সঙ্গিনীর গর্ভাবস্থায় স্বামী কেন অসুস্থ বোধ করেন? রহস্য জানলে অবাক হবেন
সাধারণত সন্তান ধারণের শারীরিক ও মানসিক ধকল নারীর ওপর দিয়েই যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনার নজির রয়েছে, যেখানে স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন গর্ভধারণের যাবতীয় উপসর্গ দেখা দেয় স্বামীর শরীরে। অদ্ভুত মনে হলেও, এই বিশেষ অবস্থাকে বিশেষজ্ঞরা অভিহিত করেন ‘কুভাড সিনড্রোম’ বা ‘সহানুভূতিশীল গর্ভাবস্থা’ হিসেবে।
শরীরের নয়, অনুভূতির প্রতিধ্বনি
নারীর মাতৃত্বের জার্নিতে তার শরীরে হরমোনের নানা খেলা চলে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক হবু বাবাও এই সময়টাতে অদ্ভুত সব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। সঙ্গিনী যখন সন্তানসম্ভবা, তখন স্বামীর মধ্যেও সকালবেলায় বমিভাব (Morning Sickness), নির্দিষ্ট কিছু খাবারের প্রতি প্রবল ইচ্ছা, অকারণে মেজাজ খিটখিটে হওয়া কিংবা ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। একে এক ধরণের ‘ছায়া-গর্ভাবস্থা’ বলা যেতে পারে, যেখানে শরীর নয় বরং পুরুষের মন ও আবেগ সেই অভিজ্ঞতার অংশীদার হয়।
‘কুভাড’ শব্দের নেপথ্যে
এই অবস্থার নামকরণ হয়েছে ফরাসি শব্দ ‘কুভাড’ থেকে, যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘লালন-পালন করা’ বা ‘ডিমে তা দেওয়া’। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, বহু প্রাচীন সংস্কৃতিতে বাবারা সন্তানের জন্মের সময় প্রতীকী কিছু আচার পালন করতেন। সেই আদিম মানসিক সংযোগই আজকের আধুনিক যুগে এসে শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের রূপ নিয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
পুরুষের শরীরে এই ধরণের গর্ভাবস্থার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো রোগকে দায়ী করা যায় না। তবে বিশেষজ্ঞরা তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. আবেগের গভীরতা ও সহানুভূতি: জীবনসঙ্গীর প্রতিটি শারীরিক কষ্টকে নিজের মনে করে অনুভব করা থেকেই এই সমস্যার জন্ম। প্রিয় মানুষের যন্ত্রণার প্রতি এই গভীর সমবেদনাকে বলা হয় ‘কমপ্যাথি’।
২. মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর: বাবা হওয়ার বিষয়টি একজন পুরুষের জীবনে বড় ধরণের মানসিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা ও নতুন দায়িত্ববোধ থেকে তৈরি হওয়া উৎকণ্ঠা অনেক সময় শরীরের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
৩. হরমোনের তারতম্য: বেশ কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সঙ্গিনী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন পুরুষের শরীরের কর্টিসল, প্রোল্যাকটিন এবং টেস্টোস্টেরনের মতো হরমোনগুলোর মাত্রায় ওঠানামা ঘটে। যার ফলে ঘুম কমে যাওয়া বা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে।
কতদিন স্থায়ী হয় এই অবস্থা?
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বহু পুরুষ তাদের জীবনে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। সাধারণত স্ত্রীর গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এই লক্ষণগুলো প্রকট থাকে। মাঝের সময়টাতে কিছুটা বিরতি দিয়ে ডেলিভারির আগে আগে আবার উপসর্গগুলো ফিরে আসতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর জন্মের পরপরই বাবার শরীরের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো নিজে থেকেই উধাও হয়ে যায়।
কুভাড সিনড্রোম আদতে শরীর ও মনের এক রহস্যময় মেলবন্ধন। এটি প্রমাণ করে যে, একটি নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসার পথচলা কেবল মায়ের একার নয়। মায়ের শরীরে যখন ভ্রুণ বড় হয়, বাবার মনে তখন নতুন এক সত্তার বিকাশ ঘটে। আর সেই অন্তরের টানই কখনো কখনো বাবার শরীরেও মাতৃত্বের ভাষা লিখে দেয়।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই ও বিএসইসি
- দুই মিনিটের রাস্তা পেরোতেই লাগল ১৫ মিনিট, বাঁচানো গেল না সেই নবজাতককে
- সৌদিতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তরের আসল নিয়ম
- বিল নিয়ে ফেসবুকে ঝড় তুললেন আজহারি, জবাব দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- আজ দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম
- 'এমবাপ্পে বাংলাদেশে'—বড় ঘোষণার পর যা জানাল সরকার
- BCB compliance report উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ
- নবম পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি, অপেক্ষা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের
- আগামী ৪ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় সতর্কবার্তা
- IMEI নম্বর চেক করার সহজ উপায়; Android ও iPhone-এ IMEI দেখবেন যেভাবে
- ৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি
- ভবন নির্মাণে নতুন নিয়ম: বাংলাদেশ building code যা মানতে হবে
- মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান নিয়োগ
- Diego Simeone নতুন চ্যালেঞ্জ প্রস্তুতিতে অ্যাটলেটিকো
- বিনিয়োগের আগে cash flowদেখবেন কেন?