ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

ডোনাল্ড কি আবারও বাংলাদেশের বোলিং কোচ হচ্ছেন যা জানা গেলো

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২২:১১:০৭
ডোনাল্ড কি আবারও বাংলাদেশের বোলিং কোচ হচ্ছেন যা জানা গেলো

বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন কোচিং পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের নাম। জাতীয় দলের পেসারদের সঙ্গে তার এখনও যোগাযোগ রয়েছে এবং ক্রিকেটাররা তার কাছ থেকে পরামর্শও নেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ডোনাল্ডকে আবারও বাংলাদেশের কোচিং প্যানেলে যুক্ত করা হবে কি না।

একই সময়ে কাউন্টিতে দারুণ ছন্দে থাকা হাসান মাহমুদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাউন্টিতে খেলার জন্য হাসান মাহমুদের এনওসি ছিল বলে জানা গেলেও সেটি সংশোধন করে তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চার ম্যাচে ২৬ উইকেট নেওয়া এই পেসারকে আরও অন্তত দুটি ম্যাচ খেলিয়ে আনার বদলে জাতীয় দলের প্রয়োজনেই দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে যুক্তিসংগত বলেই মনে করা হচ্ছে।

কাউন্টিতে দুর্দান্ত হাসান মাহমুদ, তবু দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত

হাসান মাহমুদকে নিয়ে বাংলাদেশের অনেকের প্রত্যাশা ছিল, তিনি হয়তো কাউন্টিতে আরও কয়েকটি ম্যাচ খেলবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন্টের হয়ে হাসানের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। সর্বশেষ দুই ম্যাচেই তিনি নিয়েছেন ১৪ উইকেট। চার ম্যাচে তার শিকার ২৬ উইকেট। সুইং, কাটার ও বাউন্স—বোলিংয়ের বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছেন তিনি। কেন্টের হয়ে তার পারফরম্যান্স তাকে দলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।

তবে সামনে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ও বিভিন্ন ফরম্যাটের ম্যাচ। সেই ব্যস্ত সূচির কথা বিবেচনায় নিয়ে মাঝপথেই হাসান মাহমুদকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পেস বোলিংয়ে নতুন কোচ খুঁজছে বাংলাদেশ

হাসানকে দেশে ফেরানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগ নিয়েও চলছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। দলের অন্যতম শক্তিশালী জায়গা হিসেবে পেস ইউনিটকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

ডারউইনে বাংলাদেশ খেললেও নাহিদ রানাকে না পাওয়ার ঘাটতি অন্য পেসাররা বুঝতে দেননি। তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরবর্তী টেস্টেও শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং দেখা গেছে। বাংলাদেশের হয়ে পেসারদের একটি রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার মতো পেসার রয়েছেন। তানজিম সাকিব ও এবাদতকেও এই আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এই পেসারদের দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার এবং তাদের সামর্থ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই কোচিং স্টাফ নিয়ে ভাবছে বিসিবি।

লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ

আসন্ন বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। এর মধ্যে বেশিরভাগ ম্যাচই দক্ষিণ আফ্রিকায় হওয়ার কথা। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে পেসারদের প্রস্তুত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের ওয়ানডে অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সেখানে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়েছিল তামিম ইকবালের দল। সেই সময়ের দক্ষিণ আফ্রিকান দলের শক্তিমত্তা বিবেচনায় ওই ফলাফল ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য।

গত তিন-চার বছরে দেশের বাইরে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া ওই সাফল্যকে ওপরের দিকেই রাখতে হবে। এবারও দক্ষিণ আফ্রিকান কন্ডিশনে পেসারদের সামর্থ্য কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।

আলোচনায় অ্যালান ডোনাল্ড

এই জায়গাতেই অ্যালান ডোনাল্ডের প্রসঙ্গটি সামনে আসছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলেছিল, তখন দলের সঙ্গে ডোনাল্ডের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের পেসারদের সঙ্গে ডোনাল্ডের সম্পর্ক এখনও বজায় আছে। যেসব ক্রিকেটার তার অধীনে কাজ করেছেন, তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তারা এখনও ডোনাল্ডের কাছ থেকে পরামর্শ ও বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা নেন এবং সেগুলো নিজেদের খেলায় প্রয়োগ করেন।

এই অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ডোনাল্ডকে বাংলাদেশের কোচিং প্যানেলে যুক্ত করার বিষয়টি যথেষ্ট যৌক্তিক বলেই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তিনি বর্তমানে কোনো জাতীয় দলের সঙ্গে ওইভাবে চুক্তিবদ্ধ নন।

মূল পেস বোলিং কোচ নাকি সহকারী—স্পষ্ট নয়

তবে ডোনাল্ডকে যুক্ত করা হলেও তার দায়িত্ব ঠিক কী হবে, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। বিসিবি এমন একজনকে খুঁজছে, যিনি পেস বোলিং বিভাগে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন এবং নির্দিষ্ট কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেসারদের কাছ থেকে সর্বোচ্চটা বের করে আনতে সাহায্য করতে পারবেন।

তালহা জুবায়েরকে হেড কোচ বা বোলিং বিভাগের মূল দায়িত্বে রাখার পরিকল্পনা থাকলে ডোনাল্ডকে সহায়ক ভূমিকায় নেওয়া হতে পারে। আবার ডোনাল্ডকে পেস বোলিং বিভাগের মূল কোচ হিসেবেও রাখা হতে পারে। তিনি তালহা জুবায়েরের অধীনে কাজ করবেন কি না, নাকি অন্য কোনো ভূমিকায় থাকবেন—এ বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে ডোনাল্ড ও তালহা জুবায়ের দুজনই যদি পেস বোলিং বিভাগে থাকেন, তাহলে ইউনিটটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমনটাই আলোচনায় উঠে এসেছে।

হাসান মাহমুদকে বিশ্রাম দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ

হাসান মাহমুদকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের পেছনে বিশ্রামের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলার পর জিম্বাবুয়েতে খেলেছেন তিনি। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে খেলেছেন এবং সেখান থেকে কাউন্টিতেও খেলছেন।

অর্থাৎ জাতীয় দল, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং কাউন্টি—সব মিলিয়ে টানা ক্রিকেটের মধ্যেই রয়েছেন এই পেসার। ফলে তাকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এর পাশাপাশি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাবও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে টপ ফোরে রয়েছে। সামনে দলকে এগিয়ে নিতে হাসান মাহমুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেসারের প্রয়োজন হবে। তাই তার শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার চ্যালেঞ্জ

আগামী মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ রয়েছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে রয়েছে আরও হিসাব-নিকাশ। সামনে থাকা এসব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগের সেরা অস্ত্রগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সেই বিবেচনায় কাউন্টিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হাসান মাহমুদকে আরও দুটি ম্যাচ খেলানোর পরিবর্তে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অ্যালান ডোনাল্ডের মতো অভিজ্ঞ কাউকে পেস বোলিং কোচিং কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ