MD. Razib Ali
Senior Reporter
ইফতারে কী খেলে সারাদিন ক্লান্তি হবে না?
রমজানে দিনভর উপবাসের পর শরীরকে কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত রাখা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বাড়তি কোনো কসরত নয়, বরং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতাই আপনাকে সুস্থ রাখতে যথেষ্ট। রোজা রেখেও কীভাবে শারীরিক সজীবতা বজায় রাখা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো।
খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিমিতিবোধ
সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আপনার ইফতার ও সেহরির মেনুতে। ইফতারের টেবিলে আমরা সাধারণত মুখরোচক ডুবো তেলে ভাজা বা অতিরিক্ত ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার পছন্দ করি। কিন্তু পাকস্থলী সুস্থ রাখতে এসব খাবারের পাশাপাশি কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মিশ্রিত পানীয় পুরোপুরি বর্জন করা উচিত। পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন। মনে রাখবেন, সূর্যাস্তের পর হুট করে অনেক বেশি খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া দিনের ক্লান্তি দূর করতে সেহরি বাদ দেওয়ার প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে।
পানিশূন্যতা রোধে বিশেষ সতর্কতা
দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয়। যেহেতু রমজানে পানি পানের জন্য খুব সীমিত সময় পাওয়া যায়, তাই এই সময়ের সঠিক ব্যবহার জরুরি। পানির তৃষ্ণা মেটাতে কার্বোনেটেড বেভারেজ বা ক্যাফেইনযুক্ত (চা-কফি) পানীয়র বদলে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর তরল খাবার বেছে নিন। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস খুঁজুন
রমজানে সারাদিন সচল থাকতে শক্তির জোগান অপরিহার্য। চিনিযুক্ত খাবার তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দিলেও তা দ্রুতই নিঃশেষ হয়ে যায় এবং শরীরকে আরও অবসাদগ্রস্ত করে তোলে। এর বদলে আশঁযুক্ত বা ফাইবারসমৃদ্ধ এবং ধীরগতিতে হজম হয় এমন খাবার বেছে নিন। এই ধরণের খাবারগুলো শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, যা আপনাকে দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত বোধ করতে দেয় না এবং কর্মক্ষম রাখে।
পুষ্টির পাওয়ার হাউজ ‘খেজুর’
ইফতারে খেজুর খাওয়ার ঐতিহ্য কেবল ধর্মীয় নয়, বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও অত্যন্ত ফলপ্রসূ। খেজুরে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বি-ভিটামিন এবং প্রচুর ফাইবার দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ইফতারের শুরুতে অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়। ফলে অতিরিক্ত ওজন বাড়ার ঝুঁকিও কমে।
শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বা ডিটক্স
রোজা কেবল আত্মিক শুদ্ধি নয়, এটি শরীরের জন্য একটি শক্তিশালী ‘ডিটক্স’ প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে দেহের ভেতর জমে থাকা টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানগুলো বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এই প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি এবং প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ করলে শরীরের কার্যক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং কোষগুলো পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পায়।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন অনুসরণ করলে এই পবিত্র মাসে ইবাদতের পাশাপাশি শরীরকেও রাখা সম্ভব রোগমুক্ত ও চনমনে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে? আলোচনায় যে ৫ নাম
- আজকের খেলার সময়সূচি:ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
- বিপদে ক্যাপ্টেন কুল! ধোনিকে সরকারি কড়া আইনি নোটিশ
- মার্চে তেলের নতুন দাম: ডিজেল ও অকটেন কত টাকা?
- ভারতের বিপক্ষে গেইলের বাজি, ফিরল ২০১৬-র মধুর স্মৃতি
- বিসিএলে জিসানের সেঞ্চুরি ও হাসানের অবিশ্বাস্য জয়
- নারী এশিয়ান কাপ-বাংলাদেশ বনাম চীন ম্যাচ কবে, কখন জানুন সময়সূচি
- স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল: এক সপ্তাহেই ৯,৮৫৬ টাকা বৃদ্ধি!
- নারী এশিয়ান কাপ ২০২৬- মুখোমুখি বাংলাদেশ বনাম চীন, জানুন সময়সূচি
- বিসিবিতে সবাই ভালো না! বোর্ড নিয়ে সুজনের বড় মন্তব্য
- নবম পে স্কেল সর্বশেষ যা জানা গেল
- কেন সরলেন জয়সুরিয়া? শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে বড় সিদ্ধান্ত
- পাকিস্তান সিরিজে কি খেলবেন তানজিম সাকিব? মিলল বড় সুখবর!
- সাকিবের দেশ থেকে বিদায় হবে বড় গর্বের: মোসাদ্দেক
- বিসিএলে জিসান-আকবরের সেঞ্চুরি, নির্বাচকদের নিয়ে যা বললেন আশরাফুল