ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

৩০ এর পর মা হতে চান? এই তথ্যগুলো এড়িয়ে যাবেন না

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১১:১৫:৫১
৩০ এর পর মা হতে চান? এই তথ্যগুলো এড়িয়ে যাবেন না

ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত গুছিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে অনেক নারীই এখন ত্রিশের কোঠায় পৌঁছে সন্তান নেওয়ার কথা ভাবেন। অধিকাংশেরই ধারণা, শারীরিক সুস্থতা এবং নিয়মিত মাসিক হওয়াই গর্ভধারণের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর শরীরে প্রজনন ক্ষমতার যে পরিবর্তন ঘটে, তা অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হয় না।

জৈবিক ঘড়ি ও ডিম্বাণুর সীমাবদ্ধতা

প্রকৃতিগতভাবেই একজন নারী নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মলাভ করেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নতুন করে ডিম্বাণু তৈরির কোনো সুযোগ থাকে না, বরং বিদ্যমান মজুত কমতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন, ত্রিশের দশকের শুরু থেকেই ডিম্বাণুর মান ও সংখ্যা—উভয়ই হ্রাস পেতে শুরু করে, যা ৩৫ বছরের পর অত্যন্ত দ্রুততর হয়।

শরীরে ডিম্বাণুর এই মজুত কতটুকু আছে, তা পরিমাপের একটি অন্যতম সূচক হলো ‘অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন’ বা এএমএইচ (AMH)। বয়সের ভারে এই হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া মানেই হলো মা হওয়ার সম্ভাবনা সংকুচিত হয়ে আসা। এটি একটি স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলেও অনেক নারীই এই ধীর পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত থাকেন না।

উপসর্গহীন প্রজনন জটিলতা

প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়ার সবচেয়ে ভীতিকর দিক হলো এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। একজন নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য চমৎকার থাকতে পারে এবং পিরিয়ডও হতে পারে একদম ঘড়ি ধরে, তবুও তার গর্ভধারণের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। সাধারণত দীর্ঘকাল চেষ্টার পরও যখন সন্তান লাভে ব্যর্থ হন, তখনই অনেকে এই 'নীরব' সমস্যার কথা জানতে পারেন।

এছাড়া ডিম্বাণুর বয়সের ওপর ভ্রূণের বংশগতি বা জেনেটিক সক্ষমতা নির্ভর করে। বয়স বেশি হলে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এটি শুধু গর্ভধারণকেই কঠিন করে না, বরং ভ্রূণের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং গর্ভপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

সচেতন সিদ্ধান্ত ও আধুনিক সমাধান

অবশ্য ৩৫ পার হওয়া মানেই মা হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বর্তমান সময়ে অনেক নারীই চিকিৎসকের পরামর্শে অথবা স্বাভাবিক নিয়মে ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো নিজের শরীরের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা। নিজের ফার্টিলিটি স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানলে একজন নারীর জন্য তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কর্মজীবন এবং পারিবারিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা অনেক সহজ হয়।

প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা

মাতৃত্বের পরিকল্পনা করার আগে বর্তমানে দুটি পরীক্ষা অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে:

এএমএইচ (AMH) টেস্ট: এটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর রিজার্ভ বা মজুত কেমন আছে তার ধারণা দেয়।

এএফসি (AFC) আল্ট্রাসাউন্ড: এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা ডিম্বাশয়ে কতগুলো ফলিকল বিকশিত হচ্ছে তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

এই পরীক্ষাগুলো গর্ভাবস্থার শতভাগ গ্যারান্টি না দিলেও, একজন নারী বর্তমান সময়ে কতটা প্রজননক্ষম বা উর্বর আছেন, তার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে। তাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই হতে পারে একজন নারীর মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণের মূল ভিত্তি।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ