ঢাকা, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

শবে বরাত: জানুন নামাজের সঠিক পদ্ধতি ও বিশেষ দোয়া

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১৬:৩৪:১০
শবে বরাত: জানুন নামাজের সঠিক পদ্ধতি ও বিশেষ দোয়া

ইসলামি পঞ্জিকার অন্যতম বরকতময় রাত ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা পবিত্র শবে বরাত। বিশ্বজুড়ে মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পাপমুক্তির আকুল বাসনা নিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করেন। ২০২৬ সালে এই পুণ্যময় রাতটি কবে এবং কীভাবে ইবাদত করবেন, তা নিয়ে আজকের এই বিশেষ আয়োজন।

২০২৬ সালের শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ

জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার দিবাগত রাত) পবিত্র শবে বরাত পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বরাবরের মতো চূড়ান্ত তারিখটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

ধর্মীয় গুরুত্ব ও তাৎপর্য

পবিত্র কুরআনের সূরা আদ-দুখানে একটি 'বরকতময় রজনী'র উল্লেখ পাওয়া যায়, যাকে অনেক ব্যাখ্যাকারী শবে বরাতের ইশারাহ হিসেবে গণ্য করেন। হাদীস শাস্ত্রেও এই রাতের বিশেষ মর্যাদার কথা এসেছে।

সুনানে ইবনে মাজাহ’র ১৩৮৮ নম্বর হাদীস অনুযায়ী, শাবানের ১৫তম রাতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত বান্দাদের আহ্বান করতে থাকেন— কে আছো ক্ষমা চাওয়ার? কে আছো রিজিকপ্রার্থী? এছাড়া হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে, এই রাতে বনু কালব গোত্রের ভেড়ার শরীরের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক মানুষকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।

নফল ইবাদত ও নামাজের নিয়ম

শবে বরাতের জন্য বিশেষ কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। এটি মূলত একান্ত ইবাদতের সময়।

১. নামাজের পদ্ধতি: এই রাতের নামাজ অন্যান্য সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়। মনে মনে কিবলামুখী হয়ে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজের ইচ্ছা পোষণ করাই যথেষ্ট।

২. রাকাত সংখ্যা: নামাজের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। শারীরিক সামর্থ্য ও ভক্তির ওপর ভিত্তি করে ৮, ১২, ২০ কিংবা ততোধিক রাকাত নামাজ পড়া যেতে পারে।

৩. সূরা ও তিলাওয়াত: সূরা ফাতিহার পর যে কোনো সূরা বা আয়াত দিয়ে এই নামাজ পড়া যায়। দীর্ঘ সময় নিয়ে নামাজ আদায় করা সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হয়।

৪. বিবিধ আমল: নামাজের পাশাপাশি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, মহান আল্লাহর জিকির এবং নিজের ও মৃত স্বজনদের জন্য অশ্রুবিসর্জন দিয়ে দোয়া করা এই রাতের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ জিকির ও রোজা

এই রাতে সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া না থাকলেও বেশি বেশি ‘তওবা ও ইস্তিগফার’ (আস্তাগফিরুল্লাহ...) এবং প্রিয় নবী (সা.) এর ওপর দুরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এছাড়া পরদিন (১৫ই শাবান) নফল রোজা রাখা মুস্তাহাব। অনেকে এই রোজাটি চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের (আইয়ামে বীজ) সুন্নত রোজার সাথে মিলিয়েও পালন করেন।

এক নজরে ২০২৬ সালের ইসলামি পঞ্জিকা (সম্ভাব্য)

চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের প্রধান উৎসব ও দিবসগুলোর সম্ভাব্য সময়সূচী নিচে দেওয়া হলো:

শবে মেরাজ: ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার রাত)।

পবিত্র রমজান শুরু: ১৮ ফেব্রুয়ারি।

শবে কদর: ১৫ মার্চ (রবিবার রাত)।

ঈদুল ফিতর: ১৯ বা ২০ মার্চ।

হজ পালন: ১৪ মে থেকে।

ঈদুল আজহা: ১৬ মে (শনিবার)।

আশুরা: ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার)।

ঈদে মিলাদুন্নবী: ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার)।

ইবাদত ও জীবনযাপনের ভারসাম্য

ইসলাম মানুষকে শুধু উপাসনালয়ে বন্দী থাকতে শেখায় না, বরং এটি একটি সুসংগত জীবনবিধান। সূরা জুমআ’র ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, নামাজ শেষ করে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং জীবিকা অন্বেষণ করো। অর্থাৎ কর্মবিমুখতা ইসলামে কাম্য নয়। এমনকি আনন্দ উদযাপনেও ইসলাম মার্জিত রুচির পরিচয় দেয়। প্রাচীনকালের কুসংস্কার ও উগ্র সংস্কৃতি পরিহার করে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো পবিত্র উৎসব উপহার দিয়েছেন।

সর্তকবার্তা

শবে বরাতের মূল চেতনা হলো বিনয় ও আত্মশুদ্ধি। এই রাতে আতশবাজি, মাত্রাতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা হৈ-হুল্লোড়ের মতো অনর্থক কাজে লিপ্ত হওয়া ইসলামি শরীয়ত বিরোধী। যাবতীয় অপচয় ও কুসংস্কার মুক্ত থেকে একাগ্রচিত্তে ইবাদতে মগ্ন হওয়াই একজন সচেতন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

শবে বরাত ২০২৬: সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা (FAQ)

১.২০২৬ সালের শবে বরাত কত তারিখে?

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শবে বরাত ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার দিবাগত রাত) পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখটি শাবান মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

২.শবে বরাতের নামাজ কত রাকাত পড়তে হয়?

শবে বরাতের নামাজের নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নেই। আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ৮, ১২, ২০ বা তার বেশি রাকাত নফল নামাজ দুই রাকাত করে আদায় করতে পারেন।

৩.শবে বরাতের নামাজের বিশেষ কোনো নিয়ম আছে কি?

না, শবে বরাতের নামাজের জন্য আলাদা কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সাধারণ নফল নামাজের মতোই সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যে কোনো সূরা মিলিয়ে এই নামাজ পড়া যায়। তবে দীর্ঘ কিরাত ও দীর্ঘ সেজদা করা অধিক সওয়াবের কাজ।

৪.শবে বরাতের রোজা কবে রাখতে হয়?

শবে বরাতের পরের দিন অর্থাৎ ১৫ই শাবান নফল রোজা রাখা মুস্তাহাব। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) এই রোজা রাখার সম্ভাব্য তারিখ। এছাড়াও ১৩, ১৪ ও ১৫ই শাবান 'আইয়ামে বীজ'-এর সুন্নত রোজা রাখা যেতে পারে।

৫.শবে বরাতের রাতে কোন আমলটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

এই রাতের মূল কাজ হলো মহান আল্লাহর দরবারে তওবা ও ইস্তিগফার করা। এছাড়া নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং মৃত আত্মীয়-স্বজনের কবরের পাশে গিয়ে দোয়া করা ফজিলতপূর্ণ কাজ।

৬.শবে বরাতে কি আতশবাজি ফোটানো জায়েজ?

ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী আতশবাজি ফোটানো বা অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা অপচয় ও অনর্থক কাজ। শবে বরাত মূলত ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির রাত, তাই এসব পরিহার করে শান্ত ও নম্রভাবে ইবাদত করা উচিত।

আল-মামুন/

ট্যাগ: ২০২৬ সালের ইসলামি ক্যালেন্ডার শবে বরাত ২০২৬ Shabe Barat 2026 শবে বরাতের আমল শবে বরাতের নামাজের নিয়ম শবে বরাতের নামাজ কত রাকাত শবে বরাতের দোয়া ও আমল শবে বরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব শবে বরাতের রোজা কবে ২০২৬ 15th Shaban 2026 date Shabe Barat namaz rules শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে ২০২৬ সালের শবে বরাত কবে? শবে বরাত ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশ ২০২৬ সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ কবে? লাইলাতুল বরাতের তারিখ ২০২৬ শবে বরাতের নামাজের নিয়ত ও নিয়ম শবে বরাতের নফল নামাজ পড়ার পদ্ধতি ১৫ই শাবানের রোজার ফজিলত ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের তারিখ শবে মেরাজ ২০২৬ কবে? শবে বরাতের তারিখ লাইলাতুল বরাত শাবান মাস ২০২৬ নামাজের সঠিক নিয়ম ইসলামি দিবস ২০২৬ ধর্ম ও জীবন Shabe Barat 2026 date in Bangladesh Shab e Barat 2026 calendar Shab e Barat prayer method Shabe Barat dua and amal Islamic holidays 2026 Shabe Barat 2026 date and time Shab-e-Barat 2026 fasting date Shab-e-Barat Date

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ