বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস: টানা ৩ দিন ভিজবে সিলেট বিভাগ!
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছার সই করা আগামী ৫ দিনের (১২০ ঘণ্টা) এক বিশেষ বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি ও লঘুচাপের প্রভাব
আবহাওয়া অফিসের সিনপটিক অবস্থায় দেখা গেছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে, যার একটি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। এর পাশাপাশি উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়টি বিহার ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়ায় বায়ুমণ্ডলে এই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সিলেটজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১ মার্চ (রোববার) থেকে টানা তিন দিন সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার—এই তিন দিনই সিলেটের আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে।
দিন ও রাতের তাপমাত্রায় ওঠানামা
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তাপমাত্রার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে:
শুক্রবার ও শনিবার (২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি): আকাশ প্রধানত শুষ্ক থাকবে। শুক্রবার রাতের তাপমাত্রা প্রায় একই থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। শনিবার থেকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা উভয়েই বাড়ার প্রবণতা দেখা যাবে।
১ মার্চ ও ২ মার্চ: রোববার সারা দেশে তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে। তবে সোমবার থেকে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ভোরের দিকে মৃদু গরমের অনুভূতি দিতে পারে।
৩ মার্চ: মঙ্গলবার দিনের তাপমাত্রা স্থির থাকলেও রাতের দিকে আবার ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ৫ দিনের সামগ্রিক চিত্র
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী ৫ দিনের মধ্যে ক্রমান্বয়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। সিলেট বাদে দেশের বাকি অংশে বৃষ্টির তেমন কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার কারণে রোদের তীব্রতা কম-বেশি হতে পারে।
সার্বিকভাবে, শীতের রেশ কাটিয়ে দেশ এখন ধীরে ধীরে গরমের দিকে এগোচ্ছে, আর লঘুচাপের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তানভির ইসলাম/