ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নিল পুলিশ, কিন্তু কেন? জানুন

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১০:৫০:১৫
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নিল পুলিশ, কিন্তু কেন? জানুন

ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার এলাকায় এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন সদস্যকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে আকাশপথে চট্টগ্রামে পৌঁছান নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পরিচয়ে তাঁর গতিরোধ করা হয়।

নাঈমের ভাষ্যমতে, অটোরিকশা থামানোর পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেনস্তা শুরু করে পুলিশ। নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা কর্ণপাত করেননি। বরং খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে নাঈমের কোমরে আঘাত করেন এবং সাথে থাকা এক পুলিশ সোর্স পাইপ দিয়ে তাঁকে পেটাতে থাকেন।

'তুই আসামি, চুপ থাক'

ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে নাঈমের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও পুলিশ আক্রমণাত্মক আচরণ চালিয়ে যায়। ক্রিকেটার নাঈম জানান, "মানুষজন আমার পরিচয় দিলেও পুলিশ থামেনি। তারা আমাকে ধমক দিয়ে বলছিল— 'তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না'।"

একপর্যায়ে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে না তুলে অন্য একটি অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন নাঈম। পরে তাঁকে খুলশী থানায় নিয়ে আসা হয়। নাঈমের দাবি, থানার ওসির রুমেও তাকে অপদস্থ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোনের পর টনক নড়ে পুলিশের।

নেপথ্যে ছিল 'ভুল তথ্য'

তদন্তে জানা গেছে, সোনার চোরাচালান আসবে— এমন একটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকা অবস্থায় এসআই শফিকুলকে এই তথ্য দেন। তবে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের ওপর এমন অমানবিক আচরণ পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানান, "অভিযানের ক্ষেত্রে পুলিশের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

৩ পুলিশ প্রত্যাহার ও মামলা দায়ের

এই ঘটনার জেরে শনিবার সকালে নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। এর আগেই অভিযুক্ত এসআই শফিকুল ও দুই কনস্টেবলকে থানা থেকে ক্লোজড করা হয়।

ক্ষুব্ধ নাঈম হাসান বলেন, "আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আমার হয়ে কথা বলার লোক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমন হলে তাদের পাশে কে দাঁড়াবে? আর কেউ যেন এভাবে পুলিশের হাতে হয়রানির শিকার না হয়।"

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ