ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বণ্টননামা ছাড়া কি ওয়ারিশদের জমি আলাদা করা যায়? জানুন নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১১:৪২:০৩
বণ্টননামা ছাড়া কি ওয়ারিশদের জমি আলাদা করা যায়? জানুন নিয়ম

বাবা, মা বা পরিবারের কোনো সদস্য মারা যাওয়ার পর তাঁর রেখে যাওয়া জমির মালিক হন একাধিক ওয়ারিশ। কিন্তু জমির ভাগ নির্ধারণ, দখল বুঝে নেওয়া কিংবা আলাদা খতিয়ান তৈরি করতে গিয়ে অনেক পরিবারকেই জটিলতায় পড়তে হয়। কেউ নিজের অংশ বুঝে নিতে চান, আবার কারও সঙ্গে জমির অবস্থান বা পরিমাণ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। তবে সব ওয়ারিশের সম্মতি থাকলে নিবন্ধিত বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে যৌথ জমি আলাদা করা যায়। আর সমঝোতা না হলে আদালতে বাটোয়ারা মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি ভাগ করার ক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যেক ওয়ারিশের আইনগত অংশ নির্ধারণ করতে হয়। এরপর জমির দাগ, খতিয়ান ও পরিমাণ অনুযায়ী কে কোন অংশ পাবেন, তা ঠিক করে বণ্টননামা তৈরি ও নিবন্ধন করতে হয়। সবশেষে সেই দলিলের ভিত্তিতে পৃথক নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ব্যবস্থা করা যায়।

প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে কে কতটুকু জমির মালিক

ওয়ারিশদের জমি ভাগ করার আগে মৃত ব্যক্তির বৈধ ওয়ারিশ কারা, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রত্যেকের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য অংশ হিসাব করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সবার ভাগ সমান হবে—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। মৃত ব্যক্তির ধর্ম, প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন, জীবিত ওয়ারিশের ধরন এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর উত্তরাধিকার নির্ভর করে। তাই শুধু পরিবারের সদস্যসংখ্যা দেখে জমি সমান ভাগ করে নেওয়া ঠিক নয়।

প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অংশ নিয়ে সন্দেহ বা বিরোধ থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।

যৌথ জমি আলাদা করতে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে

বণ্টননামা তৈরি ও নিবন্ধনের আগে জমির মালিকানা এবং ওয়ারিশদের পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। সাধারণত নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হতে পারে—

মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ।

ওয়ারিশ সনদ।

মৃত ব্যক্তির নামে থাকা মূল বা পূর্ববর্তী দলিলের কপি।

সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান—যেমন সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা সর্বশেষ রেকর্ড।

জমির দাগ নম্বর, মৌজা ও পরিমাণের তথ্য।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হালনাগাদ দাখিলা, যদি থাকে।

সব ওয়ারিশের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য।

জমির অবস্থান ও সীমানা বোঝার জন্য মৌজা নকশা বা প্রয়োজনীয় নকশা।

জমির মালিকানা নিয়ে আগের কোনো মামলা, বন্ধক, বিক্রয় বা অন্য কোনো দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজও যাচাই করতে হবে। জমির প্রকৃতি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী দলিল নিবন্ধনের সময় অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।

সব ওয়ারিশ রাজি থাকলে যেভাবে জমি ভাগ করবেন

যৌথ জমি আলাদা করার সবচেয়ে সহজ পথ হলো পারস্পরিক সমঝোতা। সব ওয়ারিশ নিজেদের প্রাপ্য অংশ বুঝে নিতে সম্মত হলে তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে জমি ভাগ করে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

১. সব জমির হিসাব ও মালিকানা যাচাই করুন

প্রথমে মৃত ব্যক্তির নামে থাকা সব জমির তালিকা তৈরি করতে হবে। কোন মৌজায় কত জমি রয়েছে, কোন দাগে কতটুকু জমি, সর্বশেষ খতিয়ানে কার নাম আছে এবং জমির প্রকৃত দখল কার কাছে—এসব তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।

শুধু পুরোনো দলিলের ওপর নির্ভর না করে সর্বশেষ রেকর্ড, নামজারি খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন করের তথ্যও যাচাই করা উচিত। এতে জমির পরিমাণ বা মালিকানা নিয়ে পরবর্তী বিরোধের আশঙ্কা কমে।

২. প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করুন

সব ওয়ারিশের আইনগত অংশ হিসাব করে মোট জমির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। এরপর জমির অবস্থান, মূল্য, রাস্তা বা চলাচলের সুবিধা এবং ব্যবহারযোগ্যতা বিবেচনায় কে কোন অংশ পাবেন, তা নিয়ে সমঝোতা করতে হবে।

একই জমির সব অংশের বাজারমূল্য সমান নাও হতে পারে। তাই শুধু জমির পরিমাণ নয়, অবস্থান ও ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপিয়ে নকশা তৈরি করা যেতে পারে।

৩. বণ্টননামা দলিল তৈরি করুন

সমঝোতার ভিত্তিতে কোন ওয়ারিশ কোন দাগের কতটুকু জমি পাবেন, তা বণ্টননামা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। দলিলে সব জমির পরিচয়, দাগ ও খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ, প্রত্যেকের বরাদ্দ করা অংশ এবং সীমানার বিবরণ যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে দিতে হবে।

আরও পড়ুন:

নামজারি আছে, কিন্তু দলিল নেই—জমি কি নিজের? জানুন আইন

জমি বিক্রির সময় বায়না করলে যে ১০টি শর্ত রাখবেন

পুরনো দলিল থেকে বর্তমান জমির মালিক বের করবেন যেভাবে

এ ছাড়া সব ওয়ারিশের নাম, পরিচয় ও প্রাপ্য অংশের তথ্যও সঠিকভাবে উল্লেখ করা জরুরি। দলিলের তফসিল ও বাস্তবে মাপা জমির মধ্যে যেন কোনো অসংগতি না থাকে, সেটি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

৪. সব সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশের স্বাক্ষর নিয়ে দলিল নিবন্ধন করুন

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্থাবর সম্পত্তির বণ্টননামা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৩বি ধারায় উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আপসের ভিত্তিতে জমি ভাগ করার পর সংশ্লিষ্ট সবার স্বাক্ষরে বণ্টননামা প্রস্তুত ও নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ১৭(১)(এফ) ধারায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্থাবর সম্পত্তির বণ্টননামা দলিল নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই শুধু সাদা কাগজে ভাগ লিখে রাখা বা মৌখিক সমঝোতা করে আলাদা মালিকানা নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

দলিল প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে হবে। দলিলের খসড়া তৈরির সময় আইনজীবী বা দলিল লেখকের সহায়তা নেওয়া ভালো।

বণ্টননামা নিবন্ধনের পর কী করতে হবে?

বণ্টননামা নিবন্ধন করেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। দলিল অনুযায়ী সরকারি ভূমি রেকর্ড সংশোধন এবং পৃথক নামজারির জন্য আবেদন করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৩বি ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত বণ্টননামা রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হলে সেই অনুযায়ী খতিয়ান সংশোধন করতে হবে। ফলে দলিলের ভিত্তিতে প্রত্যেক ওয়ারিশ নিজের বরাদ্দ করা অংশের জন্য পৃথক নামজারির আবেদন করতে পারেন।

নামজারির আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত নিবন্ধিত বণ্টননামা, ওয়ারিশ সনদ, আগের খতিয়ান ও দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। জমির অবস্থান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বা নির্ধারিত অনলাইন ভূমিসেবা ব্যবস্থায় আবেদন করা যায়।

আবেদন যাচাইয়ের সময় ভূমি অফিস প্রয়োজন অনুযায়ী নোটিশ দিতে পারে এবং কোনো আপত্তি থাকলে শুনানির ব্যবস্থা করতে পারে। নামজারি অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশের নামে পৃথক খতিয়ান তৈরি বা রেকর্ড সংশোধনের ব্যবস্থা হয়। এরপর নিজের অংশ অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যায়।

যৌথ নামজারি আর জমি আলাদা করা কি একই বিষয়?

এখানেই অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। উত্তরাধিকারীদের নামে যৌথ নামজারি করা হলে মৃত ব্যক্তির জমিতে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য অংশ রেকর্ডে উল্লেখ করা যায়। কিন্তু এতে জমির নির্দিষ্ট কোন অংশ কে ব্যবহার করবেন, তা আলাদা করে নির্ধারিত হয় না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সব ওয়ারিশ চাইলে বণ্টননামা ছাড়াই তাঁদের অংশ উল্লেখ করে যৌথ নামজারির আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হয়।

অন্যদিকে, ওয়ারিশরা যদি জমির নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে নিতে চান এবং পৃথকভাবে নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর দিতে চান, তাহলে তাঁদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন করতে হবে। এরপর সেই দলিলের ভিত্তিতে পৃথক নামজারির আবেদন করা যায়।

অর্থাৎ, যৌথ নামজারি মালিকানার অংশ রেকর্ডে তুলে ধরতে সহায়তা করে; আর নিবন্ধিত বণ্টননামা জমির নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করার আইনি ভিত্তি তৈরি করে।

কোনো ওয়ারিশ রাজি না হলে কী করবেন?

সব ওয়ারিশের মধ্যে সমঝোতা না হলে জমি ভাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো একজন ওয়ারিশ বণ্টননামায় স্বাক্ষর করতে না চাইলে অন্যরা একতরফাভাবে তাঁর অংশ নির্ধারণ করে নিবন্ধিত বণ্টননামা তৈরি করতে পারবেন না।

এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা বা পার্টিশন মামলা করার সুযোগ রয়েছে। মামলায় জমির মালিকানা, ওয়ারিশদের পরিচয়, প্রাপ্য অংশ এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে হয়।

আদালত প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে কার কতটুকু অংশ রয়েছে, তা নির্ধারণ করতে পারেন। প্রয়োজন হলে কমিশনার নিয়োগ করে জমি সরেজমিনে পরিমাপ ও বণ্টনের প্রস্তাব তৈরি করানো হতে পারে। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ বা ডিক্রি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে জমির প্রকৃতি, অবস্থান বা অংশীদারের সংখ্যা বিবেচনায় বাস্তবে ভাগ করা যুক্তিসংগত বা সুবিধাজনক না হলে আদালত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জমি বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ অংশীদারদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশও দিতে পারেন। এ বিষয়ে পার্টিশন অ্যাক্ট, ১৮৯৩-এর ২ ধারায় বিধান রয়েছে। এটি প্রতিটি বাটোয়ারা মামলার স্বাভাবিক পরিণতি নয়; আইনে উল্লেখিত শর্ত ও আদালতের বিবেচনার ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত হতে পারে।

জমি ভাগ করার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করার সময় সামান্য ভুলও ভবিষ্যতে বড় বিরোধের কারণ হতে পারে। তাই কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি—

কোনো ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে বণ্টননামা তৈরি করবেন না। সব বৈধ ওয়ারিশের পরিচয় ও অংশ যাচাই করুন।

ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করুন। অনুমানের ভিত্তিতে সমান ভাগ করবেন না।

দলিলে মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ নির্ভুলভাবে লিখুন।

প্রত্যেকের বরাদ্দ করা জমির সীমানা ও অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

জমির বাস্তব মাপ ও দলিলের তফসিল মিলিয়ে নিন।

কোনো জমি মামলা, বন্ধক বা অন্য কোনো বিরোধের মধ্যে আছে কি না যাচাই করুন।

নিবন্ধিত দলিলের একাধিক সত্যায়িত কপি ও প্রয়োজনীয় নথি নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।

বণ্টননামা নিবন্ধনের পর নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের রেকর্ড হালনাগাদ করুন।

কোনো ওয়ারিশ বিদেশে থাকলে, নাবালক হলে বা আইনগতভাবে নিজে দলিল সম্পাদনে অক্ষম হলে তাঁর পক্ষে কে কীভাবে বৈধভাবে কাজ করবেন, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যথাযথ আইনগত প্রতিনিধিত্ব ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত না করে দলিল সম্পাদন করা উচিত নয়।

ওয়ারিশদের যৌথ জমি আলাদা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিকভাবে উত্তরাধিকার নির্ধারণ, সব জমির রেকর্ড যাচাই এবং প্রত্যেকের সম্মতিতে আইনসম্মত বণ্টননামা তৈরি করা। সব ওয়ারিশ রাজি থাকলে নিবন্ধিত বণ্টননামার মাধ্যমে জমি ভাগ করে পৃথক নামজারির আবেদন করা যায়। আর মতবিরোধ থাকলে আদালতের মাধ্যমে বাটোয়ারার ব্যবস্থা নিতে হয়।

শুধু মৌখিক ভাগ-বাটোয়ারা বা যৌথ নামজারির ওপর নির্ভর না করে জমির নির্দিষ্ট অংশের মালিকানা ও রেকর্ড যথাযথভাবে হালনাগাদ করাই ভবিষ্যতের বিরোধ এড়ানোর ভালো উপায়। জমির দলিল, ওয়ারিশের সংখ্যা বা উত্তরাধিকার আইন জটিল হলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ভূমি অফিসের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. ওয়ারিশদের যৌথ জমি আলাদা করতে কি বণ্টননামা দলিল করতে হয়?

হ্যাঁ। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্থাবর সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ করে পৃথক অংশ নির্ধারণ করতে হলে বণ্টননামা তৈরি ও নিবন্ধন করতে হয়।

২. সব ওয়ারিশের সম্মতি ছাড়া কি জমি ভাগ করা সম্ভব?

পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বণ্টননামা করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব ওয়ারিশের অংশগ্রহণ ও স্বাক্ষর প্রয়োজন। কেউ রাজি না হলে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

৩. যৌথ নামজারি করলেই কি জমি আলাদা হয়ে যায়?

না। যৌথ নামজারিতে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য অংশ রেকর্ডে উল্লেখ করা যায়, কিন্তু জমির নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে দেওয়া হয় না। নির্দিষ্ট অংশ ভাগ করতে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন।

৪. বণ্টননামা নিবন্ধনের পর কী করতে হবে?

নিবন্ধিত বণ্টননামার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে পৃথক নামজারির আবেদন করতে হবে। নামজারি অনুমোদিত হলে প্রত্যেকে নিজের বরাদ্দ করা অংশ অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারবেন।

৫. ওয়ারিশদের জমি ভাগ নিয়ে বিরোধ হলে কোথায় যেতে হবে?

সমঝোতা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করতে হবে। আদালত প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণের ব্যবস্থা করবেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: