Alamin Islam
Senior Reporter
রমজানে কি বইবে তাপপ্রবাহ? জানুন আবহাওয়ার নতুন আভাস
পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতের আবহে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে পারে প্রকৃতির পালাবদল। কখনো তপ্ত দুপুরের কড়া রোদ, আবার কখনো মেঘের আনাগোনায় বৃষ্টির হালকা ছোঁয়া—এমনই এক মিশ্র আবহাওয়ার আভাস মিলছে চলতি মাসে। বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, এবারের রমজানে আবহাওয়া কেবল একরূপে স্থির থাকবে না, বরং কয়েক দফায় পাল্টাতে পারে এর গতিপ্রকৃতি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজানের শুরুটা বেশ আরামদায়ক হলেও মাসের মাঝামাঝি ও শেষভাগে উত্তাপ ছড়াতে পারে সূর্য।
শুরুর দশকে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া মূলত সহনীয় থাকবে। যদিও দিনের বেলা রোদের দেখা মিলবে নিয়মিত, তবে অধিকাংশ সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল অর্থাৎ রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহের বেশ কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও বিচ্ছিন্নভাবে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছুটা হলেও প্রশান্তি বয়ে আনবে।
পরবর্তীতে ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দিনের তাপমাত্রায় খুব একটা হেরফের হবে না। তবে এ সময় রাতের দিকে পারদ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
দ্বিতীয় ভাগে বাড়তে পারে সূর্যের তেজ
মার্চের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত আবহাওয়ায় কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা দিলেও দিনের বেলায় গরমের তীব্রতা বাড়তে শুরু করবে। এই সময়ে বড় ধরনের কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও কড়া রোদের কারণে দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। ফলে রোজাদারদের জন্য দুপুরের সময়টা কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে।
শেষ দশকে তাপপ্রবাহের সতর্কতা
রমজানের শেষ ভাগে অর্থাৎ ১১ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে আবহাওয়ার মেজাজ অনেকটাই রুক্ষ হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় আকাশ মূলত পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকবে এবং সূর্যের প্রখরতা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না বিডব্লিউওটি। তবে মাসের একেবারে শেষ দিকে মেঘের ঘনঘটা বাড়তে পারে, যা পুনরায় বৃষ্টি ঝরিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে পারে।
সর্তকতা ও প্রস্তুতি
আবহাওয়ার এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যেহেতু প্রকৃতি তার রূপ প্রতিনিয়ত বদলায়, তাই রোজাদারদের সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আল-মামুন/