ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

অকার্যকর ৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বন্ধ হলো শেয়ার লেনদেন

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ১১:৩৪:৫৭
অকার্যকর ৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বন্ধ হলো শেয়ার লেনদেন

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রতিষ্ঠান তিনটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান তিনটিকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তাদের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিষ্ঠান তিনটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নতুন কোনো লেনদেন করা যাবে না।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রশাসক নিয়োগ

এর আগে বিভিন্ন অনিয়ম, জালিয়াতির অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠান তিনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসকও নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানভেদে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্যায়ের তিন কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রশাসক করা হয়েছে আবু সামা মো. আতাউর রহমানকে। আর ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সাদেকুর রহমান।

প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়-দেনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের আমানত ৩ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ ৬৪৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা।

ফাস ফাইন্যান্সের আমানত ৩৮৯ কোটি টাকা

ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মোট আমানতের পরিমাণ ৩৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত রয়েছে ১০৫ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফারইস্ট ফাইন্যান্সের আমানত ৪৫০ কোটি টাকা

অন্যদিকে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মোট আমানতের পরিমাণ ৪৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত ৩৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ বা দায়ের পরিমাণ প্রায় ৩৪৭ কোটি টাকা।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কী অর্থ বহন করে?

তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা এবং একই সঙ্গে শেয়ার লেনদেন স্থগিতের ঘটনা এসব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লেনদেন স্থগিত থাকায় আপাতত বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার বাজারে কেনাবেচা করতে পারবেন না।

প্রশাসক নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠান তিনটিকে অকার্যকর ঘোষণা এবং শেয়ার লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্তকে অবসায়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, দায়, আমানতকারীদের পাওনা এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ