপে পড়েছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় অক্টোবরের বেতন এবং জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত বেতনের বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যাংক খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ জন্য ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম ডেকেছে।
এই ঋণের উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সরকারের নিয়মিত ব্যয়ের বড় অংশ আগেই বেতন-ভাতা, পেনশন, ঋণের সুদ ও ভর্তুকি পরিশোধে বরাদ্দ রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতার মধ্যে এই বিপুল অর্থের স্থায়ী সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাজেটের বড় অংশই নিয়মিত ব্যয়ে, যুক্ত হচ্ছে নতুন দায়
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের মোট বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৪২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে সরকারি বেতন-ভাতা ও পেনশন, ঋণের সুদ এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনার মতো খাতে। এর মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর ব্যয় যুক্ত হওয়ায় সরকারের নিয়মিত আর্থিক দায় আরও বাড়ছে।
নতুন কাঠামো কার্যকর করতে বছরে যে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন, তা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এই অর্থের পরিমাণ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দের সঙ্গে তুলনা করলে চাপের মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়।
চলতি অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্য খাতে রাখা হয়েছে ৬২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ স্বাস্থ্য খাতের মোট বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৪২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দের প্রায় ৭৭ শতাংশের সমান এই ব্যয়।
এ অবস্থায় বেতন বৃদ্ধির অর্থ জোগাতে গিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন খাতের ব্যয় সংকুচিত না করার বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এক মাসেই ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্য ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা
নতুন বেতন কাঠামোর অর্থ পরিশোধের জন্য নেওয়া ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সরকারের চলতি মাসের ব্যাংকঋণের লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নিয়েছিল সরকার। নতুন নিলামের অর্থ যুক্ত হলে অক্টোবর মাসে মোট ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্য দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
তবে এই অঙ্ককে সরকারের নিট ঋণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ, ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ আগের ঋণের মেয়াদ শেষ হলে তা পরিশোধে ব্যবহার করতে হয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।
পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বাড়তি ব্যয়ের অর্থ আসবে কোথা থেকে
সরকারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান নতুন বেতন কাঠামোর অর্থায়নকে আরও কঠিন করে তুলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। পুরো অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হলে বর্ধিত বেতন-ভাতার মতো নিয়মিত ব্যয় মেটাতে সরকারের ঋণের প্রয়োজন বাড়তে পারে। বিকল্প হিসেবে অন্য খাতের ব্যয় কমানো অথবা বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর পথও সামনে আসতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির নথিতে এ ধরনের পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাজস্ব না বাড়িয়ে বেতন বৃদ্ধি করা হলে সরকারকে ঘাটতি অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। এতে অর্থবাজারে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সুদের হার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
১১ বছর পর বেতন সমন্বয়, সুবিধার আওতায় প্রায় ২৮ লাখ মানুষ
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় সর্বশেষ বড় পরিবর্তন এসেছিল ২০১৫ সালে। ওই বছর অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ ১১ বছর আর নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন হয়নি। এ সময়ে নিত্যপণ্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেতন বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। পর্যালোচনা শেষে কমিশন ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুপারিশ জমা দেয়। সেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।
কমিশনের প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন আনার পর সরকার ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করে। সরকারের হিসাবে, এটি বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
নতুন কাঠামো অনুসারে ১ নভেম্বর থেকে বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অক্টোবরের বেতনের পাশাপাশি আগের তিন মাস—জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত বেতনের বকেয়াও পেয়েছেন। তবে পে-ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর অর্থপ্রদান একই সময়ে সম্পন্ন হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী ও ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক।
বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার যুক্তি, তবে প্রয়োজন জবাবদিহিও
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পক্ষে সরকারের বক্তব্য, দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। বেতন সমন্বয় হলে কর্মীদের জীবনমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কাজের আগ্রহও বাড়তে পারে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে দুর্নীতির প্রবণতা কমার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। গত ১২ জুন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আর্থিক অভাব থেকে দুর্নীতির প্রবণতা তৈরি হতে পারে এবং বেতন বাড়লে সেই প্রবণতা কমার কথা।
তবে বেতন বাড়ানোর মাধ্যমেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি এবং অপরাধের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মূল্যস্ফীতি থেকে বিনিয়োগ—বিভিন্ন ঝুঁকির কথা বলছেন অর্থনীতিবিদেরা
বেতন বৃদ্ধির বাড়তি অর্থ কীভাবে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপের মধ্যে সরকারি বেতন বাড়ানোর প্রভাব পণ্যমূল্যেও পড়তে পারে। তাঁর আশঙ্কা, এতে সরকারি ব্যয় ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হানও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় বহনের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক নিবন্ধে তিনি জানতে চেয়েছেন, বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার স্থায়ী ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা সরকারের রয়েছে কি না।
তাঁর মতে, রাজস্ব আয় না বাড়লে এই ব্যয় মেটাতে সরকারকে ঋণ নিতে হবে, অন্য খাতের ব্যয় কমাতে হবে অথবা বাজেট ঘাটতি বাড়াতে হবে।
ব্যাংকঋণ বাড়ানোর আরেকটি সম্ভাব্য প্রভাব বেসরকারি খাতের ওপর পড়তে পারে। সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি ও বিনিয়োগে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতের বরাদ্দ কমিয়ে বেতন বৃদ্ধির অর্থ জোগাড় করাও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
ব্যয় কমানোর যেসব পথ দেখিয়েছিল বেতন কমিশন
বাড়তি বেতনের অর্থ সংস্থানের প্রশ্নটি জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশেও গুরুত্ব পেয়েছিল। কমিশন একদিকে সরকারি ব্যয় কমানো, অন্যদিকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছিল।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য ভর্তুকি কমানো, রপ্তানি খাতের নগদ প্রণোদনা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি খরচ কমানোর প্রস্তাব ছিল কমিশনের। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর একীভূত করা বা ছোট করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া যেসব উন্নয়ন প্রকল্প কার্যকারিতা হারিয়েছে, সেগুলোতে বরাদ্দ কমানো এবং করব্যবস্থায় সংস্কার এনে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৃদ্ধির দাবি পূরণ হলেও এর আর্থিক দায় এখন থেকে প্রতি বছর বহন করতে হবে। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, ব্যাংকঋণের প্রয়োজন এবং ঋণের সুদ পরিশোধের চাপের মধ্যে এই ব্যয় সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
১ নভেম্বর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর বেতন ও বকেয়া পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ট্রেজারি বিলের উদ্যোগ সেই চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে। এখন রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার ঠিক রাখা এবং ঋণনির্ভরতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক খাতের বরাদ্দ সুরক্ষিত রাখাই সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা।
FAQ
১. নতুন বেতন কাঠামোর জন্য সরকার কত টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করবে?
সরকারের হিসাবে, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
২. বেতন ও বকেয়া পরিশোধে সরকার কেন ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে?
অক্টোবরের বেতন এবং জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত বেতনের বকেয়া পরিশোধের অর্থ জোগাতে ব্যাংক খাত থেকে এই ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়েছে।
৩. নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হয়েছে?
১ নভেম্বর থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে।
৪. নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কারা পাচ্ছেন?
প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
৫. নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থনীতির কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে?
রাজস্ব আদায় না বাড়লে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে। এতে অর্থবাজারে চাপ, সুদের হার বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি ও বিনিয়োগে বাধা এবং পণ্যমূল্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তানভির ইসলাম/