ডিএসইর সাবেক সিআরও-কে শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করল বিএসইসি
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) মো. খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদের ওপর শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক পদে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে সংস্থাটি।
বিএসইসির জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২০ নম্বর ধারায় প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে খায়রুল বাশারকে দেশের শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট যেকোনো প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে, যা আদেশ জারির দিন থেকেই কার্যকর হবে। কমিশনের অধীন পরিচালিত সব স্টক এক্সচেঞ্জ, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও অন্য নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানকে তাকে কোনো পদে নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৪ মে, যখন মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডসহ সাতটি ট্রেকধারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তৎকালীন ডিএসই সিআরও হিসেবে এ দায়িত্ব ছিল খায়রুল বাশারের ওপরই। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পরিদর্শন সম্পন্ন করতে তিনি ব্যর্থ হন—যা কমিশনের ভাষায় দাপ্তরিক দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ও সংশ্লিষ্ট বিধির সরাসরি লঙ্ঘন। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও বাজারের সুশাসন সুরক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।Travel
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো স্টক এক্সচেঞ্জের সিআরও-র অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সদস্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা, অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং সেই তথ্য যথাসময়ে কমিশনের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। সময়মতো প্রতিবেদন না পৌঁছানোয় বাজার তদারকির গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন।
জানা যায়, খায়রুল বাশারের দায়িত্ব-অবহেলার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে আলোচিত মশিউর সিকিউরিটিজ কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে। ডিএসইর সদস্য এই প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে, যা দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে একক ব্রোকারেজ হাউজের সবচেয়ে বড় জালিয়াতির ঘটনাগুলোর একটি।
বিএসইসির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থেকেও মশিউর সিকিউরিটিজে সময়মতো সরেজমিন পরিদর্শন ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন খায়রুল বাশার। যথাসময়ে পরিদর্শন-তদন্ত হলে এত বড় আর্থিক অনিয়ম আরও আগেই ধরা পড়ত এবং বিনিয়োগকারীদের এমন বিপুল ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মাত্র দুই দিন শেয়ার কিনলেই শেয়ারপ্রতি ১৮ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে ছয় মাস পর উৎপাদনে ফিরল এক কোম্পানি
- শেয়ারবাজারের সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ, একগুচ্ছ প্রস্তাব
- ২১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় যে ব্যাংক
- সালমান এফ রহমান মুক্ত হচ্ছে শেয়ারবাজার!
- শেয়ার বাজারের পতন থামাতে অবকাঠামো সংস্কারের তাগিদ, সিসিপি নিয়ে প্রশ্ন
- দরপতন থামছে না, শীর্ষ ব্রোকারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ডিএসই
- ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ কবে, জেনে নিন পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়া: গোল বন্যায় শেষ হলো ম্যাচ
- বিক্রির চাপে ডিএসই, কমেছে প্রধান তিন সূচক
- দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ২০২৬: কবে থেকে, কত দিন জানুন এক নজরে
- পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ, জানা গেল দিন তারিখ
- আবারও বাড়লো তেলের দাম, জানুন নতুন মুল্য তালিকা
- এআই ঘিরে নতুন শঙ্কা, বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি ও চিপ শেয়ারে বড় ধাক্কা
- নিয়মিত ভেজানো ছোলা খাচ্ছেন? জানুন উপকারিতা, ক্ষতি ও কারা খাবেন