ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

২০২৪ সালের পর প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, কোথায় দেখা যাবে?

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১১:৩৯:২৩
২০২৪ সালের পর প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, কোথায় দেখা যাবে?

রোমাঞ্চকর এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর এটিই বিশ্বজুড়ে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। একই সঙ্গে ১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো এমন দৃশ্য দেখা যাবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব হতে পারে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।

গ্রিনিচ মান সময় (GMT) অনুযায়ী বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। এরপর চাঁদের প্রচ্ছায়া দ্রুত পৃথিবীর ওপর দিয়ে অগ্রসর হবে।

যেসব অঞ্চলে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস

পূর্ণগ্রাসের পথ শুরু হবে আর্কটিক অঞ্চল থেকে। এরপর চাঁদের প্রচ্ছায়া পশ্চিম আইসল্যান্ড, উত্তর-পূর্ব পর্তুগাল ও উত্তর স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।

স্পেনের লিওন, বুর্গোস, ভায়াদোলিদ, সানতান্দের, বিলবাও, জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া ও পালমা শহর থেকে পূর্ণগ্রাসের দৃশ্য ভালোভাবে দেখা যেতে পারে।

স্পেনে কখন দেখা যাবে?

স্পেনের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিটের দিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে পূর্ণগ্রাস শুরু হওয়ার কথা। স্থানভেদে পূর্ণগ্রাস সর্বোচ্চ ১১০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

তবে রাজধানী মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা পূর্ণগ্রাসের মূল বলয়ের বাইরে থাকবে। সেখান থেকেও সূর্যের ৯৯ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যেতে দেখা যেতে পারে।

প্রায় ১৫ কোটি মানুষ দেখবেন বিরল দৃশ্য

ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১৫ কোটি মানুষ সরাসরি পূর্ণগ্রাসের পথে অবস্থান করবেন। তাদের বড় একটি অংশ স্পেনের বাসিন্দা। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ সূর্যের আংশিক বা পূর্ণগ্রাস দেখতে পারবেন।

কীভাবে হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ?

চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করে সূর্যের আলো পুরোপুরি বা আংশিকভাবে আটকে দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। চাঁদের ছায়া যখন সূর্যের পুরো চাকতিকে ঢেকে ফেলে, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়।

সূর্যের ব্যাস চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বড়। একইভাবে সূর্য পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বেশি দূরে অবস্থিত। ফলে পৃথিবী থেকে আকাশে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় সমান আকারের মনে হয়। এই বিশেষ জ্যামিতিক অবস্থানের কারণেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সম্ভব হয়।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতি বছর দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে আংশিক, বলয়গ্রাস, পূর্ণগ্রাস ও সংকর সূর্যগ্রহণ। তবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বিরল। গড়ে প্রায় দেড় বছরে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

মোট সূর্যগ্রহণের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আংশিক, এক-তৃতীয়াংশ বলয়গ্রাস, এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি পূর্ণগ্রাস এবং প্রায় ৫ শতাংশ সংকর ধরনের।

এবারের সূর্যগ্রহণে বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আংশিক গ্রহণও দেখা যাবে। ফলে কোটি কোটি মানুষ বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সতর্কতা: সূর্যগ্রহণ খালি চোখে সরাসরি দেখা নিরাপদ নয়। সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের সময় অবশ্যই অনুমোদিত সোলার ভিউয়ার বা নিরাপদ সৌর পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ