MD. Razib Ali
Senior Reporter
মরণব্যাধি ক্যান্সার রুখবে এই ৭টি খাবার: তালিকায় কী কী আছে জানুন?
আধুনিক যুগে স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যান্সার। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, যখন শরীরের কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখনই তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। বিশ্বখ্যাত ‘ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক’-এর উপাত্ত বলছে, বর্তমান পৃথিবীতে অকাল মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এই রোগ। বিশেষত ফুসফুস, স্তন, প্রোস্টেট ও ব্লাড ক্যান্সারের প্রকোপ এখন সবচেয়ে বেশি।
তবে আশার কথা হলো, সঠিক খাদ্যাভ্যাস আমাদের শরীরে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সুরক্ষাকবচ তৈরি করতে পারে। প্রকৃতির বুকেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু উপাদান, যা এই মরণব্যাধির ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৭টি জাদুকরী খাবার সম্পর্কে:
১. ব্রকলি ও ফুলকপির ম্যাজিক
শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত ব্রকলি, ফুলকপি কিংবা বাঁধাকপি কেবল সুস্বাদুই নয়, এগুলো ক্যান্সারের যম। এতে থাকা ‘সালফোরাফেন’ নামক উপাদানটি শরীরের ভেতরকার টক্সিন বা বিষ দূর করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদানটি টিউমার গঠনে বাধা দেয়।
২. রঙিন ফল ও বেরির গুণাগুণ
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি কিংবা ডালিমের মতো রঙিন ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিফেনল। এই উপাদানগুলো শরীরের কোষগুলোকে ‘ফ্রি র্যাডিক্যাল’ জনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার রুখতে অত্যন্ত কার্যকর।
৩. টমেটোর লাইকোপিন শক্তি
টমেটোকে বলা হয় ‘লাইকোপিন’-এর আধার। এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মূলত প্রোস্টেট এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সরাসরি কাজ করে। নিয়মিত টমেটো খাওয়া শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখে।
৪. হলুদের প্রদাহরোধী ক্ষমতা
রান্নাঘরের অতি পরিচিত মসলা হলুদ। এতে থাকা ‘কারকিউমিন’ কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধে অভাবনীয় ভূমিকা রাখে। এটি মূলত একটি শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে শরীরের কোষীয় ভারসাম্য বজায় রাখে।
৫. রসুন ও পেঁয়াজের অ্যান্টি-ক্যান্সার প্রভাব
রান্নায় স্বাদ বাড়াতে রসুন ও পেঁয়াজের জুড়ি নেই। তবে এই ঝাঁঝালো উপাদানে রয়েছে বিশেষ ধরনের সালফার যৌগ। এই যৌগগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্যান্সার কোষের বিভাজন রুখে দিতে সক্ষম।
৬. গ্রিন টি-র স্বাস্থ্যগুণ
অনেকেই কেবল ওজন কমানোর জন্য গ্রিন টি পান করেন। তবে এই পানীয়তে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন এবং বৃদ্ধি রোধ করে ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৭. আঁশযুক্ত আস্ত শস্য ও ডাল
আস্ত শস্য (Whole Grains) এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল ফাইবারের প্রধান উৎস। এই খাবারগুলো শুধু হজমশক্তিই বাড়ায় না, বরং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই প্রাকৃতিক খাবারগুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে মরণব্যাধি জয়ের প্রথম পদক্ষেপ।
ক্যান্সার প্রতিরোধক খাবার নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ক্যান্সার কেন হয়?
উত্তর: ক্যান্সার মূলত একটি রোগ যেখানে শরীরের অস্বাভাবিক কোষগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দ্রুত বিভাজিত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
২. বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারগুলো কী কী?
উত্তর: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী— স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং ব্লাড ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এগুলো অত্যন্ত প্রাণঘাতী।
৩. ব্রকলি বা ফুলকপি কীভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে?
উত্তর: ব্রকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো সবজিতে 'সালফোরাফেন' থাকে। এই উপাদানটি শরীরকে বিষমুক্ত করতে এবং টিউমারের বিকাশ রোধ করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৪. টমেটো কেন ক্যান্সার রোগীদের জন্য উপকারী বলা হয়?
উত্তর: টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপিন। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বিশেষ করে প্রোস্টেট এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৫. হলুদের বিশেষ গুণটি কী?
উত্তর: হলুদে 'কারকিউমিন' নামক একটি প্রদাহ-বিরোধী (Anti-inflammatory) উপাদান থাকে। এটি শরীরের কোষগুলোর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং ক্যান্সারের বিস্তার রোধে কাজ করে।
৬. গ্রিন টি কি আসলেও ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, গ্রিন টি-তে 'ক্যাটেচিন' নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এটি ক্যান্সার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিভাজন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
৭. রসুন ও পেঁয়াজ কেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি?
উত্তর: রসুন ও পেঁয়াজে প্রচুর সালফার যৌগ থাকে। এই উপাদানগুলো সরাসরি ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পরিচিত এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৮. ক্যান্সার ঝুঁকি কমাতে আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের ভূমিকা কী?
উত্তর: আস্ত শস্য ও ডালের মতো আঁশযুক্ত খাবারগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও আমল
- ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম ফুলহ্যাম প্রিভিউ: জেনে নিন সম্ভাব্য একাদশ ও প্রেডিকশন
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- ক্রেতার চাপে বিক্রেতাশূন্য ১৬ কোম্পানির শেয়ার
- শেয়ারবাজারে বড় চমক: ক্রেতার চাপে ১৫ শেয়ারে বিক্রেতা উধাও
- সায়হাম কটন: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- স্বর্ণের দাম কমলো ভরিতে ১৯২৫ টাকা, সোমবার থেকে নতুন দর জানুন
- ইন্দো-বাংলা ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- আজ শবে বারাত: জানুন নামাজের নিয়ম, দোয়া, কত রাকাত নামাজ পড়তে হয়
- ডিএসইতে ৪ মাসের রেকর্ড: ৭০০ কোটি ছাড়াল লেনদেন, চাঙ্গা ব্যাংক খাত
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল: ৬১৫০ কোটি টাকার মহাক্ষতিতে আইসিসি!
- ৭ খাতের হাত ধরে বড় লাফ শেয়ারবাজারে
- বাংলাদেশ বনাম ভারত: চরম উত্তেজনায় শেষ হলো ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- ফের বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কত