ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

Md Razib Ali

Senior Reporter

মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা গায়েব: দুদকের জালে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ২০:৩৭:২৪
মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা গায়েব: দুদকের জালে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল

পুঁজিবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ অপব্যবহার ও আত্মসাতের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিনিয়োগকারীদের আমানত নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অভিযোগটি এখন খতিয়ে দেখছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুদকের সদর দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্নীতির এই জাল কতদূর বিস্তৃত তা যাচাই করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানের গতিপ্রকৃতি

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথি সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন নথিপত্র চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রাপ্ত রেকর্ডগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

বিএসইসির প্রাথমিক তদন্তে যা মিলল

মূলত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দেওয়া একটি বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দুদক এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিএসইসির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের অধীনে থাকা একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৫৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ নির্ধারিত খাতের বাইরে খরচ করা হয়েছে। বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ফান্ডের এই টাকা বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার প্রমাণ মিলেছে, যা সরাসরি আইন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বিএসইসি থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের কারণে সাধারণ ইউনিটহোল্ডাররা প্রায় ৫৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নজরদারিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এই আর্থিক অনিয়মের পেছনে কারা কলকাঠি নেড়েছেন তাদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শীর্ষ নির্বাহী এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ। কার নির্দেশে বিনিয়োগের টাকা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে এবং এই অর্থ পাচারের শেষ গন্তব্য কোথায় ছিল—সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দুদক।

পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সুরক্ষা দিতে এই তদন্তের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ