Md Razib Ali
Senior Reporter
‘আর্জেন্টাইন ওয়াল’খ্যাত আর্জেন্টিনার সেরা গোলরক্ষকের অবসর ঘোষণা
অবসান হলো এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের। বুট ও গ্লাভস জোড়া তুলে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক সার্জিও ‘চিকুইতো’ রোমেরো। ৩৯ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক তারকা। তবে ফুটবল থেকে দূরে সরছেন না তিনি; মাঠের অতন্দ্র প্রহরী থেকে এবার তিনি রূপ নিচ্ছেন ডাগআউটের রণকৌশলী হিসেবে।
কোচিংয়ে নতুন যাত্রা
খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানলেও ফুটবলের সঙ্গেই নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন রোমেরো। জানা গেছে, কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সব প্রস্তুতি তিনি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন। নিজের কোচিং স্টাফও গুছিয়ে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ তারকা। এখন কেবল কোনো ক্লাবের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার অপেক্ষা। গত ডিসেম্বরে কোপা আর্জেন্টিনায় আর্জেন্টিনোস জুনিয়রসের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন তিনি।
আর্জেন্টিনার পোস্টের চিরস্থায়ী আস্থার প্রতীক
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ইতিহাসে রোমেরোর নাম উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধাভরে। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিরল রেকর্ডটি এখন তার দখলে। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৪৭টি ম্যাচে তিনি জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তটি এসেছিল ২০১৪ সালে। ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি অনবদ্য পেনাল্টি ঠেকিয়ে কোটি আর্জেন্টাইন ভক্তের নায়কে পরিণত হন তিনি। তার সেই বীরত্বেই দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে পা রেখেছিল আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালেও আর্জেন্টিনার পোস্ট সামলানোর দায়িত্ব ছিল তার কাঁধেই। যদিও দুর্ভাগ্যবশত তিনটি বড় টুর্নামেন্টেই তাকে রানার্সআপ মেডেল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ২০১৮ বিশ্বকাপের দলেও তিনি ডাক পেয়েছিলেন, কিন্তু হাঁটুর চোট তার সেই স্বপ্ন কেড়ে নেয়।
সফলতার শুরু ও ক্লাব ফুটবলের দাপট
আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোমেরোর সাফল্যের জয়গান শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। ২০০৭ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরের বছর ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকেও আর্জেন্টিনার হয়ে সোনার পদক জেতেন।
রেসিং ক্লাব থেকে উঠে আসা রোমেরো ইউরোপে নিজের জাত চিনিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের এজেড আল্কমার, সাম্পদোরিয়া ও মোনাকোর হয়ে। তবে বিশ্বব্যাপী তিনি সবচেয়ে বেশি সমাদৃত হন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘ব্যাকআপ গোলকিপার’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সেখানে ৬১ ম্যাচ খেলে ৩৯টিতে ক্লিনশিট রাখার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান রয়েছে তার ঝুলিতে। ২০১৭ সালে ইউনাইটেডের ইউরোপা লিগ জয়ে তার অবদান ছিল অগ্রগণ্য। এছাড়া রেড ডেভিলদের হয়ে এফএ কাপ, লিগ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জয়ের গৌরবও অর্জন করেন তিনি।
শেষের শুরু ও ফিরে দেখা
ইউরোপে ইতালিয়ান ক্লাব ভেনেজিয়ায় সংক্ষিপ্ত সফর শেষে রোমেরো ফিরেছিলেন নিজ দেশ আর্জেন্টিনায়। সেখানে বোকা জুনিয়রসের হয়ে তিন মৌসুম কাটানোর পর ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে আর্জেন্টিনোস জুনিয়রসের হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলে থামার সিদ্ধান্ত নেন।
আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের দীর্ঘদিনের সেই পরিচিত মুখটিকে আর গ্লাভস হাতে ডাইভ দিতে দেখা যাবে না। তবে ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কোচ হিসেবে সার্জিও রোমেরোর নতুন কারিশমা দেখার জন্য।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের পরও শেয়ারবাজারে বড় পতন
- পুরনো দলিল থেকে বর্তমান জমির মালিক বের করবেন যেভাবে
- নামজারি আছে, কিন্তু দলিল নেই—জমি কি নিজের? জানুন আইন
- Honor 600 Pro: ২০০MP ক্যামেরা ও ৭০০০mAh ব্যাটারিতে কেমন?
- নিজের নামে কোথায় কত জমি, অনলাইনে দেখবেন যেভাবে
- এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ পরীক্ষা দিতে পারবে না যারা