বিশ্বকাপের আগে অস্থির আর্জেন্টিনা: মেসিদের বড় সংকট
বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখার লড়াইয়ে নামার আগে এক চরম অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে মাঠের লড়াইয়ের রোমাঞ্চ, অন্যদিকে খোদ দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অন্দরমহলে চলছে বিশৃঙ্খলা। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে ঘিরে দানা বাঁধা নানা বিতর্ক এখন আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনরোষের মুখে এএফএ প্রধান
২০২২ সালে কাতার জয়ের পর যে তাপিয়া ছিলেন ভক্তদের নয়নমণি, সময়ের ব্যবধানে সেই দৃশ্যপট এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্প্রতি বুয়েন্স আয়ার্সের এক প্রীতি ম্যাচে তাকে দর্শকদের তীব্র দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে তিনি জাতীয় দলের মানসম্মত প্রস্তুতিকে বিসর্জন দিচ্ছেন। বিশেষ করে ঘরোয়া লিগের অবনমন ব্যবস্থা বাতিল করে দল সংখ্যা ৩০-এ উন্নীত করার অযৌক্তিক সিদ্ধান্তটি ফুটবল মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এর প্রতিবাদে রিভারপ্লেট ও এস্তুদিয়ান্তেসের মতো প্রভাবশালী ক্লাবগুলো এএফএ-র পরিচালনা পর্ষদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
প্রস্তুতি বনাম বাণিজ্যিক স্বার্থ
আসন্ন বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা দলের প্রস্তুতির ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। দেখা যাচ্ছে, ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর মোকাবিলা করার পরিবর্তে এএফএ বেছে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, পুয়ের্তো রিকো বা মৌরিতানিয়ার মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষকে। এমনকি আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোতেও আইসল্যান্ড বা হন্ডুরাসের মতো দলের সঙ্গে সূচি ঠিক করা হয়েছে, যারা বিশ্বকাপের মূল পর্বেই নেই। সমালোচকদের দাবি, ফুটবলের উন্নতির চেয়ে বাণিজ্যিক মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যা মেসি-আলভারেজদের মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংঘাত ও আইনি মারপ্যাঁচ
আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সঙ্গে তাপিয়ার ক্ষমতার লড়াই। ফুটবল ক্লাবগুলোর বেসরকারিকরণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখন মুখোমুখি। এরই মধ্যে তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে মিলেই সরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হতে পারে এএফএ প্রধানের। যদিও সংস্থাটি একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছে।
খেলোয়াড়দের অবস্থান ও মেসির নীরবতা
প্রশাসনের এই ডামাডোল থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন ফুটবলাররা। দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা কেবল মাঠের ফুটবল নিয়েই ভাবছেন, রাজনীতির মারপ্যাঁচে জড়াতে চান না। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির অবস্থান। একসময় তাপিয়ার সঙ্গে মেসির সখ্য নজরকাড়া থাকলেও সম্প্রতি তাতে ভাটা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের একসঙ্গে কোনো ছবি প্রকাশ পায়নি এবং সর্বশেষ সফরের পর কোনো মন্তব্য না করেই মেসি দেশ ত্যাগ করায় গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হয়েছে।
অতীতের পুনরাবৃত্তি কি সম্ভব?
ফুটবল বিশ্লেষক এজেকুয়েল ফার্নান্দেজ মুরসের মতে, প্রশাসনের অস্থিরতা সবসময় মাঠের খেলায় প্রভাব ফেলে না। উদাহরণ হিসেবে ইতালির ১৯৮২ বা ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের কথা বলা যেতে পারে, যখন দেশটির ঘরোয়া ফুটবল চরম সংকটে ছিল। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—মাঠের বাইরের এই অস্বস্তি ছাপিয়ে আর্জেন্টিনা কি পারবে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে?
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি আলবিসেলেস্তে ভক্ত এখন তাকিয়ে আছেন প্রিয় দলের দিকে। মাঠের রাজনীতি আর প্রশাসনিক জটিলতা জয় করে মেসিরা কি পারবেন আরেকটি সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে? সময় সেই উত্তর দেবে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- পদত্যাগের পরে যেসব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন
- সাহাবুদ্দিনের পর বঙ্গভবনে কে, আলোচনায় যে ৬ নাম
- ইনজুরিতে ছিটকে গিয়ে বিয়ে সারলেন নাহিদ রানা
- বিশ্বকাপ ফাইনাল পুনরায় চেয়ে পিটিশন, যা বললেন তাপিয়া
- স্পিকার জানালো রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবে কে
- ম্যানইউর ১৫ বছরের বিস্ময়বালক গ্যাব্রিয়েলকে নিয়ে বড় ইঙ্গিত এমবেউমোর
- বালেবাকে নিয়ে ম্যানইউর সাথে ফের যোগাযোগ, দাবি রোমানোর
- রাষ্ট্রপতির শেষ চিঠিতে উঠে এলো যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- বঙ্গভবন ছাড়ছেন চুপ্পু, নতুন যাত্রার সময় জানা গেল
- ৫ স্বাস্থ্য সমস্যার কথা উল্লেখ রাষ্ট্রপতি