ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৮:০৩:৫৮
গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সংকটের কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শিরোনামে একটি উপস্থাপনাও দেন।

গ্যাস সংকটের পেছনে এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনা

শিল্প খাতে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব শুধু শিল্পকারখানায় নয়, বিভিন্ন খাতেও পড়েছে।

তবে দুর্ঘটনার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরার প্রত্যাশা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’

ঘাটতি সামলাতে আসছে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল

বর্তমান সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় ভবিষ্যতের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিটুজি ভিত্তিতে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার আশা করছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এই তৃতীয় টার্মিনালকে সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ সংকটকেও দীর্ঘদিনের সমস্যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

শুধু গ্যাস নয়, দেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সমস্যাকেও দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সংকট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’

তিনি দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকার ইতোমধ্যে পরিকল্পনা করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে এগোচ্ছে সরকার

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে কোন কাজ কখন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও তুলে ধরা হয়।

তবে বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তারপরও সরকারের হাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং একটি সময়সীমা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও এর সুফল পাবে।

ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাতে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হলে তার প্রভাব কেবল উদ্যোক্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান তাই শুধু ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য নয়। এর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি সরাসরি সম্পর্কিত।

সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

‘হতাশ হওয়ার মতো কারণ নেই’

বর্তমান সংকটের ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, সরকার সমস্যাগুলো গোপন না করে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেটিও জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার মতো কারণ নেই।’

সরকারের পরিকল্পনাকে যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে এর সুফল শুধু ব্যবসায়ী মহল নয়, পুরো দেশ পাবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অস্থিতিশীলতা না করার আহ্বান

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

তার বক্তব্য, জনগণই নির্ধারিত সময়ে ঠিক করবে কার হাতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু যে সময়ে যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সরকারকে তার মেয়াদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

গণমাধ্যমকে সঙ্গে রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী

মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা জরুরি।

সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে বিচ্ছিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। বিপরীতে গণমাধ্যম পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানলে সেটি দেশবাসীর কাছেও যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো উদ্যোগ সফল করতে কার্যকর একটি দলের প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

বৈঠকে যারা ছিলেন

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ড্রাষ্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।

এ ছাড়া দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ