ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

একাদশে কবে ও কিভাবে ভর্তি, জানা গেল সর্বশেষ তথ্য

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৯:৫১:৩৫
একাদশে কবে ও কিভাবে ভর্তি, জানা গেল সর্বশেষ তথ্য

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও শিক্ষার্থীদের কোনো ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই দেশের অধিকাংশ কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, ১০ নভেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ১২ নভেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের জন্য একটি খসড়া সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে। এতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। খসড়া সময়সূচিটি বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।

ভর্তি পরীক্ষা থাকছে না

গত কয়েক বছরের মতো এবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আলাদা কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল, মেধাক্রম এবং পছন্দক্রমের ভিত্তিতে কলেজ নির্ধারণ করা হবে।

অর্থাৎ শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করার সময় নিজের পছন্দের কলেজগুলো নির্ধারণ করতে পারবে। পরে মেধাক্রম ও আসনসংখ্যার ভিত্তিতে তাকে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।

কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে প্রতিটি কলেজে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন

খসড়া সূচি অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হতে পারে। এরপর কয়েক ধাপে নির্বাচন, ফল প্রকাশ ও ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে।

এরপর নতুন শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাস ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই নিশ্চিত হবে।

এবার আসন খালি থাকবে বেশি

সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রায় ২৫ লাখ আসন রয়েছে। এর বিপরীতে গত বছর মোট আসনের মাত্র ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। ফলে প্রায় ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন খালি ছিল।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার আরও কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য আসনের সংকট না থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু জনপ্রিয় কলেজে আসনসংকট থাকবে।

জিপিএ-৫ পেলেও পছন্দের কলেজ নাও মিলতে পারে

দেশে মোট আসন পর্যাপ্ত থাকলেও ভালো ও জনপ্রিয় কলেজগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এসব প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও সবাই পছন্দের কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। ফলে নামী ও পছন্দের কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারা এই প্রক্রিয়ায় ভর্তি হবে?

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন কলেজ এবং মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি সাধারণত এই কেন্দ্রীয় অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়।

তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া আলাদা। একইভাবে ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ার নিয়ম পুরোপুরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে হবে ভর্তি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কারিগরি সহায়তা দিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। শিক্ষার্থীদের আবেদন থেকে শুরু করে মেধাক্রম ও পছন্দের ভিত্তিতে কলেজ নির্বাচন—পুরো ব্যবস্থাই কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে।

তবে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন ও ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর বিষয়টি এখনো খসড়া সময়সূচি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। তাই শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও ভর্তি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ