ঢাকা, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

ধূমপান, মদপান নয়; এই ৫টি ভুলে বাড়ে ক্যানসার

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৯ ১৮:২৭:৩৯
ধূমপান, মদপান নয়; এই ৫টি ভুলে বাড়ে ক্যানসার

মারণব্যাধি ক্যানসারের সঠিক কারণ আজও রহস্যে মোড়া। এর নির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। সাধারণত অনেকেই মনে করেন, এই রোগটি কেবল বংশগত বা জিনগত কারণেই হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ভিন্ন। তাদের মতে, জীবনযাত্রার লাগামহীনতা বা অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইলও ক্যানসারের ঝুঁকিকে দ্রুত বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে, অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা ভবিষ্যতের ক্যানসার ঝুঁকির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'রিস্ক ফ্যাক্টর' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আশার কথা এই যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুসারে, দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন অভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে:

ঝুঁকি বাড়ায় যে অভ্যাসগুলো

১. তামাকজাত দ্রব্য ও ধূমপান অবিলম্বে ত্যাগ করুন

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এই নীরব ঘাতক থেকে অবিলম্বে মুক্তি নিন। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, তামাকজাত দ্রব্যে প্রায় ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেনিক উপাদান বিদ্যমান। ধূমপান কেবল ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই বিপদ বাড়ায় না; এটি মুখ, প্যানক্রিয়াস-সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্যানসার কোষের জন্ম দিতে পারে। সুরক্ষার জন্য আজই এই বদভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

২. অ্যালকোহল সেবন পরিহার করুন

অ্যালকোহল সেবনকে এক প্রকার বিষপান হিসেবেই গণ্য করা উচিত। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট সতর্ক করেছে যে, পরিমিত পরিমাণে মদ্যপান করলেও স্তন, লিভার এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরে প্রবেশ করার পর অ্যালকোহল ভেঙে অ্যাসিটালডিহাইডে পরিণত হয়, যা ডিএনএ-এর ক্ষতি করতে সক্ষম একটি বিষাক্ত রাসায়নিক। এটিই ক্যানসার ঝুঁকি বাড়ার মূল কারণ।

৩. প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ এড়িয়ে চলুন

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রক্রিয়াজাত খাবারকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সসেজ, সালামি, অতিরিক্ত চিনি মেশানো খাবার ও বোতলজাত কোমল পানীয় (সফট ড্রিংক্স)-এর মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রীগুলি ক্যানসারের ঝুঁকিকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাজা ফল ও শাকসবজিকে আপন করে নিন। এই প্রাকৃতিক খাবারগুলোতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে সুরক্ষা দেয়।

৪. দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা

কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, শারীরিক সক্রিয়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটানা ৮-৯ ঘণ্টা এক জায়গায় বসে বা শুয়ে থাকার অভ্যাসও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। জীবনকে যত বেশি সক্রিয় রাখা হবে, ততই সুস্থতা বজায় থাকবে।

৫. আদর্শ ওজন বজায় রাখুন (স্থূলতা পরিহার)

দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট ধরে দ্রুত হাঁটা (ব্রিস্ক ওয়াকিং), সাইক্লিং বা যোগব্যায়ামের মতো শারীরিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকা আবশ্যক। এই কার্যকলাপগুলো শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি সিস্টেম) শক্তিশালী করে। যেহেতু স্থূলতা বা ওবেসিটির সঙ্গেও ক্যানসারের যোগসূত্র রয়েছে, তাই আদর্শ ওজন বজায় রাখা অপরিহার্য।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ