Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
বিয়ের পর নারীর নাকি পুরুষের মধ্যে অসন্তুষ্টি বেশি, জরিপ প্রকাশ
বিয়ে নিয়ে এক প্রচলিত কথার দেখা মেলে—“বিয়ের লাড্ডু খেলে সবাই পরে পস্তায়।” তবে বাস্তবে নারীর তুলনায় পুরুষরাই কি বেশি হতাশ হন, নাকি এর উল্টো সত্য? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা।
পুরুষরা বিয়ের পর তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তুষ্ট
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ে বা সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করার পর পুরুষেরা বেশিরভাগ সময় মানসিকভাবে সন্তুষ্ট থাকেন। নারীদের অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে ভিন্ন। অনেক নারী বিয়ের পর অসন্তুষ্টির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথা জানান। গবেষকরা মনে করেন, ‘সন্তুষ্টি’ ধারা এবং তার অনুভূতির সময়কাল নারী ও পুরুষের জন্য ভিন্নভাবে কাজ করে।
সম্পর্কের স্বচ্ছতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মানের স্তর বিয়ের সামাজিক রীতি বা বয়স ব্যবধানের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। ব্যক্তিগত আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তিই শেষ পর্যন্ত সম্পর্ককে স্থায়ী করে।
বিয়ের পরিকল্পনা নারীর জন্য সুখের উৎস
অধ্যাপক বেলিন্ডা হিউইটের নেতৃত্বে পরিচালিত এক ১৮ বছরের গবেষণায় প্রায় ২,৮২০ জনের জীবনযাপন ও মানসিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হয়। ফলাফল অনুযায়ী, নারীরা সবচেয়ে সুখী থাকেন যখন তারা প্রেম বা লিভ-ইনের মাধ্যমে বিয়ের পরিকল্পনায় রয়েছেন।
বিয়ে বা হানিমুনের আগ্রহ নারীকে মানসিকভাবে পরিপূর্ণ করে। কিন্তু এক বছর পার হতেই সেই আনন্দ হ্রাস পেতে শুরু করে। গবেষকেরা বলছেন, বিয়ের পর পরিকল্পনার উত্তেজনা শেষ হয়ে যায় এবং সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারণে সুখের স্তর কমে আসে।
বয়সের পার্থক্য এবং সম্পর্কের মানসিক প্রভাব
আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, বয়সে ছোট পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীরা তুলনামূলক বেশি আত্মবিশ্বাসী হন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নারীদের ওপর করা এই গবেষণায় প্রকাশ, এই ধরনের সম্পর্ক নারীদের মানসিক সতর্কতা এবং বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।
এছাড়া তারা নিজেদের আবেগ এবং স্বাধীনতা আরও ভালোভাবে অনুভব করেন। যদিও সমাজ এখনও বয়সে ছোট সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে দেখে, তবে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই সম্পর্কের গভীরতা অনেক সময় সমবয়সী সম্পর্কের চেয়ে বেশি হতে পারে।
সুখের আসল চাবিকাঠি সম্পর্কের মান
গবেষণাগুলো প্রমাণ করে, সুখ কোনো সংখ্যাগত মান বা প্রথাগত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি নির্ভর করে সম্পর্কের গুণমানের ওপর।
বিয়ের আগে ব্যক্তি স্বাধীন থাকে এবং নিজের সত্তা বজায় থাকে।
বিয়ের পর সামাজিক দায়িত্ব ও প্রত্যাশার চাপ বৃদ্ধি পায়।
যেখানে একজন নারী নিজেকে প্রকাশ করার পূর্ণ স্বাধীনতা পান এবং পারস্পরিক সম্মান থাকে, সেখানে সুখ স্থায়ী হয়।
অতএব, বিয়ের পর নারীর অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সম্পর্কের মান, বোঝাপড়া এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বজায় থাকলে এটি কমানো সম্ভব।
সংক্ষেপ: বিয়ে বা সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করার পর পুরুষরা সাধারণত বেশি সন্তুষ্ট থাকলেও, নারীদের ক্ষেত্রে অসন্তুষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সম্পর্কের মান এবং পারস্পরিক সম্মানই স্থায়ী সুখের মূল চাবিকাঠি।
আহসান হাবিব/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজারে নতুন সুখবর, সহজ হচ্ছে মার্জিন বিধিমালা
- ব্যাংক-সঞ্চয় অফিসে যেতে হবে না, সঞ্চয়পত্র কেনায় আসছে নতুন নিয়ম
- SSC Board Result 2026: ঘরে বসেই Challenge করবেন যেভাবে
- আজকের স্বর্ণের দাম ও রুপার সর্বশেষ দাম
- মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬)
- বাংলাদেশের ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, বাড়ল শ্রেণি
- ১৫ মাস ছুটি জমা থাকলেও আছে শর্ত, ২৮ দিনের ছুটি নিয়ে বড় ভুল ধারণা
- একটানা ৫ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস, যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
- ২০২৪ সালের পর প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, কোথায় দেখা যাবে?
- গলায় রামদা ঠেকিয়ে এমপির সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ
- বিয়ে করলেই ৫ লাখ টাকা! তবে রয়েছে যেসব শর্ত
- এমপির বাড়ি-সম্পত্তি লিখে নিয়ে এরপর যা ঘটল সম্পত্তি
- ১০ বছর ধরে নিখোঁজ, ডায়েরিতে লেখা এক শব্দেই মিলল হদিস
- ডনের সঙ্গে সামিরার ছবি নিয়ে এতদিনের বিতর্কে নতুন তথ্য