ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

এসএসসির ফলাফলে আরও দুই তথ্য সামনে এলো

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ১১:১৩:২৪
এসএসসির ফলাফলে আরও দুই তথ্য সামনে এলো

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীই সফল হয়েছে।

অন্যদিকে, ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৬৬৯টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। বিপরীতে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করেছে।

গত বছরের তুলনায় চিত্র বদলেছে

এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে দেশের ৯৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৩১৫টি।

অন্যদিকে, গত বছর শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। এবার এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১২টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি।

ফলে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে এবার একদিকে যেমন শতভাগ সাফল্য অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে, তেমনি কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।

সামগ্রিক পাসের হারও কমেছে

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এবার সামগ্রিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট। পাসের হার কমার প্রভাব প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও দেখা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জিপিএ-৫ পাওয়াও কমেছে

শুধু পাসের হার নয়, এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই কমতি দেখা যাওয়ায় এবারের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ফল জানছেন শিক্ষার্থীরা

ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, মোবাইল ফোনের এসএমএস এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। অনলাইনে ফল দেখতে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হচ্ছে।

এ ছাড়া এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জানাতে পারছে।

ফলে প্রকাশিত ফলাফলে কোনো পরীক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ