MD. Razib Ali
Senior Reporter
সাবধান! এই ৫ 'স্বাস্থ্যকর' খাবারই বাড়াচ্ছে হার্টের ঝুঁকি
পুষ্টিকর মনে করে আমরা প্রতিদিন এমন অনেক খাবার পাতে তুলি, যা প্রকৃতপক্ষে আমাদের হৃদযন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্ত্রের (Gut) সুস্থতার সাথে হৃদপিণ্ডের সরাসরি সংযোগ এখন একটি প্রমাণিত সত্য। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং রক্তনালীর সুস্থতা অনেকাংশেই নির্ভর করে অন্ত্রের অণুজীব বা মাইক্রোবায়োমের ওপর। কিন্তু বিজ্ঞাপনের চমকে 'হেলদি' হিসেবে পরিচিত কিছু খাবার এই অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করে হৃদরোগের পথ প্রশস্ত করছে।
সম্প্রতি পুষ্টিবিজ্ঞানীদের পর্যালোচনায় এমন ৫টি খাবারের তালিকা উঠে এসেছে, যা সুস্থতার বদলে আপনার হৃদপিণ্ডকে বিপদে ফেলতে পারে:
১. মিষ্টি ও কৃত্রিম ঘ্রাণযুক্ত দই
প্রোবায়োটিকের উৎস হিসেবে দই অত্যন্ত কার্যকর হলেও বিপত্তি বাঁধে যখন আমরা প্রক্রিয়াজাত ‘ফ্লেভারড ইয়োগার্ট’ বেছে নিই। এসব পণ্যে স্বাদ বাড়াতে অতিরিক্ত চিনি ও ঘন সিরাপ মেশানো হয়। এই বাড়তি চিনি অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে শক্তিশালী করে তোলে, যার প্রভাবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়—যা শেষ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
২. বাজারজাতকৃত ফ্রুট জুস বা ফলের রস
আস্ত ফলের পুষ্টি আর বোতলজাত জুস কখনোই এক নয়। প্যাকেজজাত রসে ফলের সবথেকে জরুরি অংশ ‘ফাইবার’ বা আঁশ ছেঁটে ফেলা হয়। আঁশহীন তরল শর্করা রক্তে দ্রুত মিশে গিয়ে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এভাবে রক্তে শর্করার উত্থান-পতন ঘটলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরোক্ষভাবে হার্টের পেশিকে দুর্বল করে ফেলে।
৩. প্রক্রিয়াজাত গ্লুটেন-মুক্ত খাদ্যপণ্য
অনেকেই হজমের সমস্যার ভয়ে বা ফ্যাশন হিসেবে ‘গ্লুটেন-ফ্রি’ খাবার বেছে নেন। তবে এসব পাউরুটি বা বিস্কুট তৈরি করতে ফাইবারহীন পরিশোধিত চালের গুঁড়া কিংবা পটেটো স্টার্চ ব্যবহার করা হয়। এগুলোর উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স শরীরের বিপাকীয় সিস্টেমে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের অণুজীবের কার্যকারিতা কমিয়ে হৃদরোগের জটিলতা তৈরি করে।
৪. উদ্ভিদ-উৎসজাত কৃত্রিম মাংস (Plant-based Meat)
মাংসের বিকল্প হিসেবে ইদানীং ভেগান বা প্ল্যান্ট-বেসড মিট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু এসব খাবারে স্বাদ ও স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রচুর পরিমাণে লবণ (সোডিয়াম), প্রিজারভেটিভ এবং রিফাইনড অয়েল ব্যবহার করা হয়। মাত্রাতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ। এছাড়া এর রাসায়নিক উপাদানগুলো অন্ত্রের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়।
৫. বোতলজাত হেলদি ড্রিংকস ও স্মুদি
খাদ্যতালিকায় ক্যালোরি কমাতে অনেকেই বোতলজাত স্মুদি পান করেন। কিন্তু আড়ালে এতে লুকিয়ে থাকে প্রচুর ক্যালোরি ও সুগার। আঁশহীন এই পানীয়গুলোতে কৃত্রিম মিষ্টান্ন মেশানো থাকে যা সাময়িক তৃপ্তি দিলেও শরীরে পুষ্টির যোগান দেয় না। বরং আঁশহীন অতিরিক্ত শর্করা দ্রুত গ্রহণের ফলে তা হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়।
হার্ট সুস্থ রাখার উপায়:
গবেষকদের মতে, প্রক্রিয়াজাত খাবারের মায়া ত্যাগ করে আস্ত ও প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। আঁশযুক্ত শাক-সবজি, মৌসুমি ফল, শস্যদানা, বাদাম এবং বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অন্ত্রের পরিবেশ রক্ষা করে এবং হৃদপিণ্ডকে সচল রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় খবর, যে কারণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- কোল্ড ড্রিংকস খেলে অ্যাসিডিটি কমে, নাকি বাড়ে? জানুন সত্য
- সংযোগ নেই, মিটারও নেই—তবুও হাতে বিদ্যুৎ বিল!
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান