MD. Razib Ali
Senior Reporter
ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি করা কি জায়েজ? ইসলামি শরীয়তে এর বিধান কী?
মানবজাতির জন্য অর্থনৈতিক লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলাম যে সীমারেখা টেনে দিয়েছে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট। সর্বশক্তিমান আল্লাহ ব্যবসা-বাণিজ্যকে বৈধ (হালাল) করলেও, সুদের পথকে সম্পূর্ণরূপে রুদ্ধ করেছেন এবং একে হারাম ঘোষণা করেছেন। এই কারণে, ইসলামি শরীয়াহর ফতোয়া অনুযায়ী, কোনো প্রকার সুদের শর্ত সাপেক্ষে ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থায়ন নিয়ে বাড়ি তৈরি করা কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়।
সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছুই ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই সরকারি বা বেসরকারি—যে কোনো উৎসের ঋণই যদি সুদভিত্তিক হয়, তবে তা গ্রহণ করা ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ নেই। সুদকে ইসলামে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং এটি অত্যন্ত বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সুদের ভয়াবহতা
যে ঋণ ঋণদাতার জন্য অতিরিক্ত সুবিধা বা উপকার বয়ে আনে, তাই সুদ (রিবা)—যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি একটি মহাপাপ। সুদের সঙ্গে জড়িত থাকায় সম্পদ বা লোন নেওয়া হারাম বলে গণ্য হয়, যদিও সুদমুক্তভাবে অর্জিত সম্পদ হালাল।
১. আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা
আল্লাহ তায়ালা সুদের লেনদেনকারীদের প্রতি যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন, তা বান্দার জন্য চূড়ান্ত সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ নির্দেশ দেন:
‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও। কিন্তু যদি তোমরা তা না কর, তাহলে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও...।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭৮-২৭৯)
২. সুদ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অভিশাপ
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই মহাপাপ থেকে সতর্ক থাকতে মুমিনদের বারবার তাগিদ দিয়েছেন। সুদের লেনদেনে জড়িত সকল পক্ষের পরিণতি সম্পর্কেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
সুদের স্তরের ভয়াবহতা: হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এর ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলা হয়েছে—‘সুদের গুনাহর সত্তরটি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তর হলো আপন মাকে বিবাহ (জেনা) করা।’ (ইবনে মাজাহ ২২৭৪)
লেনদেনে জড়িতদের পরিণতি: হজরত ইবনু মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, লেখক এবং সাক্ষী—সবার ওপর আল্লাহর অভিশাপ।’ (মুসলিম ৩৯৪৮)
এই হাদিস স্পষ্ট করে যে, সুদের লেনদেনে কেবল ঋণ গ্রহণকারীই নয়, বরং অর্থ প্রদানকারী, চুক্তির লেখক এবং সাক্ষী—সকলেই সমানভাবে অভিশাপের আওতায় পড়ে।
হারাম পরিহার করে আবাসন নির্মাণের শরীয়ত-সম্মত বিকল্প
বাড়ি নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি জীবনের প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই হারাম বা নিষিদ্ধ উপায়ে করা যাবে না। সুদের সঙ্গে জড়িত যেকোনো আর্থিক লেনদেন এড়িয়ে চলাই একজন মুমিনের কর্তব্য।
ইসলামি ব্যাংকিং-এর পথ: আবাসন তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত বিকল্প পথ অবলম্বন করা সম্ভব। সুদের সঙ্গে জড়িত না হয়ে লাভ বা ভাড়ার বিষয় থাকে এমন লেনদেন ইসলামে অনুমোদিত। এজন্য ইসলামি ব্যাংকগুলো মুরাবাহা (লাভে বিক্রি) বা ইজারা (ভাড়ার চুক্তি)-ভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে অর্থায়ন করে, যা শরীয়ত-সম্মত। এই পদ্ধতিগুলো সুদমুক্ত হওয়ায় তা জায়েজ হতে পারে।
জরুরি অবস্থার ব্যতিক্রম (সতর্কতা): যদি কোনো পরিস্থিতিতে শরীয়ত-সম্মত সুদমুক্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা না পাওয়া যায়, তবে চরম জরুরি অবস্থায় হালাল উৎস থেকে লোন নিয়ে হালাল কাজে ব্যবহারের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে, সুদের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলাই মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পন্থা।
সুদভিত্তিক লোন নিয়ে বাড়ি বানালে সেই বাড়িতে থাকা ও এর আয় হালাল কি না, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, মূল বিষয়টি অপরিবর্তিত—বাড়ি নির্মাণের জন্য যে অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উৎস অবশ্যই হালাল হওয়া আবশ্যক। তাই সুদমুক্ত বিকল্প খুঁজুন অথবা ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সাহায্য নিন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- সিরিন ল্যাবস ফিনি: প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা সেই ৫ লাখ টাকার ফোনের আসল রহস্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বুধবার, ৬ মে ২০২৬)
- বিএসইসির কড়া নির্দেশ: ২০ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে ভ্যানগার্ড ম্যানেজমেন্ট
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মে ২০২৬; জানুন ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- বায়ার্ন-পিএসজি মহারণ: দেখে নিন আজকের খেলার সময়সূচি
- প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ করলো লিন্ডে বিডি
- প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ করলো আইডিএলসি ফাইন্যান্স
- প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ করলো জনতা ইন্স্যুরেন্স
- উইজডেনের পিএসএল সেরা একাদশে বাংলাদেশের নাহিদ রানা
- আজকের খেলার সময় সূচি:অ্যাস্টন ভিলা-নটিংহাম
- ডিভিডেন্ড ও ইপিএস ঘোষণা: ব্র্যাক ও উত্তরা ব্যাংকসহ ৭ কোম্পানির দিনক্ষণ চূড়ান্ত