ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

ডিভিডেন্ড বঞ্চনায় ১০ ব্যাংক, হতাশ বিনিয়োগকারীরা

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১৪:১০:৫৮
ডিভিডেন্ড বঞ্চনায় ১০ ব্যাংক, হতাশ বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১০টি ব্যাংক ২০২৫ অর্থবছরে মুনাফা করলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) ঘোষণা করেনি। ফলে ভালো আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পরও ডিভিডেন্ড না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিভিডেন্ড না দেওয়া ব্যাংকগুলো হলো— আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোনো নগদ বা বোনাস লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যাংকই আলোচ্য বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় মুনাফাও বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি ব্যাংকের নগদ কার্যকর প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ও নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস)-এও উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে। তবুও মূলধন সংরক্ষণ, খেলাপি ঋণের চাপ, মূলধন ঘাটতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন নির্দেশনার কারণে তারা লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, যার ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস ৮৫ পয়সা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৭৪ পয়সা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৭২ পয়সা এবং এনআরবি ব্যাংকের ২০ পয়সা। অন্যদিকে এসবিএসি ব্যাংকের ইপিএস ছিল মাত্র ১ পয়সা, যা তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম কম।

ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নগদ কার্যকর প্রবাহে উন্নতি হলেও কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তবুও পরিচালনা পর্ষদগুলো শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুনাফা অর্জনের পরও ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিনিয়োগকারী নিয়মিত লভ্যাংশের আশায় ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করেন, তাদের জন্য এটি হতাশাজনক। তবে ব্যাংকগুলোর মূলধন শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কারণেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: