ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদি আরবে কোন কাজের বেতন কত? দেখে নিন তালিকা

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ২০:৩৬:১৮
সৌদি আরবে কোন কাজের বেতন কত? দেখে নিন তালিকা

সৌদি আরবে কাজ করতে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—কোন পেশায় মাসে কত বেতন পাওয়া যায়? দেশটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, গাড়িচালক কিংবা হোটেলকর্মীর বেতন এক রকম নয়; আবার ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, এসি টেকনিশিয়ান, প্রকৌশলী ও হিসাবরক্ষকের আয়ের ব্যবধানও যথেষ্ট। ২০২৬ সালের বিভিন্ন বেতন জরিপ ও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ ও দক্ষ শ্রমিকের অনেক পদের মাসিক বেতন প্রায় ৯০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়ালের মধ্যে থাকলেও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি হতে পারে।

তবে সৌদি আরবে সব পেশার জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক বেতন নেই। একই কাজের জন্য এক প্রতিষ্ঠান যে বেতন দেয়, অন্য প্রতিষ্ঠান সেখানে কম বা বেশি দিতে পারে। অভিজ্ঞতা, কাজের দক্ষতা, নিয়োগকর্তা, কর্মস্থল, চুক্তির শর্ত এবং থাকা-খাওয়ার সুবিধার ওপর নির্ভর করে প্রকৃত আয় নির্ধারিত হয়। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে শুধু সম্ভাব্য বেতনের অঙ্ক নয়, চুক্তিতে কী কী সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও যাচাই করা জরুরি।

সৌদি আরবে গড় বেতন কত?

সৌদি আরবের সরকারি তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম DataSaudi-তে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির কর্মীদের গড় মাসিক মজুরি ছিল প্রায় ৫ হাজার ৮০০ রিয়াল। এই হিসাবে সৌদি ও বিদেশি—উভয় দেশের কর্মী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এ কারণে ৫ হাজার ৮০০ রিয়ালকে একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের সম্ভাব্য বেতন হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। কারণ গড় হিসাবের মধ্যে উচ্চ বেতনের ব্যবস্থাপক ও বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকের আয়ও যুক্ত থাকে। বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে পেশাভিত্তিক বেতন জানতে নির্দিষ্ট কাজের নিয়োগপ্রস্তাব ও বাজারের বেতন-তথ্য দেখা বেশি কার্যকর।

সৌদি আরবে পেশাভিত্তিক মাসিক বেতন কত?

সৌদি আরবের ২০২৬ সালের নিয়োগসংক্রান্ত একটি পেশাভিত্তিক বেতন সূচকে ১৮৪টি নিয়োগকর্তার তথ্য, ৪৯২টি নিয়োগাদেশ এবং ১৪ হাজার ৬৫০টি কর্মীর পদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে বিদেশ থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি পরিচিত পেশার প্রাথমিক মাসিক বেতনের পরিসর তুলে ধরা হয়েছে।

নিচের অঙ্কগুলো বাজারে পাওয়া নিয়োগপ্রস্তাবের নির্দেশক হিসাব; এগুলো সরকারি নির্ধারিত বেতন বা প্রত্যেক কর্মীর নিশ্চিত আয় নয়।

কাজের ধরনমাসিক বেতনের আনুমানিক পরিসর
ক্লিনার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৯০০–১,৫০০ রিয়াল
স্ক্যাফোল্ডার ১,৪০০–২,৭০০ রিয়াল
কাঠমিস্ত্রি ১,৫০০–২,৮০০ রিয়াল
প্লাম্বার বা পাইপ মিস্ত্রি ১,৫০০–২,৮০০ রিয়াল
ইলেকট্রিশিয়ান ১,২০০–৩,২০০ রিয়াল
এসি ও HVAC টেকনিশিয়ান ১,৮০০–৩,২০০ রিয়াল
ওয়েল্ডার ১,৫০০–৩,০০০ রিয়াল
পাইপ ফিটার ১,৬০০–৩,০০০ রিয়াল
ভারী গাড়ির চালক ২,২০০–৩,৮০০ রিয়াল
বারিস্তা বা কফি প্রস্তুতকারক ১,৮০০–৩,০০০ রিয়াল

এই পরিসরগুলো ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা নিয়োগসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। একই পেশায় দক্ষতা, সার্টিফিকেট, কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী বেতন কম-বেশি হতে পারে।

দক্ষ কারিগরি কাজে বেতন তুলনামূলক বেশি

সৌদি আরবে নির্মাণ, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবকাঠামো খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয়। এসব কাজে শুধু সাধারণ শ্রমিক হিসেবে যোগ দেওয়ার চেয়ে নির্দিষ্ট কারিগরি দক্ষতা থাকলে তুলনামূলক ভালো বেতনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, দক্ষ ওয়েল্ডারের নিয়োগপ্রস্তাবে মাসে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার রিয়াল পর্যন্ত বেতনের পরিসর দেখা গেছে। এসি বা HVAC টেকনিশিয়ানের ক্ষেত্রে তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ রিয়াল। ভারী গাড়ির চালকের জন্য প্রকাশিত নিয়োগপ্রস্তাবে ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ রিয়াল পর্যন্ত বেতনের উল্লেখ রয়েছে।

তবে এসব কাজে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কাজের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, সাধারণ ওয়েল্ডিং ও বিশেষায়িত শিল্পকারখানার ওয়েল্ডিং এক ধরনের কাজ নয়। একইভাবে সাধারণ গাড়িচালক ও ভারী ট্রাক বা ট্রেইলার চালকের দায়িত্ব এবং যোগ্যতার পার্থক্য রয়েছে।

প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক ও আইটি পেশাজীবীদের বেতন

সৌদি আরবে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের বেতন সাধারণ শ্রমিকের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতা, পেশাগত যোগ্যতা, দায়িত্বের স্তর এবং প্রতিষ্ঠানের আকারের ওপর এসব পদের বেতন নির্ভর করে।

Hays Saudi Arabia Salary Guide 2026-এর পেশাভিত্তিক বেতন জরিপে ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের চাকরির বিজ্ঞাপন, চাকরির প্রস্তাব ও প্রার্থীদের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে কয়েকটি পেশার মাসিক বেতনের পরিসর তুলে ধরা হয়েছে।

পেশামাসিক বেতনের পরিসর
হিসাবরক্ষক ১০,০০০–২০,০০০ রিয়াল
সিনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট ২০,০০০–২৮,০০০ রিয়াল
ফাইন্যান্স ম্যানেজার ২৫,০০০–৪০,০০০ রিয়াল
সফটওয়্যার ডেভেলপার ২০,০০০–৩৫,০০০ রিয়াল
ডেটা অ্যানালিস্ট ১৮,০০০–৩০,০০০ রিয়াল
ডেটা সায়েন্টিস্ট ৩৫,০০০–৭৫,০০০ রিয়াল
নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার ১৫,০০০–২৭,৫০০ রিয়াল
প্রজেক্ট ম্যানেজার ২০,০০০–৪৫,০০০ রিয়াল
কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার ২৫,০০০–৪৫,০০০ রিয়াল
সিনিয়র আর্কিটেক্ট ২৫,০০০–৩৫,০০০ রিয়াল

এখানে উল্লেখ করা বেতন সাধারণ শ্রমিকদের নিয়োগপ্রস্তাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। এগুলো মূলত পেশাদার ও অভিজ্ঞ কর্মীদের নির্দিষ্ট চাকরির বাজারে পাওয়া মাসিক নির্দিষ্ট বেতন-প্যাকেজের পরিসর। নতুন বা কম অভিজ্ঞ কর্মীর বেতন এর চেয়ে অনেক কম হতে পারে।

একই পেশায় বেতন কম-বেশি হওয়ার কারণ

সৌদি আরবে একই পেশায় কর্মরত দুজন ব্যক্তির বেতন আলাদা হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা: নতুন কর্মীর তুলনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং কাজের প্রমাণিত দক্ষতা থাকা কর্মী বেশি বেতন পেতে পারেন। বিশেষায়িত কাজের প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃত সার্টিফিকেটও নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে।

কোম্পানি ও কর্মস্থল: বড় কোম্পানি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা বিশেষায়িত প্রকল্পে বেতন সাধারণ প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি হতে পারে। রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মামসহ বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শ্রমবাজারের চাহিদাও এক নয়।

কাজের ধরন ও দায়িত্ব: একজন সাধারণ ইলেকট্রিশিয়ান এবং শিল্পকারখানার বিশেষায়িত ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের দায়িত্ব এক নয়। দায়িত্ব যত বেশি বা কাজ যত বেশি দক্ষতানির্ভর, বেতনও তত বেশি হওয়ার সুযোগ থাকে।

অতিরিক্ত সুবিধা: কোনো প্রতিষ্ঠান মূল বেতনের পাশাপাশি আবাসন, যাতায়াত, খাবার, চিকিৎসা বা অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক দিতে পারে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে এসব সুবিধার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ভাতা দেওয়া হয়। তাই শুধু মূল বেতন দেখে চাকরির আর্থিক সুবিধা বিচার করা উচিত নয়।

সৌদি আরবে বেতনের বাইরে যেসব সুবিধা যাচাই করবেন

বিদেশে চাকরির চুক্তিতে বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি। সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের কর্মী অধিকারবিষয়ক নির্দেশিকায় লিখিত ও নথিভুক্ত চাকরির চুক্তিতে বেতন, ভাতা, কাজের ধরন, কর্মস্থল এবং চাকরির শর্ত উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি করার আগে বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো দেখে নেওয়া উচিত—

থাকার ব্যবস্থা: কোম্পানি আবাসন দেবে, নাকি বাসাভাড়া ভাতা দেবে—তা জানতে হবে।

যাতায়াত: কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থা কোম্পানি করবে, নাকি এ জন্য আলাদা ভাতা থাকবে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

খাবার: খাবার দেওয়া হবে, নাকি খাবারের জন্য ভাতা দেওয়া হবে, সেটি চুক্তিতে দেখতে হবে।

চিকিৎসা: স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে, তা যাচাই করতে হবে।

ওভারটাইম: নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করলে কীভাবে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, তা বুঝে নিতে হবে।

ইকামা ও অন্যান্য খরচ: ইকামা, নবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট খরচের দায়িত্ব কার, তা চুক্তি ও সৌদি শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী যাচাই করা প্রয়োজন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় আবাসন বা যাতায়াতের ব্যবস্থা না দিলে উপযুক্ত ভাতা দেওয়ার বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

সৌদি আরবে দৈনিক কাজের সময় ও ওভারটাইমের নিয়ম

সৌদি আরবের শ্রমবিধি অনুযায়ী সাধারণ কর্মঘণ্টা দিনে ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা। মুসলিম কর্মীদের জন্য রমজান মাসে কর্মঘণ্টা কমে দিনে ৬ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৩৬ ঘণ্টা হয়। একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করালে বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখতে হয়।

নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে অতিরিক্ত কাজের জন্য সাধারণ নিয়মে প্রকৃত ঘণ্টাপ্রতি মজুরির সঙ্গে মূল ঘণ্টাপ্রতি মজুরির ৫০ শতাংশ যোগ করে ওভারটাইম হিসাব করা হয়। অর্থাৎ শুধু মূল বেতনের ভিত্তিতে নয়, নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত মজুরির হিসাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবে বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন কত?

এ বিষয়ে একটি ভুল ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। সৌদি আরবে ৪ হাজার রিয়ালের একটি বেতনসীমা প্রায়ই আলোচনায় আসে। কিন্তু এটি সব বিদেশি কর্মীর জন্য নির্ধারিত সাধারণ ন্যূনতম বেতন নয়। নির্দিষ্ট নীতিতে সৌদি নাগরিকদের নিতাকাত বা Saudization হিসাবের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ব্যবহৃত হয়।

বিদেশি কর্মীর বেতন মূলত নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তিতে নির্ধারিত হয় এবং প্রযোজ্য শ্রম আইনের শর্ত মানতে হয়। ফলে কোনো বাংলাদেশি কর্মী সৌদি আরবে গেলেই অন্তত ৪ হাজার রিয়াল বেতন পাবেন—এমন ধারণা সঠিক নয়।

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে চাকরির চুক্তিতে যা দেখবেন

শুধু বেশি বেতনের বিজ্ঞাপন দেখে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নিয়োগপ্রস্তাব পাওয়ার পর চুক্তিতে উল্লেখ করা বেতন ও বাস্তবে দেওয়া বেতনের মধ্যে পার্থক্য আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

চুক্তিতে কাজের পদ, দায়িত্ব, কর্মস্থল, দৈনিক কর্মঘণ্টা, সাপ্তাহিক ছুটি, মূল বেতন, ভাতা, আবাসন, খাবার, যাতায়াত এবং ওভারটাইমের শর্ত পরিষ্কারভাবে লেখা আছে কি না দেখতে হবে। চুক্তির আরবি ও অন্য ভাষার সংস্করণ থাকলে দুই সংস্করণের শর্ত মিলিয়ে নেওয়াও জরুরি। সৌদি সরকারের অনুমোদিত Qiwa প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত চুক্তির কপি নিজের কাছে রাখা উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চাকরির বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা বেতনকে নিশ্চিত আয় ধরে নেওয়া যাবে না। নিয়োগকর্তার দেওয়া লিখিত চুক্তি, অনুমোদিত চাকরির পদ এবং বাস্তব সুযোগ-সুবিধা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু পেশার নাম নয়, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। সাধারণ শ্রমিকের কাজের তুলনায় কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভারী যানবাহন চালানোর যোগ্যতা, বিশেষায়িত ওয়েল্ডিং বা আইটি দক্ষতা থাকলে বেশি বেতনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত একজন কর্মী কত টাকা পাবেন, তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হলো নিয়োগকর্তার সঙ্গে সম্পাদিত লিখিত চাকরির চুক্তি।

FAQ

১. সৌদি আরবে সাধারণ শ্রমিকের বেতন কত?

সাধারণ শ্রমিকের কাজের ধরন অনুযায়ী বেতন আলাদা। ২০২৬ সালের একটি নিয়োগভিত্তিক সূচকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাসিক বেতন ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রিয়ালের মধ্যে দেখা গেছে। অন্যান্য শ্রমিকের বেতন কাজ ও নিয়োগকর্তাভেদে ভিন্ন হতে পারে।

২. সৌদি আরবে ইলেকট্রিশিয়ানের বেতন কত?

প্রকাশিত ২০২৬ সালের নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রিশিয়ানের মাসিক বেতনের পরিসর প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ সৌদি রিয়াল।

৩. সৌদি আরবে ড্রাইভারের বেতন কত?

ভারী গাড়ির চালকের ক্ষেত্রে প্রকাশিত নিয়োগপ্রস্তাবে মাসে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ রিয়াল পর্যন্ত বেতনের পরিসর দেখা গেছে। গাড়ির ধরন, লাইসেন্স ও অভিজ্ঞতার ওপর বেতন নির্ভর করে।

৪. সৌদি আরবে বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন কি ৪ হাজার রিয়াল?

না। ৪ হাজার রিয়ালের অঙ্কটি সৌদি নাগরিকদের নিতাকাত হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত; এটি সব বিদেশি কর্মীর জন্য নির্ধারিত সাধারণ ন্যূনতম বেতন নয়।

৫. সৌদি আরবে চাকরিতে বেতনের পাশাপাশি কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?

চুক্তি অনুযায়ী আবাসন, যাতায়াত, খাবার বা খাবার ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং ওভারটাইমের পারিশ্রমিক পাওয়া যেতে পারে। এসব সুবিধা চাকরির চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: