ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৫ মাস ছুটি জমা থাকলেও আছে শর্ত, ২৮ দিনের ছুটি নিয়ে বড় ভুল ধারণা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১১:০৪:৩৬
১৫ মাস ছুটি জমা থাকলেও আছে শর্ত, ২৮ দিনের ছুটি নিয়ে বড় ভুল ধারণা

সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক কর্মচারীর ছুটির হিসাবে অর্জিত ছুটি জমা থাকে। কারও ক্ষেত্রে এই জমার পরিমাণ কয়েক মাস, আবার কারও হিসাবে ১০ থেকে ১৫ মাস বা তারও বেশি ছুটি দেখা যেতে পারে। এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন—১৫ মাস অর্জিত ছুটি জমা থাকলে কি বছরে একাধিকবার ২৮ দিন করে ছুটি নেওয়া যায়?

বিধিবিধান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ছুটি জমা থাকলেই একজন সরকারি কর্মচারী নিজের ইচ্ছামতো ২৮ দিন করে বারবার ছুটি নিতে পারবেন—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। তবে ছুটির প্রকৃতি, কর্মচারীর প্রকৃত প্রাপ্যতা, দাপ্তরিক প্রয়োজন এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে একই বছরে একাধিকবার অর্জিত ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন ধরনের ছুটির আলাদা হিসাব ও বিধান রয়েছে। অর্জিত ছুটিও নির্দিষ্ট নিয়মে হিসাব হয় এবং তা ভোগের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি সেবা-সংক্রান্ত তথ্যেও অর্জিত ছুটি মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ছুটি প্রাপ্যতার প্রত্যয়ন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ, কোনো কর্মচারীর ছুটির হিসাবে ১৫ মাস জমা থাকলেও তিনি চাইলেই একবারে ২৮ দিন, এরপর আবার ২৮ দিন—এভাবে ছুটি ভোগ করতে পারবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ছুটি মঞ্জুরের সময় দাপ্তরিক কাজের স্বার্থ, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিকল্প দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা, ছুটির প্রাপ্যতা এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হতে পারে।

একজন কর্মচারী একবার ২৮ দিনের অর্জিত ছুটি ভোগ করার পর আবার ছুটির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে দ্বিতীয়বারের ছুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে না।

প্রতিবারই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ছুটির হিসাব ও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী আবেদন বিবেচনা করা হবে। কর্তৃপক্ষ দাপ্তরিক প্রয়োজনের কারণে ছুটি কমিয়ে দিতে, অন্য সময়ে নিতে বলতে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আবেদন অনুমোদন না-ও করতে পারে।

তাই বিষয়টি বোঝার সহজ সূত্র হলো—ছুটি জমা থাকা + ছুটি প্রাপ্যতা + বিধি অনুযায়ী আবেদন + কর্তৃপক্ষের অনুমোদন = ছুটি ভোগের সুযোগ।

এখানে ‘২৮ দিনের ছুটি’ কথাটিও পরিষ্কার করা জরুরি। ২৮ দিন বলতে সব ক্ষেত্রে একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত অর্জিত ছুটির মেয়াদ বোঝায় না। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় মোট ২৮ দিন সরকারি ছুটি নির্ধারিত হয়েছে—এটি জাতীয় সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারের হিসাব, কোনো কর্মচারীর অর্জিত ছুটির হিসাব নয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে অর্জিত ছুটি হলো কর্মচারীর চাকরির সময় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অর্জিত ব্যক্তিগত ছুটির প্রাপ্যতা। তাই সরকারি ছুটি ২৮ দিন হওয়া এবং কোনো কর্মচারীর ২৮ দিনের অর্জিত ছুটি নেওয়ার বিষয় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।

কোনো কর্মচারীর হিসাবে ‘১৫ মাস ছুটি’ দেখা গেলেই সেটিকে সরাসরি ১৫ মাসের পূর্ণ বেতনের অর্জিত ছুটি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সরকারি চাকরিতে ছুটির ধরন অনুযায়ী হিসাব ও প্রাপ্যতার নিয়ম আলাদা। সরকারি চাকরির প্রচলিত ছুটি বিধি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গড় বেতনে অর্জিত ছুটি এবং অর্ধ-গড় বেতনের ছুটির হিসাব পৃথকভাবে বিবেচিত হয়।

ফলে কোনো কর্মচারীর ছুটির হিসাবে ১৫ মাস দেখালে প্রথমে জানতে হবে সেটি কোন ধরনের ছুটি, কতটুকু পূর্ণ বেতনে এবং কতটুকু অর্ধ-গড় বেতনে প্রাপ্য। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর দপ্তরের প্রযোজ্য বিধি ও ছুটির হিসাবও দেখতে হবে।

অবসরকালীন পোস্ট-রিটায়ারমেন্ট লিভ বা পিআরএল নিয়েও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। পিআরএলের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক বছর হতে পারে বলেই প্রত্যেক কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১২ মাস পিআরএল পাবেন—এমন নয়।

পিআরএলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রকৃত ছুটি প্রাপ্যতা ও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী হিসাব করতে হয়। অর্থাৎ, অবসরের সময় যতটুকু ছুটি পাওয়ার অধিকার তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতেই পিআরএল নির্ধারিত হবে।

এ কারণে কারও ছুটির হিসাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্জিত ছুটি না থাকলে শুধু ‘পিআরএল সর্বোচ্চ এক বছর’—এই বিধানের ভিত্তিতে পুরো ১২ মাসের ছুটি দাবি করা যাবে না।

সরকারি চাকরিতে ছুটি কর্মচারীর একটি বিধিসম্মত প্রাপ্যতা হলেও তা দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়। কোনো কর্মচারী দীর্ঘ সময়ের ছুটির আবেদন করলে তার অনুপস্থিতিতে দাপ্তরিক কাজ কীভাবে চলবে, বিকল্প দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা আছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে অফিসের বিশেষ কাজ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে।

ফলে ১৫ মাস ছুটি জমা থাকা একজন কর্মচারী বছরে একাধিকবার ২৮ দিনের ছুটির আবেদন করতে পারলেও প্রতিটি আবেদন অনুমোদিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

১৫ মাস অর্জিত ছুটি জমা থাকলে একজন সরকারি কর্মচারী একই বছরে একাধিকবার অর্জিত ছুটির আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিবার ছুটি নেওয়ার জন্য ছুটির প্রকৃত প্রাপ্যতা, সংশ্লিষ্ট বিধি এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।

অতএব, ‘১৫ মাস ছুটি জমা থাকলে বছরে যতবার ইচ্ছা ২৮ দিনের ছুটি নেওয়া যাবে’—এমন নিয়ম নেই। আবার এমনও নয় যে একবার ২৮ দিনের ছুটি নেওয়ার পর একই বছরে আর কোনো অর্জিত ছুটি নেওয়ার সুযোগ নেই।

মূল বিষয় হলো কর্মচারীর ছুটির হিসাব কী বলছে, কোন ধরনের ছুটি প্রাপ্য, কতদিন ভোগ করা যাবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনটি অনুমোদন করছে কি না।

সুতরাং সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ছুটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের ছুটির হিসাব ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রযোজ্য বিধি যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ