MD. Razib Ali
Senior Reporter
ঘুমে ঘাম কি বিপদের লক্ষণ? ৪টি বড় কারণ জেনে নিন
বিছানায় শোয়ার পর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় অনেকেরই শরীর ভিজে ওঠে ঘামে। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ কোনো অস্বস্তি মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। রাতের এই অস্বাভাবিক ঘাম মূলত শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো গোলযোগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের ঘাম নিজে কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয়, বরং এটি বড় কোনো শারীরিক সমস্যার আগাম সংকেত বা লক্ষণ। আপনার বিপাক প্রক্রিয়া, হরমোনের ভারসাম্য কিংবা জীবনযাত্রার কোনো ত্রুটি এর পেছনে দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার পেছনে প্রধান যে ৪টি কারণ থাকতে পারে:
১. হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি থাকে নির্দিষ্ট কিছু হরমোনের হাতে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ বা পেরিমেনোপজ চলাকালীন ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে দেহের তাপ-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়, ফলে রাতে হুটহাট গরম লাগা বা ঘাম হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠলে (হাইপারথাইরয়েডিজম) শরীরের বিপাকীয় গতি বেড়ে যায় এবং দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত রাতের ঘাম হিসেবে প্রকাশ পায়।
২. সংক্রমণের পূর্বাভাস
যদি রাতের ঘামের সাথে ক্রমাগত ক্লান্তি, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি কিংবা আচমকা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। যক্ষ্মা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লড়াই শুরু করে, তখন প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাতে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। এই ধরনের লক্ষণে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
৩. স্নায়বিক চাপ ও দুশ্চিন্তা
শারীরিক বিশ্রামের সময়ও আমাদের মস্তিস্ক ও স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকে না। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উৎকণ্ঠা আমাদের 'সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম'কে উত্তেজিত করে তোলে, যা হৃদস্পন্দনের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরকে ঘামাতে বাধ্য করে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখেন কিংবা অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তাদের শরীরে 'কর্টিসোল' হরমোনের প্রভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটে।
৪. শর্করার মাত্রায় বড় পতন
রক্তে শর্করার মাত্রা বা সুগার হঠাৎ কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) রাতের ঘামের একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা যদি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তবে রাতে তাদের সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যেতে পারে। এর ফলে ঘুমের মধ্যে অস্থিরতা ও ঘাম হওয়ার পাশাপাশি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা বা প্রচণ্ড অবসাদ অনুভূত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, রাতের ঘামকে কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। যদি এটি আপনার ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে, তবে বুঝতে হবে শরীর আপনাকে কোনো বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- একই পথে দুই ফান্ড, শেয়ারবাজারে আসছে বড় পরিবর্তন
- বীমার সাত কোম্পানির গ্রাহকদের জন্য বড় খবর
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত, জেনে নিন পুরো নিয়ম
- আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ, বিএসইসির নতুন খসড়া
- হঠাৎ কমল এলপিজি গ্যাসের দাম, নতুন দর জানুন
- ২ সেপ্টেম্বর আজকেরস্বর্ণ ও রুপার নতুন দর জেনে নিন
- ৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করল যমুনা ব্যাংক, বন্ডে কারা কত বিনিয়োগ করল
- অবশেষে জানা গেল নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের তারিখ
- ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে গোপন সমঝোতা? যা বললেন শেখ হাসিনা
- মমতার আত্মীয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তদন্ত, জানা গেল যেসব তথ্য
- আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ ঘোষণা
- কমেছে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ, কারণ জানাল আদানি পাওয়ার
- নেপাল থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ, বিকল্পের খোঁজে কাঠমান্ডু
- কলকাতায় কড়াকড়ি, বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জরুরি পরামর্শ