MD. Razib Ali
Senior Reporter
বাবা এক সন্তানকে সব সম্পত্তি দিলে অন্যদের করণীয় কী? জানুন
বাবা কি একজনকে সব সম্পত্তি দিতে পারেন? বঞ্চিত সন্তানদের জন্য বাংলাদেশের আইন ও অধিকার
পিতার জীবিত অবস্থায় সম্পত্তির মালিকানা কেবল একজন সন্তানের নামে করে দেওয়ার ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান। তবে বাংলাদেশের প্রচলিত উত্তরাধিকার আইন পরিষ্কারভাবে বলছে, এই ধরনের হস্তান্তরের ফলে অন্য সন্তানরা তাদের আইনগত অধিকার সম্পূর্ণভাবে হারায় না। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি দান করতে চাইলে তাকে অবশ্যই দেশের ভূমি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
বঞ্চিত ওয়ারিশদের আইনি প্রতিকার ও সম্পত্তির অধিকারের ভিত্তি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সম্পত্তি হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি দিক
সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি কতটা মজবুত, তা এই চারটি মৌলিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
ক. উইলের আইনি সীমাবদ্ধতা: মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, মৃত্যুর পূর্বে একজন ব্যক্তি তার মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (সর্বোচ্চ ৩৩.৩৩%) উইল বা ওসিয়ত করতে পারেন। এই সীমা অতিক্রম করে উইল করা হলে তার আইনগত ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। বঞ্চিত উত্তরাধিকারীরা এই ধরনের ওসিয়তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অংশ নিশ্চিত করতে পারেন।
খ. অরেজিস্ট্রিকৃত দলিলের অকার্যকরিতা: সাদা কাগজ, সাধারণ নোটারী বা সরকারি দপ্তরে নিবন্ধনহীন (অরেজিস্টার্ড) কোনো দলিলই মালিকানার বৈধতা দেয় না। যদি কেউ এই ধরনের কাগজের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করে, তবে বাকি ওয়ারিশরা সহজেই আদালতে মামলা করে সেই দলিল বাতিল করিয়ে দিতে পারেন।
গ. খতিয়ানের নামের গুরুত্ব: খতিয়ান বা জরিপের রেকর্ডে নাম থাকলেই তা সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিকানার একমাত্র প্রমাণ নয়। সম্পত্তির অন্যান্য বৈধ ওয়ারিশগণ বাটোয়ারা মামলা দায়ের করে তাদের নিজ নিজ অংশ নিশ্চিত করার অধিকার রাখেন।
ঘ. বৈধ দানপত্র (হেবা) বা বিক্রয়: যদি পিতা তার জীবদ্দশায় নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি হেবা (উপহার) করেন অথবা বিক্রয় করে দেন, তবে সেই হস্তান্তর পূর্ণাঙ্গ আইনি বৈধতা পায়। এই পরিস্থিতিতে, সাধারণত অন্য সন্তানদের পক্ষে আইনগতভাবে সেই হস্তান্তর আটকানো সম্ভব হয় না।
২. সম্পদ পুনরুদ্ধারে বঞ্চিত ওয়ারিশের পদক্ষেপ
যদি কোনো উত্তরাধিকারী সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে তিনি নিম্নলিখিত ৫টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে পারেন:
১. ওয়ারিশ সনদ: প্রথমত, স্থানীয় কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
২. ওয়ারিশ তালিকা: সম্পত্তির সকল বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম ও অংশ নিশ্চিত করুন।
৩. আইনজীবীর পরামর্শ: অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ সিভিল আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
৪. বাটোয়ারা মামলা: অংশ দাবি করে আদালতে বাটোয়ারা (Partition) মামলা দায়ের করুন।
৫. নামজারি ও রেকর্ড: আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে সম্পত্তির নামজারি এবং রেকর্ড সংশোধন করিয়ে নিন।
৩. আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশে জরুরি সতর্কবার্তা
সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বা পরে অবশ্যই আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক। ভুল তথ্য বা আইনি ভিত্তিহীন কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করা থেকে বিরত থাকুন। যদি কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়ে থাকে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ৫ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- চলতি সপ্তাহে ১৮০ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ও ইপিএস ঘোষণা
- বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর: শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা
- Fulham vs Aston Villa: ৮০ মিনিটের খেল শেষ, জানুন ফলাফল
- আকিজ গ্রুপের হাতে ডমিনেজ স্টিল: শেয়ারদরে ১৩৩% উল্লম্ফন
- কমলো আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট (২৪ এপ্রিল ২০২৬)
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুশনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬)
- আবহাওয়ার খবর: তিন বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা
- গরমে ঠান্ডা পানি কি ক্ষতিকর? সত্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা
- আজ রিয়াল বেটিস বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ: সম্ভাব্য একাদশ ও লাইভ দেখার উপায়
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬)
- মাত্র ১৫০ টাকায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের টিকিট
- আজকের সৌদি রিয়াল রেট (২৪ এপ্রিল ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি:লিভারপুল বনাম প্যালেস
- ২০২৬ সালে ২০ হাজার টাকার বাজেটে সেরা ৫ স্মার্টফোন: ফিচার ও দাম